ইসলামে বিবাহের গুরুত্ব পদ্ধতি ও নীতিমালা

38

 

একজন পুরুষ ও একজন নারী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে যখন একসঙ্গে জীবনযাপন করতে শুরু করে, তখনই একটি পরিবারের ভিত্তি স্থাপিত হয়। এ সম্মিলিত ভালবাসাপূর্ণ সামগ্রিক জীবনকেই বলা হয় ‘দাম্পত্য জীবন’। বিয়ে ও দাম্পত্য জীবন মানবপ্রকৃতির এক স্বভাবসম্মত বিধান। এ চিরন্তন ও শাশ্বত ব্যবস্থা কার্যকর হয়ে আছে বিশ্ব প্রকৃতির সর্ব ক্ষেত্রে, প্রতিটি জীব ও বস্তুর মধ্যে। তাইতো আল্লাহ তা‘আলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন ‘প্রত্যেকটি জিনিসকেই আমি জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি।’ [সূরা ৫১ যারিয়াত: ৪৯]
মানুষের পরিবার ও পারিবারিক জীবন হচ্ছে সমাজ জীবনের ভিত্তি প্রস্তর। বিয়ে ছাড়া অন্য কোন পন্থায় পরিবার ও পারিবারিক জীবন গড়ে উঠতে পারে না। পৃথিবীর প্রথম মানব হযরত আদম আলাইহিস সালাম ও প্রথম মানবী হযরত হাওয়া আলাইহাস সালামকে কেন্দ্র করে মানব জাতির প্রথম পরিবার গড়ে উঠেছিল জান্নাতে। এই প্রথম পরিবারের সদস্যদ্বয়কে লক্ষ্য করেই মহান আল্লাহ এরশাদ করেন, ‘হে আদম, তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে একত্রে বসবাস কর এবং যেখান থেকে মন চায় তোমরা দু’জনে অবাধে পানাহার কর। কিন্তু এই বৃক্ষের নিকটবর্তী হবে না; তাহলে তোমরা নিজেদের উপর যুলুমকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।’ [সূরা বাকারা: ৩৫]
বিয়ে নারীদের জন্য একটি স্বপ্ন আর পুরুষদের জন্য একটি দায়িত্ব। বিয়ে হলো সেই রীতি-নীতি বা প্রথা ও চুক্তি, যার মধ্য দিয়ে সমাজ একজন পুরুষকে একজন নারীর সাথে অতি ঘনিষ্ঠভাবে বসবাস, সুখ-দু:খ ও হাসি-কান্না, দৈহিক চাহিদা ভাগাভাগি করে নিতে দেয় এবং সন্তানদের উত্তরাধিকারের স্বীকৃতি প্রদান করে। বিয়ের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রী’র মধ্যে এক মধুর সম্পর্ক সৃষ্টি হয়, যার কারণে তারা একই ছাদের নিচে জীবনের বাকী সময়টা পার করে দিতে পারে।
তাই মানবতার ধর্ম ইসলাম নারী পুরুষদের মধ্যে সুন্দর ও পুতঃপবিত্র জীবন-যাপনের জন্য বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার ব্যবস্থা করেছে। বল্গাহীন, স্বেচ্ছাচারী জীবনের উচ্ছৃঙ্খলতা ও নোংরামির অভিশাপ থেকে সুরক্ষা করতেই ইসলাম বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার জোর তাগিদ প্রদান করেছে। কেননা নারী-পুরুষের পবিত্রতা ও সতীত্ব রক্ষার মোক্ষম ও বাস্তব সম্মত হাতিয়ার হল এ বিবাহ ব্যবস্থা। মানবজীবনে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার ন্যায় জৈবিক চাহিদাও গুরুত্বপূর্ণ। এই চাহিদা পূরণের জন্য ইসলাম বিবাহের বিধান দিয়েছে।
মানব জীবন প্রণালী পরিবর্তনের সাথে সাথে বিবাহের নিয়মেও পরিবর্তন ঘটেছে। অবশেষে শেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু তাআ’লা আলাইহি ওয়া সাল্লাম জাহেলী যুগের সকল কুসংস্কার দূর করে নারীদেরকে বিবাহের মাধ্যমে মর্যাদা দান করেছেন। কিন্তু কালের বিবর্তনে বাংলাদেশের মুসলমানগণ বিবাহের ইসলামী পদ্ধতি ভুলে অনেকটা বিধর্মীদের রসম-রেওয়াজের সাথে মিশে গেছে।
