একাকিত্ব বনাম নিঃসঙ্গতা

2

 

একাকিত্ব আর নিঃসঙ্গতা এই দুইয়ের মাঝে যে এক বিশালাকারের ফারাক রয়েছে তা অনেকেই বুঝতে পারেন না। নিঃসঙ্গতা শব্দটার মাঝে থাকে এক হাহাকার, যা আমাদের মাঝে জাগায় মনখারাপের অনুভূতি। কিন্ত একাকিত্ব সম্পূর্ণ আলাদা এক ভাব, অন্য এক মননশীল অনুভূতি, যার মাধ্যমে আমরা নিজের অস্তিত্বকে উপলব্ধি করতে শিখি।একাকি হতে গেলে নিঃসঙ্গতার মত ‘কেউ কোথাও নেই’ টাইপের বিষাদগ্রস্ত হতে হয় না, অনেকের ভিড়ে থেকেও চট করে একাকিত্বে পৌঁছে যাওয়া যায়। টানা কয়েক ঘণ্টা সাংসারিক কাজ শেষের পর যখন ক্লান্ত লাগে তখন মোবাইলে একা নিজের প্রিয় গানগুলো শোনার যে এক স্বর্গীয় অনুভূতি তার সাথে কি কিছুর তুলনা চলে? তখন যদি কোন কল আসে তখন মনটা কি বিরক্তিতে ভরে ওঠেনা? শান্ত, সৌম্য পাহাড়ের যে নৈসর্গিক আহবান, তা শুনতে বা সমুদ্রের যে বিশালতা,তা উপভোগ করতে আপনাকে একাকি হতেই হবে! একাকিত্ব ছাড়া কি সানসেটের মনোরম রূপটা উপলব্ধি করা যায়! পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া যে মিস্টি হাওয়াটুকু, তাকে স্পর্শ করতেও একাকি হওয়া লাগে। নিজের জীবনের শ্রেষ্ঠ ডিসিশনটা নিতেও চাই একাকিত্বের সহায়তা। এই যে আমরা প্রত্যেকটা মানুষ নিজের কাছে নিজেই একজন কবি সেখানেওতো ইচ্ছেখাতাটা ভরাতে আমাদের পাশে থাকে সেই একাকিত্বই। তাকে ছাড়া কি কখনো আয়নায় নিজেকে সব থেকে সুন্দর মানুষটা মনে করা যায়! বুঝিনা লোকজন কেন হোয়াটসআপ, ফেসবুক ইত্যাদিতে একাকিত্বকে উপভোগ না করে তাকে ‘feeling loney’ নামক এক অদ্ভুত উপমায় মুড়িয়ে দেয়।
আমার মতে, একাকিত্ব হলো মনের এক রাজকীয় অনুভূতি, একেবারে নিজস্ব এক সম্পদ যাকে ভালোবাসতে হয়। ভালোবাসতে জানতে হয়।