‘একজন কমলালেবুতে’ মুগ্ধ দর্শক

23

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট (টিআইসি) মিলনায়তনে কবি জীবনানন্দ দাশকে নিয়ে লেখা শাহাদুজ্জামানের ডকু-ফিকশন উপন্যাস ‘একজন কমলালেবু’ অবলম্বনে নির্মিত নাটক মঞ্চায়িত হয়েছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টিআইসি মিলনায়তনে দর্শকেরা মুগ্ধ হন এই নাটক দেখে।
নাটকের নামটাও মিলে গেছে উপন্যাসের সঙ্গে ‘একজন কমলালেবু’। এতে জীবনানন্দ দাশের সাহিত্যিক ও ব্যক্তিজীবনের জটিল পরিক্রমা ধরা দিয়েছে। মুকুল অ্যান্ড গেটো টাইগার্স দলের ব্যানারে নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভ‚ত ব্রিটিশ নাট্য নির্দেশক মুকুল আহমেদ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে লন্ডনে পেশাদার নাট্য নির্দেশনা দিয়ে আসছেন। বাংলাদেশ ও ভারতেও অনেক নাটক পরিচালনা করেছেন।
এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে লন্ডনের ব্রাডি আর্টস সেন্টারে নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। পরে চলতি বছরের ১৫ ডিসেম্বর কুমিল্লার কবি নজরুল ইনস্টিটিউটে এবং ১৭ ও ১৮ ডিসেম্বর ঢাকার দুটি স্থানে এই নাটকের মঞ্চায়ন হয়। প্রতিটি প্রদর্শনীতেই দর্শকের সাড়া ছিল চোখে পড়ার মতো।
নাটকে বাংলা সাহিত্যের প্রহেলিকাময় কবি জীবনানন্দ দাশের জীবনের নানা দিক ফুটে উঠেছে। এই কবিকে নতুন করে তুলে এনেছেন লেখক শাহাদুজ্জামান। উপন্যাসের সেসব ঘটনা দৃশ্যকল্পে তুলে ধরেছেন অভিনয়শিল্পীরা। নাটকে জীবনানন্দের ভ‚মিকায় অভিনয় করেছেন আতিক রহমান। এ ছাড়া ছিলেন ফারহানা আনন্দময়ী, সাহানা রহমান, চিন্ময়ী গুপ্তা। মঞ্চ ব্যবস্থাপনায় ছিলেন মুহাম্মদ ইমরান, মঞ্চসজ্জায় ক্রিস্টিয়ানা ম্যাসন।
নাট্যকার মুকুল আহমেদ বলেন, কবিতা নিয়ে জীবনানন্দের সংগ্রাম, পরিবারের নানা টানাপোড়েন, বিভিন্ন জায়গায় প্রত্যাখ্যান হওয়ার ঘটনা কম নয়। বলা চলে তার এক বিস্তৃত জীবন। এই জীবনের নানা দিক ধরতে চেয়েছেন শক্তিমান লেখক শাহাদুজ্জামান। আর নাটকেও এসব জটিলতা উঠে আসে।একজন ‘কমলালেবু’তে শাহাদুজ্জামান লিখেছেন, বরিশালের নদী, জোনাকি ছেড়ে মানুষটি (জীবনানন্দ দাশ) পা রেখেছিলেন সাপের মতো এলিয়ে থাকা কলকাতার ট্রামলাইনের ওপর। পৃথিবীর দিকে তিনি তাকিয়েছিলেন বিপন্ন বিস্ময়ে। সস্তা বোর্ডিংয়ে উপার্জনহীনভাবে দিনের পর দিন কুচো চিংড়ি খেয়ে থেকেছেন। তবু পশ্চিমের মেঘে দেখেছেন সোনার সিংহ। পিঁপড়ার মতো গুটি গুটি অক্ষরে হাজার হাজার পৃষ্ঠা ভরেছেন কবিতা, গল্প, উপন্যাস, ডায়েরি লিখে। সেগুলোর সামান্যই এনেছিলেন জনসমক্ষে।