ইসলামে বিবাহের গুরুত্ব : ইসলামে নারী-পুরুষের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপন, বসবাস ও জৈবিক চাহিদা পূরণের একমাত্র পন্থা হিসাবে বিবাহের প্রচলন করা হয়েছে। এজন্য প্রত্যেক অভিভাবককে তাদের অধীনস্থদের বিবাহের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়ে আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা স্বামীহীন তাদের বিবাহ সম্পাদন কর এবং তোমাদের দাস-দাসীদের মধ্যে যারা সৎ তাদেরও। যদি তারা দরিদ্র হয়, তবে আল্লাহ তাদেরকে স্বীয় অনুগ্রহে সম্পদশালী করে দেবেন। নিশ্চয় আল্লাহ প্রাচুর্যদাতা মহাজ্ঞানী। (নূর ২৪/৩২)।
বিবাহ দৃষ্টি সংযত রাখে: বিবাহের মাধ্যমে মানুষ তার দৃষ্টিকে সংযত করে যৌনাঙ্গের পবিত্রতা রক্ষার মাধ্যমে জান্নাতের পথ সুগম করতে সক্ষম হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআ’লা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন, ‘হে যুবসমাজ! তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহের সামর্থ্য রাখে, তারা যেন বিবাহ করে। কেননা বিবাহ দৃষ্টি নিয়ন্ত্রণকারী, যৌনাঙ্গের পবিত্রতা রক্ষাকারী। আর যার সামর্থ্য নেই সে যেন রোযা রাখে। কেননা তা হচ্ছে যৌবনকে দমন করার মাধ্যম’।[ বুখারী/৫০৬৫; মুসলিম/১৪০০; মিশকাত/৩০৮০‘নিকাহ’ অধ্যায়; বুলূগুল মারাম হা/৯৬৮।]
বিবাহ করা নবীদের সুন্নাত : আল্লাহ বলেন, ‘আপনার পূর্বে আমি অনেক রাসূল প্রেরণ করেছি এবং তাদেরকে স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি দিয়েছি’ (রা‘দ ১৩/৩৮)।
রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু তাআ’লা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন, ‘আমি নারীদেরকে বিবাহ করি (সুতরাং বিবাহ করা আমার সুন্নাত)। অতএব যে আমার সুন্নাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে সে আমার দলভুক্ত নয়’।[ বুখারী হা/৫০৬৩; মসুলিম হা/১৪০১; মিশকাত হা/১৪৫‘ঈমান’ অধ্যায় ‘কিতাব ও সুন্নাহ আঁকড়ে ধরা’ অনুচ্ছেদ;বুলূগুল মারাম হা/৯৬৮।]
চিরকুমারত্ব বরণ ও নিঃসঙ্গ জীবন যাপনের অনুমতি ইসলামে নেই : সা‘আদ ইবনু আবী ওয়াক্কাছ রাদ্বিয়াল্লাহু তাআ’লা আনহু বলেন, ‘রাসূল সাল্লাল্লাহু তাআ’লা আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত ওসমান ইবনু মাযঊনকে নিঃসঙ্গ জীবন যাপনের অনুমতি দেননি। তাঁকে অনুমতি দিলে আমরা চিরকুমারত্ব গ্রহণ করতাম’।[ বুখারী হা/৫০৭৩; মুসলিম, মিশকাত হা/৩০৮১, ‘বিবাহ’অধ্যায়।]
বিবাহ দরিদ্রকে সম্পদশালী করে দেয় : অনেকে দরিদ্র হওয়ার কারণে স্ত্রী-সন্তান লালন-পালন করতে না পারার ভয়ে বিবাহ করে না। অথচ আল্লাহ বিবাহের কারণে দরিদ্রকে সম্পদশালী করে থাকেন। আল্লাহ বলেন, ‘যদি তারা দরিদ্র হয়, তবে আল্লাহ তাদেরকে স্বীয় অনুগ্রহে সম্পদশালী করে দিবেন। নিশ্চয় আল্লাহ প্রাচুর্যদাতা মহাজ্ঞানী। (নূর ২৪/৩২)।
রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু তাআ’লা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন, ‘তিন শ্রেণীর লোকের উপর আল্লাহর সাহায্য অপরিহার্য হয়ে পড়ে (১) যে দাস নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ আদায় করে দাসত্ব থেকে মুক্তি পেতে চায়। (২) যে লোক বিবাহ করে নিজের নৈতিক পবিত্রতা রক্ষা করতে চায়। (৩) যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদে যেতে চায়’।[ নাসাঈ হা/৩২১৮, হাদীছ হাসান]
