ঈদুল ফিতর : দর্শন ও শিক্ষা

27

অধ্যক্ষ মুহাম্মদ বদিউল আলম রিজভি

ঈদ শব্দটি ‘আউদুন’ থেকে উদ্ভূত, আওদুন অর্থ ফিরে আসা, পুনঃপুনঃ আসা। ঈদ অর্থ খুশী, আনন্দ আমোদ, উৎসব ইত্যাদি। মুসলমানদের জাতীয় জীবনে খুশী ও আনন্দের সওগাত নিয়ে ঈদ বারবার আসে। ঈদুল ফিতর অর্থ হলো, উপবাস ভঙ্গকরণের আনন্দ। সুদীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের নির্দেশ পালনার্থে এ দিনটিতে রোযা ভঙ্গ করে ঈদগাহে বা মসজিদে সমবেত হয়ে মহানন্দে যে দু’রাকাত নামাজ আদায় করে তা ঈদুল ফিতরের নামাজ। এ নামাজের অন্যতম বৈশিষ্ট্য এতে আজান ও ইকামত নেই। প্রত্যেক জাতির আনন্দ উৎসবের দিন রয়েছে মুসলমানদের আনন্দ উৎসবের দু’টি দিনের মধ্যে ঈদুল ফিতর এক অনন্য মর্যাদায় ঐতিহ্যমÐিত। হাদীস শরীফে এরশাদ হয়েছে- নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন, প্রত্যেক জাতির আনন্দ উৎসবের দিন রয়েছে। আর এ দিনটি আমাদের ঈদ। (বোখারী ও মুসলিম)
ঈদুল ফিতর উদযাপনে চাঁদ দেখার গুরুত্ব প্রসঙ্গ : আল্লাহ তা’য়ালা এরশাদ করেছেন, আপনার নিকট তারা জিজ্ঞেস করে নতুন চাঁদের বিষয়ে, বলুন! এটি মানুষের জন্য সময় নির্ধারণ ও এবং হজ্জের সময় ঠিক করার মাধ্যম। (সূরা: বাকারা: আয়াত: ১৮৯)
ইসলামে চন্দ্র দর্শনের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। চাঁদ ইসলামের প্রতীক ও অন্যতম নিদর্শন। ইসলামী বর্ষ, মাস ও তারিখের হিসাব জানার অবলম্বন চাঁদ। চন্দ্র মাসের হিসাবই ইসলামে নির্ধারিত ও প্রতিষ্ঠিত। মুসলিম সমাজ জীবনে গুরুত্বপূর্ণসব ইবাদত রোজা, হজ¦, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা, মহররম, আশুরা, শবে বরাত, শবে কদর, শবে মিরাজ, ফাতেহায়ে ইয়াজদাহুম, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামসহ অসংখ্য ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ দিবস পালন, উদযাপন চাঁদ দেখার উপর নির্ভরশীল। সুতরাং “রুইয়াতে-হেলাল” তথা নতুন চাঁদ দেখার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা এবং তদানুযায়ী ইসলামী দিবসসমূহ উদযাপনের গুরুত্ব অপরিহার্য।
হাদীসের আলোকে চাঁদ দেখার গুরুত্ব : প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অসংখ্য হাদীস শরীফ দ্বারা চাঁদ দেখে রোজা রাখা ও ঈদ করার নির্দেশ বর্নিত হয়েছে। প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আবু হুরায়রা রাদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, “তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখ এবং চাঁদ দেখে রোজা সমাপ্ত কর (ঈদ কর)। তোমাদের উপর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হলে শাবান মাসের দিন সংখ্যা ত্রিশ দিন পূর্ণ কর।(বোখারী শরীফ)
চাঁদ দেখার বিষয়টিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চর্ম চোখে দেখার সাথে সম্পর্কযুক্ত করেছেন। হাদীসের ভাষ্য বিবরণী দ্বারা প্রতীয়মান হচ্ছে রোজা রাখা ও ঈদ পালন করার ক্ষেত্রে স্বচক্ষে চাঁদ প্রত্যক্ষ করতে হবে। হাদীসে উল্লেখিত “রুয়াত” শব্দটি স্বচক্ষে প্রত্যক্ষ করার অর্থে ব্যবহৃত হয়। এ কারণেই মুজতাহিদ ফক্বীহগণের বর্ণনা মতে স্বচক্ষে চাঁদ দেখা ব্যতীত চাঁদের দর্শন প্রমাণ করা শরীয়তের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়। হযরত ইবনে ওমর (রা:)’র বর্ণিত হাদীস শরীফেও এ প্রসঙ্গে এক অভিন্ন নির্দেশনা রয়েছে। তিনি বলেন, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের আলোচনা করছিলেন, বললেন যতক্ষণ না তোমরা নতুন চাঁদ দেখবে ততক্ষণ রোজা রাখবেনা। যতক্ষণ না তোমরা নতুন চাঁদ দেখবে ততক্ষণ ইফতার করবে না (ঈদ কর না) আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হলে মাসের গণনা করে নেবে। (বোখারী শরীফ)
