উন্নত দেশ গঠনে প্রয়োজন পুষ্টিসমৃদ্ধ জাতি

7

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ও উপ-পরিচালক ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেছেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার এক পঞ্চমাংশ শিশু ও কিশোর-কিশোরী। তাদের মধ্যে অসচেতনতার কারণে অনেকে অপুষ্টি ও রক্তশূন্যতায় ভূগছে। আগামী ২০৩০ সালে এসডিজি অর্জন ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে শিশু ও কিশোর-কিশোরীদেরকে পুষ্টিসমৃদ্ধ জাতি গঠন অত্যন্ত জরুরি। গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আয়োজিত জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সারাদেশে পুষ্টিসেবা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জেলা সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে পুষ্টি কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পুষ্টির ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের অনুমোদিত স্কুল, মাদ্রাসা ও এতিমখানাগুলোতে পুষ্টি কার্যক্রম বেগবান করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সকলের আন্তরিকতা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সারাদেশে পুষ্টিসেবা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সম্ভব। জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘সঠিক পুষ্টিতে সুস্থ জীবন’। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বাস্তবায়নে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
সভাপতির বক্তব্যে সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বলেন, সুস্থ সবল জাতি গঠনে পুষ্টিকর খাবারের কোন বিকল্প নেই। অপুষ্টি একটি জাতীয় সমস্যা। তা সমাধানের পথ খুঁজে বের করা সকলের দায়িত্ব। সঠিক পুষ্টিতে সুস্থ জীবন, খাদ্যের কথা ভাবলে পুষ্টির কথাও ভাবতে হবে। কিশোর-কিশোরী ও গর্ভবতী মহিলাদের জন্য পুষ্টিকর খাবার অত্যন্ত প্রয়োজন। নতুবা জন্মের পর শিশু অপুষ্টিতে ভুগে বিকলাঙ্গসহ নানা রোগে আক্রান্ত হতে পারে। জন্মের পর পর শিশুকে প্রথম ৬ মাস মায়ের দুধ ছাড়া অন্য কোন বিকল্প খাবার দেয়া যাবে না। এরপর ২ বছর পর্যন্ত মায়ের দুধের পাশাপাশি নিরাপদ, সুষম ও ঘরে রান্না করা পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। তাহলে শিশু ভবিষ্যতে সুস্থ ও মেধাবী হবে। এসডিজির গোল অর্জনসহ কিশোর-কিশোরীদেরকে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ে সচেতন করতে সরকার সারাদেশে একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সর্বত্র ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রাখতে হবে।
জেলা স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক সুজন বড়ুয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মুহাম্মদ ফরিদুল আলম হোসাইনী, কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক আবু কাউসার মো. সারোয়ার, জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. গোলাম মোস্তফা জামাল, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মো. সেলিম উদ্দিন ও জেলা নিরাপদ খাদ্য আিফসার নাজমুুস সুলতানা সীমা। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এমওডিসি ডা. মোহাম্মদ নুরুল হায়দার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এমওসিএস ডা. মোহাম্মদ ওয়াজেদ চৌধুরী অভি। অনুষ্ঠানে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, গার্লস গাইড ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।