একদিনে মৃত্যু ১০১ জন সচেতনতা ছাড়া বিকল্প নেই

5

দেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর এক বছরের বেশি সময় পার হলো। করোনার ২য় ঢেউ শুরুর পর ১৭ এপ্রিল ২০২১ ২য় বারের মতো শতাধিক মৃত্যুর খবর থেকে বর্তমানে এ বৈশ্বিক মহামারির ভয়াবহতা সহজেই অনুমেয়। নতুন এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১০১ জনের মৃত্যুসহ দেশে এ পর্যন্ত ১০ হাজার ২৮৩ জনের মৃত্যু হলো। গত দুই দিন হতে মৃত্যুর হার ৯০ জনের বেশি ছিল। এর মধ্যে গত ৭ এপ্রিল রেকর্ড ৭ হাজার ৫২৬ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায় দেশে করোনা রোগীর সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলেছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, দ্বিতীয় দফা লকডাউন শুরু হলে দেখা যায় কর্মস্থলে যেসব মানুষ বিভিন্ন জেলায় অবস্থান করছিল তারা পড়িমরি বাড়ি ফিরেছে। যার কারণে লকডাউনের আসল উদ্দেশ্য মাঠে মারা গেছে। বিভিন্ন উৎসবে যেসব মানুষ নাড়ির টানে বাড়ি ফেরে তেমনিভাবে বিভিন্ন জেলা হতে বাড়ি ফেরা মানুষের কারণে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির সম্ভাবনা জাগিয়েছে বেশি।
সরকারি নির্দেশনায় যে যেখানে আছে, সেখানে থেকে লকডাউন পালন করার কথা ছিল। কিন্তু মানুষ তা না মেনে একস্থান হতে অন্যস্থানে গমনের কারণে করোনা পরিস্থিতিকে আরো ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে সাধারণ মানুষ। সরকার আন্তরিকভাবে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে না ব্যবস্থা নিচ্ছে। অথচ যাদের জন্য সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে তাদের উদাসীনতার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সরকারের পক্ষে কঠিন হয়ে উঠছে।
অন্যদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি থামছে না। যার কারণে নি¤œমধ্যবিত্ত ও স্বল্প আয়ের মানুষ ঘরে বসে লকডাউন পালন করতে পারছে না। তাদের ব্যস্ত’তা খেয়ে বাঁচার পক্ষে। স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা করছে না সাধারণ মানুষ। বিগত একবছর ধরে মধ্যবিত্ত, নি¤œমধ্যবিত্ত এবং স্বল্প আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ ভয়াবহ সংকটে দিন যাপন করছে। অথচ একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী করোনাকালীন ভয়াবহ সময়কে পুঁজি করে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হয়ে যাচ্ছে। দেশের সার্বিক মূল্যবোধ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মানুষের মধ্যে মানবিক বোধ বর্তমানে শূন্যের কোটায়। করোনা ভাইরাসকে পুঁজি করে যারা অমানবিক কাজে লিপ্ত তাদের বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নিতে সরকার ব্যর্থ হতে দেখা যাচ্ছে। ভোগ্যপণ্যের মূল্য অকারণে বৃদ্ধি করে অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট কার্য অবাধে চালিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে। কি হবে দেশ ও দেশের মানুষের ভবিষ্যৎ তা কেউ অনুমান করতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে দেশের সর্বস্তরের জনতাকে স্বাস্থ্য সচেতন হওয়া ছাড়া কোন বিকল্প নেই। লকডাউন দিয়ে কার্যকর কোন ফল আশা করা যাচ্ছে নাÑ এমন মন্তব্য সচেতন নাগরিক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। লকডাউন নয়, স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ সংক্রমণ রোধ করতে হবে সর্বস্তরের মানুষকে। যেহেতু মাসের পর মাস, বছরের পর বছর লকডাউন পরিস্থিতি চলমান থাকলে মানুষ করোনা থেকে রক্ষা পেলেও অর্ধাহারে মারা যাবে এতে কোন সন্দেহ নেই।
দেশের মানুষকে বুঝতে হবে মাস্ক পরে, শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে সবকিছু করতে হবে। আক্রান্তদের সচেতন হতে হবে আরো বেশি। আক্রান্ত ব্যক্তির কারণে যেন সুস্থ ব্যক্তিরা আক্রান্ত না হয় এ বিষয়ে আক্রান্তদের সচেতন হতে হবে। আর সুস্থরা নিজেদের সুস্থ অবস্থা ধরে রাখতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজকর্ম চালিয়ে গেলে নতুন করে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা কম। প্রকৃতপক্ষে স্বাস্থ্যবিধির ওপর গুরুত্ব দিয়ে জনজীবন ও দেশের অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে দেশের করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে সর্বস্তরের মানুষকে।