উপজেলায় কমিটি গঠন করছেন ডা. মহসিন!

29

এম এ হোসাইন

দক্ষিণ জেলা বিএনপির ইউনিট কমিটির বিরোধে জড়িয়ে ইতিমধ্যে বহিষ্কৃত আছেন জেলার তিন নেতা। চন্দনাইশ সংসদীয় এলাকার চারটি ইউনিট কমিটি নিয়ে নতুন করে সেখানে বিরোধের জন্ম দিয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির পরিবার কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক প্রফেসর ডা. মহসিন জিল্লুর করিম। কমিটি, পাল্টা কমিটির পর কমিটি পুনর্গঠন হয় চন্দনাইশ উপজেলা ও পৌরসভায়। এ দুই ইউনিটের সাথে দোহাজারী পৌরসভা ও উত্তর সাতকানিয়া ইউনিট যুক্ত করে মোট চার ইউনিটের কমিটি ঘোষণা দিয়েছেন মহসিন জিল্লুর করিম।
যদিও জেলা বিএনপি ঘোষিত কমিটি বিদ্যমান রয়েছে চন্দনাইশ উপজেলা, পৌরসভা ও দোহাজারী পৌরসভায়। তাছাড়া সাংগঠনিকভাবে মহসিন জিল্লুর করিম কমিটি ঘোষণা করার এখতিয়ার রাখেন না দাবি জেলার নেতাদের।
বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী জেলা আওতাধীন কমিটি গঠনের এখতিয়ার জেলা কমিটিরই। কেনো কেন্দ্রীয় নেতার তার এলাকায় কমিটি দেওয়ার নজির নেই। ডা. মহসিন জিল্লুর করিমের এমন কর্মকান্ডে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
গতকাল শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দক্ষিণ জেলা বিএনপির আওতাধীন চন্দনাইশ উপজেলা ও পৌরসভা, দোহাজারী পৌরসভা ও উত্তর সাতকানিয়া সাংগঠনিক ইউনিটের ১১ সদস্যের আহবায়ক কমিটি প্রচার পায়। নিজের প্যাডে কমিটিগুলোর অনুমোদন দিয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির পরিবার কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক প্রফেসর ডা. মহসিন জিল্লুর করিম। চার ইউনিটের কমিটি ঘোষণা দেখে হতবাক দক্ষিণ জেলার নেতারাও। ইউনিটগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি।এ বিষয়ে কথা হলে দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক আবু সুফিয়ান বলেন, প্রফেসর ডা. মহসিন জিল্লুর করিম একজন জ্ঞানি, বিজ্ঞ মানুষ। তার এমনটা করার কথা না। কোন অশুভ শক্তি গোপনে এমনটা করতে পারে। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি।
২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে দক্ষিণ জেলা বিএনপি ৯টি ইউনিটের কমিটি ঘোষণা করে। এরমধ্যে চন্দনাইশ উপজেলা ও পৌরসভা ইউনিট ছিলো। ঘোষিত আংশিক কমিটির মধ্যে চন্দনাইশ উপজেলায় নুরুল আলম চেয়ারম্যানকে আহবায়ক ও সালাউদ্দিন চৌধুরীকে সদস্য সচিব করা হয়।
চন্দনাইশ পৌরসভা ইউনিটের মধ্যে সিরাজুল ইসলাম সওদাগরকে আহবায়ক এবং মাহবুবুর রহমান চৌধুরীকে সদস্য সচিব করা হয়। কয়েকদিন না যেতেই দক্ষিণ জেলা বিএনপির একাংশের নেতারা পাল্টা কমিটি ঘোষণা করেন। পাল্টা কমিটিতে চন্দনাইশ উপজেলায় সালাউদ্দীন চৌধুরীকে আহবায়ক ও শাহানাজ বেগমকে সদস্য সচিব করা হয়। চন্দনাইশ পৌরসভায় সিরাজুল ইসলাম সওদাগরকে আহবায়ক ও মোরশেদুল আলম মিন্টুকে সদস্য সচিব করা হয়। পাল্টা কমিটি নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে জেলার তিন নেতাকে বহিষ্কার করে কেন্দ্র। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে কমিটি পুনর্গঠন করে চন্দনাইশ উপজেলায় মো. নুরুল আনোয়ার চৌধুরীকে আহবায়ক এবং আ ক ম মোজাম্মেল হককে সদস্য সচিব করে ১৯ সদস্যের কমিটি এবং চন্দনাইশ পৌরসভায় মো. মাহমুদুর রহমান মাহমুদুকে আহবায়ক এবং মাহবুবুল আলম চৌধুরীকে সদস্য সচিব করে ২৯ সদস্যের কমিটি অনুমোদন করে জেলা বিএনপি।
