এক মামলায় বাদি, আরেকটিতে আসামি বাবুল আক্তার

12

নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশের সাবেক এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু হত্যাকান্ডে দুটি মামলারই কার্যক্রম চলছে। একটিতে (প্রথম) বাবুল আক্তার বাদী ও অপরটিতে তিনি আসামি। এ মামলার তদন্ত শেষে গত ১২ মে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। একই দিন কয়েকজন সাক্ষীর তথ্যের ভিত্তিতে নগরীর পাঁচলাইশ থানায় নতুন মামলা করেন মিতুর বাবা। ওই মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বাবুল আক্তারকে।
এদিকে পিবিআইয়ের দাখিল করা চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ওপর গত ১৪ অক্টোবর বাদী হিসেবে নারাজির আবেদন করেন বাবুল আক্তার। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতে গতকাল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে বাবুল আক্তারের উপস্থিতিতে। নারাজির আবেদনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বিচারকের অনুমতি নিয়ে আসামির কাঠগড়ায় থেকে এ সময় আদালতে বক্তব্য রাখেন বাবুল আক্তার।
আদালত থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, বাবুল আক্তারের দায়ের করা মামলাটি প্রথমে নগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তিনজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তদন্ত করেছেন। পরে পিবিআই একজন পরিদর্শক মর্যাদার কর্মকর্তা দিয়ে মামলাটি তদন্ত করায়। তদন্তে ৫৩ জন সাক্ষী তাদের সাক্ষ্য প্রদান করেন। এদের মধ্যে ৫১ জন সাক্ষী হত্যাকান্ডে বাবুল আক্তারের সম্পৃক্ততার বিষয়ে কোনো তথ্য দেননি। মাত্র দুজনকে দিয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় সাক্ষী নেওয়ার মাধ্যমে বাবুল আক্তারকে দ্বিতীয় মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বাবুল আক্তার আরো জানান, আইন অনুযায়ী প্রথম মামলার তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিলের আগে মামলার বাদীকে জানাতে হয়। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিষয়টি বাদীকে অবহিত করেননি। উল্টো রিপোর্টে স্বাক্ষর করার জন্য আসতে বলে তাকে আটক করে রাখেন। দুদিন তাকে পিবিআই কার্যালয়ে আটকে রেখে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন।এরপর পিবিআইয়ের গাড়িতে করে মিতুর বাবাকে চট্টগ্রামে এনে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
তিনি দাবি করেন, আগের মামলায় তার বাবা-মা, মিতুর বাবা-মা ও খালাতো ভাইসহ নিকটাত্মীয় অনেকের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। যাদের মধ্যে অন্তত সাতজনের সাক্ষ্যগ্রহণের তথ্য কেস ডকেট থেকে নথি গায়েব করা হয়েছে। অথচ তাদের সাক্ষ্যগ্রহণের পর পুলিশ নিজেই গণমাধ্যমে বক্তব্য রেখেছে এবং দেশের বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়ায় বিষয়টি প্রচারিত হয়। এগুলোর কোনো তথ্যই এখন কেস ডকেটে নেই। এজন্য মামলার নথি পুলিশ থেকে জুডিশিয়াল হেফাজতে নিতে আদালতের কাছে আবেদন করা হয়েছে। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছেন। কিন্তু এর আগেই নথি সরানো হয়েছে বলে দাবি সাবেক এসপি বাবুল আক্তারের।