একজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অন্যজনের বিষয়ে তাগাদা

16

নিজস্ব প্রতিবেদক

এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে মারাত্মক অসঙ্গতির ঘটনায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সিনিয়র সিস্টেম এনালিস্ট কিবরিয়া মাসুদ খানের বিরুদ্ধে বোর্ডের পক্ষ থেকে নেয়া বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অবহিতকরণ চিঠি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মুস্তফা কামরুল আখতার স্বাক্ষরিত এই চিঠি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় গত ২৫ জুলাই। চিঠিতে কিবরিয়া মাসুদ খানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।
তবে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা না নেয়ার বিষয়টিও মন্ত্রণালয়কে মনে করিয়ে দেয়া হয় চিঠিতে।
এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিবরিয়া মাসুদ খানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার পর অবহিত করার জন্য বোর্ডকে নির্দেশনা দিয়েছিল। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নারায়ণ চন্দ্র নাথের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার এখতিয়ার মন্ত্রণালয়ের।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ফলাফল প্রকাশে অসঙ্গতির বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির মতামত অনুযায়ী এর সম্পূর্ণ দায় নারায়ণ চন্দ্র নাথের উপর বর্তায়। ক্যাডার কর্মকর্তা হওয়ায় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত’।
প্রসঙ্গক্রমে, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল। ওই দিন দুপুরে ফল প্রকাশের পর চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের ওয়েবসাইটে পরীক্ষার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর প্রদর্শনে নানা অসঙ্গতি দেখা দেয়। পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বিষয়ে এমন হ-য-ব-র-ল অবস্থায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে বোর্ডের ভাবমূর্তিও। ফল প্রকাশের পরদিন (১৪ ফেব্রæয়ারি) থানায় জিডির পাশাপাশি এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে শিক্ষাবোর্ড। এ ঘটনায় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নারায়ণ চন্দ্র নাথের কাছে ব্যাখ্যা তলব করে শিক্ষাবোর্ড। চেয়ারম্যানের রুটিন দায়িত্বে থাকা শিক্ষাবোর্ডের সচিব প্রফেসর আবদুল আলীমের স্বাক্ষরে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত চিঠি ইস্যু করা হয়। পত্র প্রাপ্তির তিন কর্ম দিবসের মধ্যে এ সংক্রান্ত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয় পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে।
উল্লেখ্য, পরীক্ষা গ্রহণ, পরিচালনা, ফলাফল তৈরি ও প্রকাশের দায়িত্ব শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা শাখার। আর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এ শাখার প্রধান। এর আগেও ২০২০ সালের অটোপাশের জেএসসিতে বড় ধরণের অনিয়মের খবর বেরিয়ে এসেছিল। ফল প্রকাশের ৯ মাস পর নতুন করে রেজিস্ট্রেশন ও রোল নম্বর জেনারেট করে ৩৪ জন শিক্ষার্থীকে জেএসসি পাসের তালিকায় যুক্ত করা হয়। বোর্ডের পরীক্ষা শাখা ও বিদ্যালয় শাখার সরাসরি সম্পৃক্ততায় ওই অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে বলেও তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এই ঘটনায় দায়ীদের খুঁজে বের করতে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। নির্দিষ্ট একটি সময় সিসি ক্যামেরা বন্ধ পাওয়ার মতো তথ্যও আছে প্রতিবেদনে। দীর্ঘ তদন্তের পর জমা পড়া এই প্রতিবেদনে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশের বিষয়টি উল্লেখ করার মতো।
এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জমা হওয়ার তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে বোর্ডের সিনিয়র সিস্টেম এনালিস্ট কিবরিয়া মাসুদ খানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেয় মন্ত্রণালয়। গত ১৫ মার্চ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) খালেদা আখতার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে কিবরিয়া মাসুদ খানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় গ্রহণের বিষয়টিও মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার জন্য বলা হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে কিবরিয়া মাসুদ খানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয় চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড। সরকারি কর্মচারি বিধিমালা ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী কিবরিয়া মাসুদ খানের বেতন ১ জুলাই থেকে এক বছরের জন্য বিদ্যমান গ্রেডের নিম্নতম ধাপে অবনমিত করার প্রজ্ঞাপন জারি করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বোর্ডের সচিব প্রফেসর আবদুল আলীম।
এদিকে একই তদন্তে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নারায়ণ চন্দ্র নাথের অনিয়মের কথা উঠে আসলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা আবার তার কাছ থেকে ব্যাখ্যা চায়। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আলমগীর হুছাইন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ৩১ মার্চ এ ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও তার বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।