একজনের সাজা ও জরিমানা

7

নিজস্ব প্রতিবেদক

সদরঘাট থানার একটি বাড়ি থেকে ১০টি তাজা গ্রেনেড উদ্ধারের ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করার মামলায় একজনকে সাজা ও জরিমানা করেছেন আদালতের বিচারক। সাজাপ্রাপ্ত ওই আসামির নাম মো. রকিবুল হাসান। পৃথক ধারায় সাড়ে ৫ বছরের কারাদন্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার সকালে সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল হালিম এই রায় দেন। মো. রকিবুল হাসান (২২) কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কোদালা কাটা সরকার বাড়ির মো. জসিম উদ্দিনের ছেলে। তার ছদ্মনাম সালাহ উদ্দিন আয়ুবী, আবু তাছিব আল বাঙালী ও হাসান।
আদালত থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, একটি নিখোঁজ ডায়েরির সূত্র ধরে নগর ডিবি পুলিশ আবদুল্লাহকে খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, সে নেত্রকোনার কমলাকান্দায় অবস্থান করছেন। পরে পুলিশ আবদুল্লাহর মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে অন্য কয়েকটি নম্বর পায়। সেই সূত্র ধরেই অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে কর্মকর্তারা কিছু সন্দেহভাজন ব্যক্তির তৎপরতা শনাক্ত করতে সক্ষম হন। ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি রাতে সদরঘাট থানার শুভপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি ভবনের পঞ্চম তলায় সন্দেহভাজন জঙ্গিদের অবস্থান নিশ্চিত করে কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। বাসায় তল্লাশি করে ১০টি তাজা গ্রেনেড, দুটি সুইসাইড ভেস্ট, দুটি মোবাইল ফোনসেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া দুটি হাতে আঁকা মানচিত্র পাওয়া গেছে, যার একটিতে সদরঘাট থানা এবং অন্যটিতে সদরঘাট থানার আশপাশের এলাকাসহ সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার তথ্য উল্লেখ রয়েছে। গ্রেপ্তার জঙ্গির বিরুদ্ধে সদরঘাট থানায় একটি মামলা করেছিলেন তৎকালীন নগর পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটের সদস্য পুলিশ পরিদর্শক রাজেস বড়ুয়া। এক আসামি ছোট হওয়ায় শিশু আইনে মামলাটি চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মনোরঞ্জন দাশ জানান, নগরীর সদরঘাটের একটি বাড়ি থেকে ১০টি তাজা গ্রেনেড উদ্ধারের মামলায় ৬ পুলিশ সদস্য ও ভবন মালিকসহ ৭ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। সন্ত্রাস দমন আইনের ৬ এর ২ ধারায় ৫ বছর ও ৮ ধারায় ৬ মাস কারাদন্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন। তিনি আরও বলেন, মামলার এজাহারে আনা অভিযোগ আদালতের সামনে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে রাষ্ট্রপক্ষ সক্ষম হওয়ায় বিচারক আসামিকে কারাদন্ড ও আর্থিক জরিমানা করেছেন।