উদ্বোধনের অপেক্ষায় বঙ্গবন্ধু টানেল

22

 

আর মাত্র একদিন পর স্বপ্নের টানেল উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। ইতিহাসের বাঁকে দাঁড়িয়ে থাকা কর্ণফুলীর তলদেশে নির্মিত এ টানেলের নামকরণ করা হয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে। বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন সংযোজন হওয়া এ স্থাপনার নাম বাংলাদেশের ইতিহাস নির্মাতার নামে নামকরণটা ছিল যথার্থ। এ টানেলটি শুধু বাংলাদেশে প্রথম এবং সর্ববৃহৎ নয় বরং এটি দক্ষিণ এশিয়ায় প্রথম। সঙ্গতকারণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল নিয়ে আগ্রহ বিশ্ববাসীর। আগামীকাল বিশ্বের অর্ধেক মানুষের চোখ থাকবে বাংলাদেশে প্রাচীন শহর চট্টগ্রামের কর্ণফুলীর তীরে যেখানে ইতিহাসের ফলক লাগাবেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামীকাল শনিবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী এ টানেল উদ্বোধন করবেন। এরপর তিনি আনোয়ারা কেইপিজেড মাঠে জনসভায় ভাষণ দিবেন। পরের দিন এ টানেল গাড়ি চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে।
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব টানেলটির উদ্বোধন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। এছাড়া টানলে উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে চট্টগ্রামে বাস্তবায়িত আরো উনিশটি প্রকল্প উদ্বোধন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আমরা জানি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে এক নির্বাচনী প্রচরণায় চট্টগ্রামে এসে কর্ণফুলীর তলদেশে টানেল নির্মাণের প্রতিশ্রæতি দিয়ে যান। সেই সময় তাঁর এ প্রতিশ্রæ্রতিকে অনেকে কল্পনার স্বপ্ন বলে অবহিত করে তেমন কেউ আমলে না আনলেও তিনি অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখাতে কতটুকু পারদর্শী তা আরেকবার দেখিয়ে দিলেন এ টানেল নির্মাণের মাধ্যমে। এর আগে স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণ করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নানা ষড়যন্ত্র ও প্রতিকূলতার মধ্যেও পদ্মা সেতু নির্মাণ করে বিশ্ববাসীর প্রশংসা কোড়ানো বাংলার স্বপ্নধাত্রী শেখ হাসিনা আরেকটি কল্পনা ও স্বপ্নকে দৃশ্যমানে নিয়ে আসলেন। ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়-এমনটি বচনের বাস্তবতা এখানেই। শাবাশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শাবাশ বাংলাদেশ।
বঙ্গবন্ধু টানেল উদ্বোধনের জন্য শেখ হাসিনা চট্টগ্রামে আসছেন-এতেই চট্টগ্রামে নতুনপ্রাণের সঞ্চার হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে চট্টগ্রামবাসী অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছে । বৃহস্পতিবার দৈনিক পূর্বদেশে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, শহর-গ্রামে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে চলছে মাইকিং। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নিয়মিত তৃণমূলে সভা করে জনসভায় বিপুল সংখ্যক লোক সমাগম ঘটানোর তৎপরতা চলছে। এ উপলক্ষে নবরূপে সাজছে চট্টগ্রাম। কর্ণফুলী নদীর দুই প্রান্তে (পতেঙ্গা-চাতরি চৌমুহনী-শিকলবাহা ক্রসিং পর্যন্ত) সড়কের আশপাশের এলাকা রঙে রঙিন হচ্ছে। সড়কের বিভাজনে রঙের প্রলেপ লাগছে। সড়কের দুই পাশে লাগানো হয়েছে ব্যানার-বিলবোর্ড ও তোরণ।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৯টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তরের প্রস্তুতি চলছে। সেই সাথে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এম. রেজাউল করিম চৌধুরীর আন্তরিকতায় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর ভার্টিক্যাল ম্যুরাল এরও উদ্বোধন করা হবে বলে সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে জনসভা ঘিরে বাড়তি নিরাপত্তা নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। টানেলকে কেন্দ্র করে আনোয়ারা অংশে আয়োজিত জনসভায় সাড়ে ৯ লাখ বর্গফুটের মাঠে নির্মাণ করা হয়েছে নৌকার আদলে সাত হাজার বর্গফুটের বড় মঞ্চ। এই মঞ্চে একসাথে ৩০০ নেতা বসতে পারবে। মঞ্চ ও মঞ্চের সামনে প্যান্ডেল তৈরির কাজও প্রায় শেষ হয়েছে। আগামীকাল যখন চট্টগ্রামবাসী উচ্ছ¡াস ও আনন্দে ভাসবে তখন ঢাকার রাজপথ নির্বাচনকালীন সরকার ইস্যুতে আন্দোলনে উত্থাল চলবে। বিএনপি তাদের মিত্রদের নিয়ে আওয়ামী লীগ চৌদ্দ দলকে নিয়ে মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে। এ অবস্থায় দেশের মানুষ একটি স্বপ্নীল রঙ্গিন ফানুস দেখার অপেক্ষার মধ্যেও অস্বস্তিতে রয়েছে-আদৌ কী হতে যাচ্ছে দেশে। আমরা আশা করি, যত গর্জনই হোক, অবশেষে সকলেই শান্তির স্বস্তি ফেলবে। আজকের এ দিনটি অশান্তির নয়, হোক উচ্ছ¡াস ও আনন্দের-এমনটি প্রত্যাশা দেশবাসীর।