উঠানামাতেই বাড়তি ভাড়া!

22

মনিরুল ইসলাম মুন্না

ডিজেলচালিত বাসে উঠানামা ১০ টাকা হলেও ছোট মিনিবাস ও টেম্পুতে ৮ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। কিন্তু নগরীতে চলাচলরত ছোট বাস ও টেম্পুগুলো সে নির্দেশনা মানছে না। সরকারি নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ১০ থেকে ১২ টাকা ভাড়া আদায় করছে এসব যানবাহন। এমনই অভিযোগ যাত্রীদের।
ভুক্তভোগীরা জানান, বছর না ঘুরতেই আবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষ বেকায়দায় পড়লেও এতে লাভবান হচ্ছে একশ্রেণির অসাধু বাস মালিক এবং শ্রমিক সিন্ডিকেট। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়েছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তদের ওপর।
যাত্রীদের অভিযোগ, নগরে গণপরিবহনে বর্ধিত ভাড়া আদায় নিয়ে চলছে নৈরাজ্য। মানা হচ্ছে না সরকারি নির্দেশনা। ডিজেলে চলে অজুহাত দেখিয়ে সিএনজিচালিত বাসেও আদায় করা হচ্ছে বর্ধিত ভাড়া। এ কারণে হেলপার ও যাত্রীদের মধ্যে অহরহ চলছে বাকবিতন্ডা। এমনকি হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে কয়েক জায়গায়। মিনিবাস ও টেম্পুতে সর্বনি¤œ ভাড়া ৮ টাকা হলেও উঠানামায় ১০ টাকা নিয়ে নিচ্ছে।
বিআরটিএ’র পক্ষ থেকে জানানো হয়, দূরপাল্লার বাসে ভাড়া ১ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ৪০ পয়সা বাড়িয়ে প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ২০ পয়সা করা হয়েছে। এছাড়াও চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৩৫ পয়সা বাড়িয়ে ২ টাকা ৫০ পয়সা করা হয়েছে। যা আগে ২ টাকা ১৫ পয়সা ছিল। অর্থাৎ দূরপাল্লার বাসে ভাড়া বেড়েছে ২২ শতাংশ। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে ১৬ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এছাড়াও সরকার নির্ধারিত দূরপাল্লার সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা এবং মিনিবাসে সর্বনিম্ন ভাড়া ৮ টাকাই রাখা হয়েছে। তবে এসবের কোনো তোয়াক্কা করছে না মিনিবাস ও টেম্পু চালক-মালিকরা।
সরেজমিনে মুরাদপুর এলাকায় অবস্থানকালে দেখা গেছে, ১৫ নং রুটের টেম্পুগুলো মুরাদপুর, চকবাজার হয়ে কোতোয়ালী পর্যন্ত চলাচল করে। কোনো যাত্রী মুরাদপুর থেকে টেম্পুতে উঠে পাঁচলাইশ মোড়ে নামলে তাকে দশ টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে। অথচ মুরাদপুর থেকে পাঁচলাইশের দূরত্ব ৫০০ মিটারেরও কম। সর্বনিম্ন ভাড়া ৮ টাকা নেয়ার কথা। মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, নিউ মার্কেট, ষোলশহর, বড়পোল, দেওয়ানহাট রুটসহ প্রায় সকল রুটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় হচ্ছে। যাত্রীরা কিছু বললেই বাকবিতন্ডা লেগে যায়।
৭নং লাইনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোছাইন বর্ধিত ভাড়া আদায়ের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, কিছু চালক-হেলপার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে। আমি ৮ টাকা নিতে বললেও তারা তা শুনছে না। এছাড়াও অন্যরুটের কিছু গাড়িও এ রুটে ঢুকে পড়ে। সেসব গাড়ির বিরুদ্ধে পুলিশ বা প্রশাসন ব্যবস্থা নিলে আমাদের আপত্তি থাকবে না।
তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় সম্পর্কে জানেন না ৩নং রুটের সাধারণ সম্পাদক এবং চট্টগ্রাম জেলা অটোরিকশা অটোটেম্পু শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. শফি। তিনি বলেন, এখানে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় হয় কি না, তা জানি না। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মিনিবাসের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। প্রতিটি রুটের সর্বনি¤œ নির্ধারিত ভাড়া ৮ টাকা হলেও এখানে উঠানামা ১০ থেকে ১২ টাকা আদায় করছে। এক কথায় যাত্রীদেরকে জিম্মি করে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।
টেম্পু-মিনিবাস চালকরা জানান, তেলের দামের পাশাপাশি রাস্তায় ওয়েবিলও বেড়ে গেছে। ১০০ টাকা ওয়েবিলের স্থলে এখন ১৫০ টাকা আদায় করছে। এসব টাকা তো নিজের পকেট থেকে দিতে পারব না। যাত্রীদের কাছ থেকে দু-একটাকা বাড়িয়ে নিয়ে তা পুষিয়ে নিচ্ছি।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি বেলায়েত হোসেন বেলাল বলেন, এক তরফা চালক-হেলপারদের দোষ দিলে ভুল হবে। বিআরটিএ ভাড়ার চার্ট তৈরি করার আগে যাত্রীরা ১০ টাকা করে প্রদান করেছে। তাই হেলপাররাও ১০ টাকা করে আদায় করছে। মিনিবাসের তদারকির ক্ষেত্রে রাস্তায় লোক দেয়া হয়েছে। তারা পর্যবেক্ষণ করার পর অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে ওই পরিবহনের মালিক-চালকের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে বিআরটিএ’র পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত আছে। প্রতিদিন দুইটি ভ্রাম্যমাণ আদালত এ অভিযান পরিচালনা করছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার মুক্তার পূর্বদেশকে বলেন, কাগজপত্র ঠিক না থাকা, লাইসেন্সবিহীন গাড়ি চালানো এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে নগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে। এতে জরিমানার পাশাপাশি সতর্ক করে দেয়া হচ্ছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।