এক বছর ধরে বন্ধ কৈয়গ্রামের সেতু নির্মাণ কাজ

11

পটিয়া এক বছরের বেশি সময় ধরে কৈয়গ্রাম সেতুর কাজ বন্ধ রয়েছে। সেতুর পশ্চিম পাড়ে অধিগ্রহণকৃত জমির মালিকরা ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় এ জটিলতার প্রেক্ষিতে ঠিকাদার সেতুর কাজ বন্ধ করে দিয়ে চলে গেছে বলে জানা গেছে। উপজেলার জিরি ইউনিয়নে শিকলবাহা খালের উপর নির্মাাধীন কৈয়গ্রাম সেতুর কাজ ইতোমধ্যে এক বছর আগেই ৪৩ ভাগ সম্পন্ন করা হয়। সেতুর উভয় পাড়ের জায়গার হুকুম দখলের টাকা পরিশোধ না করায় স্থানীয়দের চাপে ঠিকাদার কাজ বন্ধ করে ফিরে গেছেন। তবে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণের টাকা দিতে শুরু করেছেন জেলা প্রশাসনের এলএ শাখা। এদিকে পূর্বের টেন্ডার বাতিল করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পুনরায় টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন বলে জানা গেছে। সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের এলএ শাখায় ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা এলজিইডি নির্দিষ্ট সময়ে হস্তান্তর করে। কিন্তু এলএ শাখার কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবহেলার কারণে ভূমি অধিগ্রহণের টাকা পরিশোধ হয়নি। এ কারণে ক্ষতিগ্রস্তরা তাদের দখলীয় ভূমি ঠিকাদারকে হস্তান্তর না করাসহ নানা জটিলতা দেখা দেয়। এ কারণে বৃহৎ এ সেতুর পূর্ব পাড়ে বেশকিছু কাজ হলেও পশ্চিম পাড়ের জায়গা ঠিকাদারকে হস্তান্তর না করায় প্রায় ১ বছর ধরে অধীক সময় ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে। সূত্রে আরো জানা যায়, উপজেলার শিকলবাহা খালে পাকিস্তান আমলে একটি স্টিল ব্রিজ ছিল। এ সেতুটি কৈয়গ্রাম সেতু হিসেবে পরিচিত। স্টিল ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়রা নৌকা দিয়ে চলাচল করতেন। বর্তমান সরকার উপজেলার জিরি ইউনিয়নের শিকলবাহা খালের উপর ২০১৭ সালে এলজিইডির অর্থায়নে ৩৯০ মিটারের একটি গার্ডার সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করে। সেতু নির্মান কাজের জন্য শুরুতে ৪১ কোটি ২৫ লাখ ৪২ হাজার ২৭৮ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স আল আমিন কনস্ট্রাকশন কোং লিমিটেডের এবং তাহের ব্রাদার্স লিমিটেড জেভি নির্মাণ কাজের কার্যাদেশ পান। সেতুর পূর্ব পাড়ে কাজের গতি থাকলেও ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতা নিয়ে ঠিকাদার খালের পশ্চিম পাড়ে কোন কাজ করতে পারেনি। ২০১৭ সালের ৩০ ডিসেম্বর পটিয়ার স্থানীয় সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। গার্ডার সেতুর জন্য ঠিকাদারকে প্রায় ১৪ কোটি টাকা বিল দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে অসমাপ্ত কাজের জন্য নতুন টেন্ডার প্রক্রিয়ায় আরো ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। জিরি এলজিইডির পটিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ দত্ত জানান, শীঘ্রই এ সেতুর কাজ শুরু হবে। সেতুর কাজ ইতোমধ্যে ৪৩ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। পূর্বের টেন্ডার বাতিল করে সম্প্রতি নতুনভাবে ৩০ কোটি টাকার টেন্ডার করা হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণের টাকা নির্দিষ্ট সময়ে এলজিইডি থেকে এলএ শাখায় হস্তান্তর করা হলেও কেন ক্ষতিগ্রস্তদের পরিশোধ করেনি তা জানি না। উপজেলার শিকলবাহা খালের উপর পিসি গার্ডার সেতুর বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যান্তরীন নৌ-পরিবহন (বিআইডাব্লিউটিএ) খালের ওয়াটার লেভেলের রির্পোট দেওয়ার পর এলজিইডির অর্থায়তনে সেতুটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার হয়।