একই বছরের মার্চে দোহাজারী পৌরসভায় আলহাজ নূর মোহাম্মদকে আহবায়ক ও টপ টেন মো. কামাল উদ্দিনকে সদস্য সচিব করে ২০ সদস্যের কমিটি অনুমোদন করা হয়। বছর ঘুরে না আসতেই এ তিন ইউনিটের সাথে উত্তর সাতকানিয়া যুক্ত করে মহসিন জিল্লুর করিম অনুমোদিত কমিটি প্রকাশ পেয়েছে। জেলা বিএনপির বাইরে গিয়ে এমন কমিটি ঘোষণার মাধ্যমে দক্ষিণের বিরোধ আবার জনসম্মুখে আসে।
দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তাক আহমেদ খান বলেন, জেলার আওতাধীন ইউনিটগুলো শুধুমাত্র জেলা কমিটি অনুমোদন করতে পারেন। এভাবে নিজের প্যাডে কমিটি অনুমোদনের কোন এখতিয়ার তার নেই। আমরা ডা. মহসিনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।
ডা. মহসিন জিল্লুর করিম অনুমোদন করা চার ইউনিট কমিটিগুলোর মধ্যে চন্দনাইশ উপজেলা বিএনপির কমিটির আহবায়ক সালাউদ্দিন চৌধুরী, সি. যুগ্ম আহবায়ক এড. আমিনুল ইসলাম চৌধুরী, যুগ্ম আহবায়ক পদে খায়ের আহম্মদ, শাহনাজ বেগম, অঞ্জন প্রসাদ ধর, মাহাবুব, সদস্য সচিব পদে মোরশেদুল আলম চৌধুরী, সদস্য পদে ইস্কান্দর মির্জা, রিয়াজ রহমান, মেজবাহ উদ্দিন ও আমির হোসেন।
চন্দনাইশ পৌরসভার মধ্যে মাহাবুবুর রহমান চৌধুরীকে আহবায়ক, সি. যুগ্ম আহবায়ক পদে ওরশেদুল আলম চৌধুরী মিন্টু, যুগ্ম আহবায়ক পদে মো. শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, মো. হারুন চৌধুরী, আবদুল আজিম, দুলাল ধর, সদস্য সচিব পদে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সদস্য পদে আবদুল হাকিম হাফেজ, মো. লিয়াকত আলী, মো. সেলিম ও আহমেদুর রহমান।
দোহাজারী পৌরসভায় আহবায়ক পদে মো. বাবু খাঁন, সি. যুগ্ম আহবায়ক পদে মো. ওবাইদুর রহমান বাহাদুর, যুগ্ম আহবায়ক পদে শহিদুল ইসলাম, আব্দুল রহিম, মো. ইলিয়াছ, মো. আমির হোসেন, সদস্য সচিব পদে, মো. ইউনুছ রানা, সদস্য পদে জামাল খান, মোহাম্মদ নাছির, দানু মিয়া ও তাপস কান্তি দাস।
উত্তর সাতকানিয়া মো. আবুল হোসেনকে আহবায়ক, আবু সুফিয়ান চৌধুরী মাহাতাবকে সি. যুগ্ম আহবায়ক করা হয়। যুগ্ম আহবায়ক পদে কুতুব উদ্দিন শাহ আলম, গাজী মোহাম্মদ ফোরকান, জসিম উদ্দিন, বেলাল উদ্দিন, সদস্য সচিব পদে আক্কাস উদ্দিন, সদস্য পদে আবদুস সালাম, আবু বোরহান চৌধুরী জাহাঙ্গীর, মোস্তাফিজুর রহমান সিকদার ও সোলাইমান বাবুল।
এ বিষয়ে কথা বলতে একাধিক সময়ে প্রফেসর ডা. মহসিন জিল্লুর করিমের ফোনে চেষ্টা করে যোগাযোগ করা সম্ভব হলেও তিনি রোগী দেখার ব্যস্থতায় কথা বলতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।
সূত্র মতে, চন্দনাইশ আসনে দলীয় মনোনয়ন লাভের আশ্বাস পেয়ে ২০১১ সালের ৫ ফেব্রæয়ারি বিএনপিতে যোগ দেন ডা. মহসিন জিল্লুর রহমান। ঢাকায় গুলশান কার্যালয়ে ফুল দেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার হাতে। এরপর ২০১৩ সাল পর্যন্ত চন্দনাইশে বিএনপির সভা-সমাবেশে সক্রিয় ছিলেন। তবে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর থেকে তিনি দলীয় কর্মসূচিতে তার দেখা মিলেনি। দলীয় কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলার পর মামলা হলেও মহসিন জিল্লুরের বিরুদ্ধে চন্দনাইশ থানায় বা শহরে কোন মামলাও নেই বলে জানা গেছে।