ঈদের পর কঠোর বিধিনিষেধ পোশাক রপ্তানিতে অনিশ্চয়তা

48

ফারুক আবদুল্লাহ

ঈদের পর দুই সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে পোশাক কারখানা বন্ধ থাকলে রপ্তানির জন্য ইতিমধ্যে প্রস্তুতকৃত পোশাক ক্রেতার নির্ধারিত লিড টাইমের মধ্যে জাহাজীকরণ করা সম্ভব হবে না। এর ফলে রপ্তানি আদেশ বাতিল ও স্থগিত হবে। এর আগে গত ২০ সালের মার্চ মাসে থেকে পোশাক শিল্প কারখানা ২৬ দিন বন্ধ রাখায় প্রায় ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি ক্রয়াদেশ বাতিল ও স্থগিত হয়। এবারও একই পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছেন শিল্প মালিকরা। এতে জাতীয় অর্থনীতিতে নৈতিবাচক প্রভাব পড়বে। বর্তমানে আমেরিকা ও ইউরোপে করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। এসব দেশ থেকে আগামী বসন্ত ও গ্রীষ্ম মৌসুমে প্রচুর রপ্তানি আদেশ পাচ্ছে দেশের পোশাক শিল্প। চাহিদা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে বেড়েছে পোশাক বিক্রিও। এর ফলে যে কোনো মূল্যে দ্রুত পণ্য ডেলিভারি দেওয়া প্রয়োজন। এ সময়ে দেশের শিল্প কারখানা বন্ধ রাখা হলে চলমান রপ্তানি আদেশ যথাসময়ে জাহাজীকরণে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে। এতে ভবিষ্যতের অর্ডারগুলো গ্রহণ করা সম্ভব হবে না। আর নতুন রপ্তানি আদেশ অন্যদেশে স্থানান্তরের সম্ভাবনা দেখা দিবে। কারণ রপ্তানি বাণিজ্যে বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, ভারত, চীন ও মিয়ানমার কারখানা খোলা রেখে উৎপাদন চালু রেখেছে।
বন্দর ও পোশাক শিল্প খাতের উদ্যোক্তরা জানান, চট্টগ্রাম বন্দরে দৈনিক গড়ে ৪ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার টিইউইউস আমদানি পণ্য চালানের কন্টেইনার জাহাজ থেকে খালাস করা হয় এবং গড়ে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টিইউইউস রপ্তানি চালানের কন্টেইনার জাহাজীকরণ করা হয়। আমদানি পণ্য চালান ডেলিভারি নেওয়া সম্ভব না হলে ১৪ দিনে ৫০ হাজার থেকে প্রায় ৫৫ হাজার টিইউইউস কন্টেইনার বন্দর জেটিতে মারাত্মক জটের সৃষ্টি করবে। এ কারণে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষও চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। বর্তমানে বন্দর জেটিতে কন্টেইনার রাখার ধারণ ক্ষমতা ৪৯ হাজার টিইউইউস।
বিজিএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, ঈদ-উল-আজহার পরে ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত লকডাউনের মধ্যে ১৪ দিন পোশাক কারখানা সমূহ বন্ধ রাখা হলে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য চালান ডেলিভারি নেওয়া সম্ভব হবে না। বন্দরে কন্টেইনার সংরক্ষণের ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত হয়ে হ্যান্ডলিং কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে। এর ফলে বহির্নোঙরে জাহাজের অবস্থান বৃদ্ধি পেয়ে কন্টেইনার ও জাহাজজটের সৃষ্টি হবে। এতে বিদেশি ক্রেতাদের নিকট বাংলাদেশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণœ হবে। এছাড়াও সময়মত পণ্য চালান খালাস ও রপ্তানি করতে না পারলে রপ্তানি আদেশ বাতিল, নতুন অর্ডার প্রাপ্তিতে চরম অনিশ্চয়তায় পড়বেন শিল্প মালিকরা। এতে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে মারাত্মক বিপর্যয় সৃষ্টি হবে। যা জাতীয় অর্থনীতিতে নৈতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তিনি বলেন, আমরা এখনও আশাবাদী, বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য তথা তৈরি পোশাক শিল্পকে বিপর্যয় থেকে রক্ষার জন্য শিল্পবান্ধব প্রধানমন্ত্রী পূর্বের ন্যায় লকডাউনের মধ্যেও কঠোর স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন শর্তে পোশাক শিল্প কারখানা খোলা রাখাসহ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আমদানিকৃত পণ্য চালান খালাস ও রপ্তানির জন্য অনুমতি প্রদান করবেন।
বিকেএমইএ’র সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ঈদ পরবর্তী পোশাক কারখানা দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকলে শিল্প মালিকরা দেউলিয়া হয়ে যাবেন। কারণ চলমান মহামারিতে তারা বিভিন্নভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার পর আবার ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ এসেছে। এই সময়ে প্রচুর ক্রয়াদেশ আসছে। আগের চেয়ে দামও ভালো। এখন যদি কারখানা বন্ধ রাখা হয় সবকিছুই চরম হুমকির মুখে পড়বে।