ইয়াবা কারবারে আলীশান জীবন রোহিঙ্গা দম্পতির

23

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার পশ্চিম শহীদনগরের জানে আলম টাওয়ারের পাঁচতলার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে রোহিঙ্গা দম্পতিসহ ৩ মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা উত্তর বিভাগ।
গতকাল বুধবার ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা উত্তর বিভাগ) মুহাম্মদ আলী হোসেন।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানে আলম টাওয়ারের ৫০২ নম্বর ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে নুর আলম, হাছিনা বেগম ও হাছিনা বেগম মুন্নিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের ফ্ল্যাট থেকে বিভিন্ন ফার্নিচারের নিচে বিশেষ কৌশলে লুকায়িত অবস্থায় ৪ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা, ইয়াবা বিক্রির নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবই, মাদক কারবারের টাকায় কেনা ১০টি স্বর্ণের চুড়ি, ৬টি স্বর্ণের আংটিসহ বিভিন্ন ধরনের স্বর্ণের জিনিস জব্দ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, আটক নূর আলম ও তার স্ত্রী হাছিনা বেগম মিয়ানমারের নাগরিক। নূর আলমের বাবা-মা ও ভাই-বোন বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাস করছে। তারা মিয়ানমার থেকে অনেক দিন আগেই বাংলাদেশে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশ করেন। এরপর দীর্ঘ দিন ধরে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন স্থানে বসবাসের আড়ালে ইয়াবার কারবার চালিয়ে আসছেন।
পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, রোহিঙ্গা হলেও নূর আলম ও তার স্ত্রী হাছিনা বেগম মিথ্যা তথ্য দিয়ে বাংলাদেশের এনআইডি কার্ড ও জন্মনিবন্ধন তৈরি করে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। ইয়াবা বিক্রির মাধ্যমে অবৈধ অর্থ আয় করে স্বর্ণালংকার, বিলাসবহুল মোবাইল সেট ও চট্টগ্রাম শহরে সম্পত্তি কিনেছেন। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে নগরের বায়েজিদ বোস্তামি থানায় একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে নগরীর আকবরশাহ এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই হাজার ইয়াবাসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নগরীর আকবরশাহ থানার পাক্কার মাথা এলাকা থেকে হেলাল উদ্দিন (২২) নামের এ যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।
গতকাল বুধবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত হেলাল উদ্দিন মিরসরাই থানার সৈয়দ আলীর বাড়ির খোরশেদ আলমের ছেলে।
চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা (পশ্চিম-বন্দর) পুলিশের উপ-কমিশনার মুহাম্মদ আলী হোসেন বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আকবরশাহ থানার পাক্কার মাথা থেকে ২ হাজার ইয়াবাসহ এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আকবরশাহ থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। আসামিকে আদালতে চালান করা হয়েছে।
এছাড়া লোহাগাড়ার চুনতিতে ৪ হাজার ২৫০ পিস ইয়াবাসহ আমিনুল ইসলাম (৩৬) নামে এক পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গতকাল বুধবার ভোরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার আমিনুল ইসলাম দিনাজপুর জেলা সদর থানার পুলহাট আউলিয়া পুর মসজিদ সংলগ্ন এলাকার মোজাম্মেল হকের পুত্র। এসময় ইয়াবা পাচারকাজে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়।
লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আতিকুর রহমান জানান, প্রাইভেটকারে ইয়াবা পাচার সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে আজ (বুধবার) সকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।