রোজার বিধান ও ঈদের বিধান নির্দেশিত হওয়ার পর থেকে রাসূলুল্লাহর নির্দেশনা অনুসরনে পৃথিবীর দেশে দেশে নিজ নিজ দেশের চাঁদ দেখানুযায়ী রোজা ও ঈদ পালিত হয়ে আসছে। হাজার বৎসর ধরে বিশে^র ওলামা মাশায়েখ এ কর্মপন্থা ও চিন্তাধারা লালন করে আসছে। আমাদের দেশের সময়ের সাথে পৃথিবীর অনেক দেশের সময়ের যে ব্যবধান রয়েছে তার গুরুত্ব ও বাস্তবতা বিবেচনা করে এ বিধান অনুসৃত হয়ে আসছে। ভৌগলিক কারণে চাঁদ উদয়ের প্রথম দিনে পৃথিবীর সব দেশে একই সাথে চাঁদ দেখা না যাওয়ার বিষয়টি একটি বাস্তব সত্য। এ কারনেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ থেকে অদ্যাবধি একই দিন রোজা পালন ও ঈদ উদযাপনের বিষয়টি যৌক্তিকতা পায়নি।
মাসব্যাপী সিয়াম সমাপ্তির শোকরিয়া দিবস ঈদুল ফিতর : ঈদুল ফিতর হচ্ছে মূলত দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনা ও তারাবীহ সমাপ্তির শোকরিয়া তথা আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এক মহিমান্বিত দিবস। ঈদুল ফিতরের শিক্ষা ও তাৎপর্য প্রসঙ্গে আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন, “ যাতে তোমরা যেন রোজার সংখ্যা পূরণ করো এবং তোমাদের হেদায়ত দান করার দরুণ আল্লাহ তা’য়ালা মহত্ত¡ বর্ণনা কর যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। (সূরা আল বাক্বারা, আয়াত: ১৮৫)
আয়াতের ব্যাখ্যায় প্রখ্যাত তাফসীরকার হাকীমূল উম্মত মুফতি আহমদ ইয়ার খান নঈমী (র.) কর্তৃক “নুরুল ইরফানে” বর্ণিত হয়েছে ঈদের দিবসে আল্লাহর মহানত্ব প্রকাশে তাকবীর বলা, ইবাদতে মনোযোগী হওয়া, শরীয়ত সম্মত আনন্দ উদযাপন করা, আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের বহি:প্রকাশ। এ কৃতজ্ঞতা রমজান মাস বিদায়ের কারণে নয় বরং রমজান মাসে সিয়াম সাধনা, কুরআন তিলাওয়াত, ইবাদত বন্দেগী, তারাবীহ, তাহাজ্জুদ, হালাল উপার্জন দ্বারা সেহেরী ইফতারী, দান-সাদকা ইত্যাদি করতে পারার কারণেই।
তাকবীর বলা সুন্নাত : ঈদুল ফিতরের দিবসে আল্লাহর গুণগান প্রশংসা ও মহানত্ব প্রকাশের স্মারক তাকবীর পাঠ করা প্রিয় নবী সুন্নাত ঘোষণা করেছেন। “ আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা-ই-লাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়া-লিল্লা-হিল হামদ।
ঈদের নামাজ : হাদীস শরীফে এরশাদ হয়েছে যে,হযরত জাবের ইবনে সামুরা রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম’র সাথে একবার নয় দুইবার নয় (অনেকবার) দুই ঈদে সালাত আদায় করেছি, আজান ও ইক্বামত ছাড়া। (মুসলিম)
এ নামাজের আরো অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো খুতবার আগে এ নামাজ আদায় করা হয়। হাদীস শরীফে এরশাদ হয়েছে-হযরত ইবনে ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম, হযরত আবু বকর ও হযরত ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু তা‘আলা আনহুমা দুই ঈদের সালাত খুতবার পূর্বে আদায় করতেন। (বুখারী ও মুসলিম)
