ঈদগাঁও’র পাহাড়ি এলাকায় অপহরণকারীদের আনাগোনা

44

কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁওর পাহাড়ি এলাকায় অপহরণচক্রের আনাগোনা বেড়েই চলছে। এতে করে স্থানীয়দের চরম আতংক বিরাজ করছে। গত রবিবার সন্ধ্যায় ইউনিয়নের কালিরছড়া অফিসপাড়া ব্রিজ নামক স্থানে বেশ ক’জন অপহরণকারীকে দেখতে পায় বলে জানান স্থানীয় ইউপি সদস্য মাহমুদুল হাসান মিনার। তিনি জানান ইউনিয়নের কালিরছড়া, ভূতিয়াপাড়া পাহাড়ি এলাকায় সা¤প্রতিক সময়ে এসব চক্রের আনাগোনা ও দৌরাত্ম বৃদ্ধি পাওয়ায় এলাকার নারী পুরুষের মাঝে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে। এসব এলাকার কর্মজীবী লোকজন দিনের বেলায় স্বাভাবিক চলাফেরা করলেও সন্ধ্যা পার হলেই আতংকিত হয়ে পড়ে। মেম্বার মিনার আরো জানায় গত ৬ জানুয়ারি দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে অফিসের মোরার পূর্ব পাশে অপহরণকারী চক্রের অবস্থানের টের পেয়ে ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই দেবাশীষ সরকারের নেতৃত্বে পুলিশদল উক্ত স্থানে হানা দেয়। পরে দুই রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে তাদের ছত্রভংগ করে।
জানা গেছে, গত ৫ জানুয়ারি রাত ১১ টার দিকে ঈদগাঁও পূর্ব ভূতিয়ারপাড়া মসজিদের পার্শ্ববর্তী স্থানে ৬/৭ জন অপহরণকারীচক্রের টহলের সময় স্থানীয় লোকজন দেখতে পায়। বিষয়টি স্থানীয়রা কালিরছড়া বাজারের লোক জনদেরকে অবগত করা হলে তাৎক্ষণিক বাজারস্থ জামে মসজিদসহ বেশ কয়েকটি মসজিদের মাইকে এলাকার লোকজনকে সতর্ক করা হয়। পরবর্তীতে অপহরণকারীরা মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে। স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার কামাল উদ্দিন জানায়, ইউনিয়নের ভূতিয়ার পাড়ায় এদিন রাত ৮ টায় অপহরণকারীরা অবস্থান নেয়। তাদের অবস্থানের খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় মসজিদের মাইকে সতর্ক করার পর তারা সরে পড়েন। তিনি আরো জানান, তারা রাতের বেলায় পাড়া মহল্লায় হানা দিচ্ছে প্রায় সময়। সন্ধ্যা নামলে অপহরণ এবং মুক্তিপণ আতংকে থাকেন গ্রামের লোকজন। কমিউনিটি পুলিশ সাধারণ সম্পাদক কাইয়ুম উদ্দিন ডিসেন্ট জানায়, কালিরছড়া ও ভূতিয়ার পাড়ার পাহাড়ি এলাকাতে অপহরণ চক্রের আনাগোনা সম্প্রতি বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি এলাকায় পুলিশি তৎপরতা জোরালো করার দাবী জানান। ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র আইসি আসাদুজ্জামান জানান, অপহরণকারীদের কাছ থেকে গ্রামের মানুষদেরকে রক্ষায় সাধারণ লোকজনের সাথে রয়েছে কমিউনিটি পুলিশ। এছাড়া এসব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল অভিযান জোরদার করা হয়েছে।