উদার ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা

9

 

আমরা এখন এক কঠিন সময় অতিক্রম করছি।আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমরা সবসময় এই কঠিন সময় অতিক্রম করি ধর্মকে কেন্দ্র করে। অথচ সকল ধর্মের মূল শিক্ষা একটাই। আর তাহলো এক স্রষ্টার উপাসনা করো। সৃষ্টির সেবা করো। পবিত্র বেদ -এ আছে, হেমানবজাতি! তোমরা সম্মিলিতভাবে মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত হও। পারস্পরিক মমতা ও শুভেচ্ছা নিয়ে একত্রে পরিশ্রম করো। জীবনের আনন্দেসম-অংশীদার হও। [অথর্ববেদ-৩.৩০.৭] পবিত্র শ্রীমদ্ভাগবদ গীতায় আছে, উচ্ছৃঙ্খল মন উপলব্ধি বা সমর্পণ কিছুই করতে পারেনা। সমর্পণ ছাড়া শান্তি নাই। [সংখ্যযোগ : ৬৬] মহামতি বুদ্ধের ধম্মপদ এ আছে, শত্রুতা দ্বারা কখনো শত্রুতা বিনাশ করা যায়না। মিত্রতা দ্বারাই শত্রুতার নিরসন হয়। [যমকবগগো : ৫] পবিত্র বাইবেলে আছে, যখন কেউ তোমার সাথে অন্যায় আচরণ করে, তুমি তাদের ক্ষমা করে দাও। সদা প্রভুও তোমাকে ক্ষমা করবেন। [মথি৬ : ১৪] মহা পবিত্র গ্রন্থ আল কোরআনে আছে, কেউ ভালো কাজে উদ্ধুদ্ধ বা সহযোগিতা করলে সে কল্যাণের ভাগী হবে, আর যে মন্দকাজে প্ররোচিত বা সহযোগিতা করবে, সে শাস্তির অংশীদার হবে। [সূরা : ৮৫] পবিত্র হাদিস শরীফে আছে, শুদ্ধচার শিক্ষাদান সন্তানের জন্যে পিতার শ্রেষ্ঠ উপহার। [তিরমিজী] মহানবী (সা.) মানুষের মনে গেঁথে দিয়েছেন মানবিকতার বীজ। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন প্রিয় নবীজি (সা.)কে প্রেরণ করেছেন সমগ্র বিশ্ব তথা মানবজাতির জন্য রহমত হিসেবে। যিনি প্রতি বিষয় আমাদেরকে শিক্ষা নেওয়ার জন্য নিজে করে দেখিয়ে দিয়েছেন। উদার ধর্মীয়বোধের সবচেয়ে বড় উদাহরণ মদিনাসনদ। তিনি আল্লাহর হাবিব, চাইলেই পারতেন শুধুমাত্র মুসলমানদের নিয়ে মদিনা সনদ প্রণয়ন করতে। কিন্তু সকল মানুষের অধিকারকে সুসংহত করার জন্য দিয়েছেন ‘মদিনা সনদ’। এমনকি সেই সময় যেসব গোত্রগুলোর মধ্যে সবসময় দ্ব›দ্ব, সংঘাত লেগে থাকতো তিনি তাদেরকেও ঐক্যবদ্ধ করে ছিলেন শান্তির বাণী ও ভালোবাসা দিয়ে। শিশুকাল থেকে উদার ধর্মীয়বোধের চর্চায় পারে অনেকাংশে সহনশীল ও মানবিক মানুষ তৈরি করতে। যেমন সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া, অন্যের দেবতাকে কখনো গালি কিংবা ভাংচুর না করা, অন্য ধর্মের আচার-অনুষ্ঠান সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য না করা, যেকোনো ধর্মের উপাসনালয় বা ইবাদত খানাকে সম্মানের দৃষ্টিতে দেখা, নিজের ধর্মপালনের পাশাপাশি অন্যদেরও তাদের ধর্মপালনের সুযোগ করে দেয়া ইত্যাদি। উদার ও সহনশীলতার প্রথম পাঠ কিন্তু দিতে হবে পরিবার থেকে তারপর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। আমাদের একটা কথা মনে রাখতে হবে আমরা অভিভাবক ও শিক্ষকরা যেভাবে শিশু কিশোর যুবকদের শিক্ষাদান করবো আমাদের সমাজে তেমনটাই প্রতিফলিত হবে।