ঈদের দিন মুসলিম মিল্লাতের জন্য সার্বজনীন আনন্দ ও উৎসবের দিন। পরস্পর ভ্রাতৃত্ব ভালবাসার প্রীতি ও সৌহার্দ্যরে এক অনুপম দৃষ্টান্ত প্রদর্শনের অপূর্ব সম্মিলন ঈদুল ফিতর। এ দিন মুসলিম সমাজে বিভিন্নভাবে খুশী ও আনন্দের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। নতুন সুন্দর জামা কাপড় পরিধানে বন্ধু-বান্ধব, আপনজন, আত্মীয়-স্বজন, পরিবার-পরিজন ও ঘনিষ্ঠজনদের মাঝে পোশাক পরিচ্ছদ ও উপহারসামগ্রী বিতরণ বৈচিত্র্যময় উন্নতমানের খাবার পরিবেশন, সন্তানদের জন্য খেলাধুলা ও আনন্দ বিনোদন ও উপহার বন্টনে উৎসব মুখর পরিবেশে নিজে আনন্দিত হওয়া ও অন্যজনকে আনন্দ দেয়া ইসলামের এক অনুপম শিক্ষা। ইসলাম পরস্পর হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে ধনী-নির্ধন, আমীর- ফকিরের শুভেচ্ছা বিনিময়ের যে অনন্য সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে, তা পৃথিবীর অন্যকোন ধর্মে পরিদৃষ্ট হয়না। ঈদুল ফিতরের নামাজের গুরুত্ব বর্ণনাতীত। ঈদ আসে সীমাহীন ভালোবাসা ও কল্যাণের সওগাত নিয়ে। সেই ঈদকে যথার্থ মর্যাদায় উদ্যাপন করা, ঈদের পবিত্রতা রক্ষা করা, ঈদের নামাজ যথাযথভাবে আদায় করা, প্রত্যেক মুসলমানদের অবশ্য কর্তব্য। এ দিবসের আরো অসংখ্য ফজিলত হাদীস শরীফে এরশাদ হয়েছে, যেমন-হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ্ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিনে রাস্তা পরিবর্তন করতেন। অর্থাৎ গমনের সময় এক রাস্তা এবং প্রত্যাবর্তনের সময় ভিন্ন রাস্তা হয়ে আসতেন। (বুখারী)
রাস্তা পরিবর্তনের তাৎপর্য ব্যাখ্যায় মুহাদ্দিসীন কেরাম বলেছেন, যেন উভয় রাস্তার বরকত অর্জিত হয়। উভয়দিকের বাসিন্দাদের সঙ্গে যেন মতবিনিময়ের সুযোগ হয়। উভয় রাস্তা দিয়ে আসা যাওয়াতে ফকির মিসকিন, অনাথ, নিঃস্ব-অসহায়, বঞ্চিতরা যেন দান-সাদকা, সাহায্য, সহযোগিতা লাভে ধন্য হয়। যাতায়াত পথে নিকটাত্মীয়দের কবরস্থান থাকলে তাও জিয়ারত করা যায়। উভয় রাস্তা যেন আমাদের ঈমান, নামাজ, ইবাদত, দান-সাদকা ইত্যাদির সাক্ষ্য হয়ে যায়।
শুভেচ্ছা বিনিময় :
ঈদের দিন মুসলমানদের পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় ইসলামের প্রাচীনতম ঐতিহ্য। এ প্রসঙ্গে হাদীস শরীফে এরশাদ হয়েছে- তাবিয়ী হযরত জুবায়র ইবনে নুফায়র রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ ঈদের দিনে সাক্ষাৎ হলে একে অপরকে বলতেন আল্লাহ্ আমাদের ও আপনাদেরকে কবুল করুন।
বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় ঈদ :
কুরআন সুন্নাহর শাশ্বত বিধানকে যারা গ্রহণ করেছে, তাদের জন্য প্রকৃত ঈদের আনন্দ। আজকের সমাজ ব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে মুসলমান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় জাতীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতরের সার্বিক চিত্র আমাদের স্মৃতিপটে উদ্ভাসিত হলে দুঃখ, লজ্জা ও হতাশায় হৃদয় ভারাক্রান্ত হয়ে উঠে। সমাজের বৃহত্তর মুসলিম জনগোষ্ঠী রমজান শেষ হতে না হতেই রমজানের প্রকৃত শিক্ষা ও তাৎপর্য বেমালুম ভুলে গিয়ে ঈদের আনন্দ উৎসব উদ্যাপনের নামে এমন কিছুতে লিপ্ত হয়। যার সাথে ঈদের তাৎপর্যের দূরতম সম্পর্কও নেই। বেহায়াপনা, অনৈতিক, অসামাজিক কার্যকলাপের যে করুণ চিত্র সর্বত্র ভেসে উঠে মুসলিম জাতি হিসেবে তা নিতান্তই লজ্জাকর।
ইসলামী শরীয়তে পবিত্র চেতনা সমৃদ্ধ আনন্দ উৎসবে বাধা নেই। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর মুসলমানদের জন্য ঈদুল ফিতরের আনন্দ উপহার স্বরূপ। রুচিসম্মত শালীন পবিত্র ও উত্তমপন্থায় আনন্দ ফুর্তি ইসলামে অনুমোদিত। তবে ঈদের আনন্দের নামে নগ্নতা, অশ্লীলতা, কুরুচিপূর্ণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আপত্তিকর সাজসজ্জা, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, যুবক যুবতীদের লাগামহীন উম্মাদনা কোনোভাবেই ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের খুশী আনন্দ ইসলাম কোনভাবেই সমর্থন করে না। এবার কিন্তু বিশ^ব্যাপী করোনা মহামারী আক্রান্তের ভয়াবহতায় সমাজ চিত্রে কিছুটা ব্যতিক্রম হওয়ার আশা করা যায়।বিজাতীয় সংস্কৃতির আগ্রাসনে মুসলিম ছেলে মেয়েদের ভবিষ্যত জীবন আজ হুমকির সম্মুখীন। অপসংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণে আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি আদর্শ ও ঐতিহ্য আজ বিলুপ্তির পথে, এ পাশবিক প্রবৃত্তি অবদমিত করে মানবিকতা জাগ্রত করতে পারলেই প্রকৃত ঈদের আনন্দ প্রতিষ্ঠিত হবে।
ত্যাগের উৎসব ঈদ : ইসলামের ত্যাগের উৎসব আজ ভোগের উৎসবেই পরিণত হয়েছে। তাই ঈদুল ফিতরের খোতবায় ঈদের প্রকৃত শিক্ষা ও তাৎপর্য বিঘোষিত হয়েছে। এরশাদ হয়েছে- যে শুধু পানাহার করে তার জন্য ঈদ নয়। ঈদ তাদের জন্য যারা নিষ্ঠাপূর্ণভাবে আমল করতে পেরেছে, যে নতুন জামা কাপড় দ্বারা সুসজ্জিত হয়েছে, তার জন্য ঈদ নয়, বরং ঈদ তাদের জন্য যারা পরকালীন আল্লাহর শাস্তির দিনকে ভয় করতে পেরেছে। ঈদ তাদের জন্য নয় যারা বেশি বেশি সুগন্ধি ব্যবহার করেছে বরং ঈদ তাদের জন্য যারা নিজেদের গুনাহ্ থেকে তাওবা করেছে। সর্বোপরি সমাজের অসহায় মানুষের প্রতি ত্যাগের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে অভাবী মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।
মুমীনের ঈদ : হযরত আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এরশাদ করেন, ১. যে দিন মুমীনের জীবন গুনাহ্ থেকে মুক্ত হবে, সেদিনটি হবে তার জন্য ঈদের দিন। ২. মুমীন যেদিন ঈমান সহকারে পরকালের সফর শুরু করবে, সেদিন হবে মুমীনের প্রকৃত ঈদের দিন। (ফকীহ্ আবুল লাইস, আনোয়ারুল বয়ান ৩য় খন্ড, পৃ. ১০২)
আমীরুল মুমীনীন এর ঈদ উদযাপন : আমীরুল মুমীনীন হযরত ওমর ফারুক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু ঈদের দিনে নিজ পুত্র হযরত আবদুল্লাহকে পুরাতন কাপড় পরিহিত অবস্থায় দেখে কেঁদে দিলেন, পুত্র বললেন, আব্বাজান আপনি কেন কাঁদছেন? হযরত ফারুকে আজম বললেন, আজকের ঈদের দিনে অন্যান্য ছেলেরা যখন তোমাকে পুরাতন ছেঁড়া কাপড় দেখবে তখন তোমার অন্তর ভেঙ্গে যাবে। ছেলে জবাব দিলেন, অন্তর তো তারই ভেঙ্গে পড়বে যে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারেনি, যে পিতামাতার অবাধ্য হয়েছে, আমি তো আশা রাখি আপনার সন্তুষ্টির নিমিত্তে আমার আল্লাহও আমার উপর সন্তুষ্ট। এ কথা শুনে হযরত ফারুকে আজম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু কেঁদে দিলেন, স্বীয় পুত্রকে জড়িয়ে আলিঙ্গন করলেন এবং তাঁর জন্য দুআ করলেন। (মোকাশেফাতুল কুলুব, পৃ. ৭১০)
তাই আসুন ভোগ নয় ত্যাগই হোক আমাদের প্রত্যয়। করোনা ভাইরাসের এ ক্রান্তিকালে বিপন্ন মানবতার কল্যাণে উৎসর্গীত হোক আমাদের ঈদের আনন্দ।
মহান আল্লাহ ঈদের প্রকৃত শিক্ষা অনুধাবন করার তাওফিক দিন। আমীন।

লেখক : অধ্যক্ষ, মাদরাসা-এ তৈয়্যবিয়া ইসলামিয়া সুন্নিয়া
ফাযিল (ডিগ্রী) খতীব, কদম মোবারক শাহী জামে মসজিদ