বিবাহ আল্লাহর নিদর্শনাবলীর অন্যতম নিদর্শন : আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে এক নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সঙ্গীনীদের সৃষ্টি করেছেন। যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাক এবং তিনি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক স¤প্রীতি ও দয়া দান করেন’ (রূম ৩০/২১)।
বিবাহ দ্বীনের পূর্ণতা অর্জনের পরিচায়ক : রাসূল সাল্লাল্লাহু তাআ’লা আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যখন কোন ব্যক্তি বিবাহ করল, তখন সে দ্বীনের অর্ধেক পূর্ণ করল’।[ বায়হাক্বী, মিশকাত হা/৩০৯৬, সনদ হাসান।] সুতরাং বিবাহ না করলে ব্যক্তি গোনাহগার না হ’লেও এতে শরী‘আতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানকে অগ্রাহ্য করা হয়।
ইসলামে বিবাহের হুকুম : অবস্থা ও পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে বিবাহের হুকুম ভিন্ন হয়ে থাকে। যেমন-
১. ওয়াজিব : যার শারীরিক শক্তিমত্তা, সক্ষমতা ও আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে এবং যে অনিয়ন্ত্রণ ও পদস্খলনের আশংকা করে, তার জন্য বিবাহ করা ওয়াজিব।
২. মুস্তাহাব : যার শক্তি-সামর্থ্য রয়েছে এবং নিজেকে হারাম কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে নিরাপদ রাখার ক্ষমতা আছে, তার জন্য বিবাহ করা মুস্তাহাব। তবে একাকী জীবন-যাপনের চেয়ে বিবাহ করা উত্তম। কেননা ইসলামে সন্ন্যাসব্রত বা বৈরাগ্য নেই।[ ফিকহুস সুন্নাহ ৩/১৩০।]
৩. হারাম : যার দৈহিক সক্ষমতা ও স্ত্রীর ভরণ-পোষণের সামর্থ্য নেই তার জন্য বিবাহ করা হারাম। (ফিক্বহুস সুন্নাহ ৩/১৩১)। অনুরূপভাবে যিনি যুদ্ধের ময়দানে যুদ্ধরত থাকেন তার জন্য বিবাহ হারাম। কেননা সেখানে তার পরিবারের নিরাপত্তা থাকে না। তদ্রূপ কোন ব্যক্তির স্ত্রী থাকলে এবং অন্য স্ত্রীর মাঝে ইনসাফ করতে না পারার আশংকা করলে দ্বিতীয় বিবাহ করা হারাম। যেমন আল্লাহ বলেন, ‘আর যদি আশংকা কর যে, সুবিচার করতে পারবে না তবে একজনকে অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীকে (বিয়ে কর)’ (নিসা ৪/৩) শরহুল মুমতে‘, ১২/৯।]
ইসলামে বিবাহের নিয়ম-পদ্ধতি : ইসলামে বিবাহের সংক্ষিপ্ত নিয়ম হল-উপযুক্ত বয়সের ছেলে-মেয়েকে তাদের অভিভাবক বিবাহের প্রস্তাব দেবেন। সম্ভব হলে ছেলে-মেয়ে একে অপরকে দেখে তাদের অভিমত জানাবে। উভয়ে একমত হলে নির্দিষ্ট দিনে দু’জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে মেয়ের ওকীল বা অভিভাবক নির্দিষ্ট মহরের বিনিময়ে ছেলের সাথে মেয়ের বিবাহের প্রস্তাব দিবেন। ছেলে কবুল বলে গ্রহণ করবে। যাকে আরবীতে ঈজাব ও কবূল বলা হয়।
পাত্র-পাত্রীর সম্মতি : বিবাহের পূর্বে পাত্র-পাত্রীর সম্মতি নিতে হবে। কোন অবস্থাতেই কোন ছেলে-মেয়েকে তার অসম্মতিতে বিবাহ করতে বাধ্য করা যাবে না। আল্লাহ বলেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের জন্য বৈধ নয় যে, তোমরা বলপূর্বক নারীদের উত্তরাধিকারী হবে’ (নিসা ৪/১৯)।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু তাআ’লা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন, ‘বিবাহিতা মেয়েকে তার পরামর্শ ছাড়া বিবাহ দেয়া যাবে না এবং কুমারী মেয়েকে তার অনুমতি ছাড়া বিবাহ দেয়া যাবে না। সাহাবীগণ আরয করলেন, তার অনুমতি কীভাবে হবে? উত্তরে তিনি বললেন, ‘চুপ থাকাই হচ্ছে তার অনুমতি’।[ বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩১২৬ ‘বিবাহতে অভিভাবক ও মেয়ের অনুমতি’ অনুচ্ছেদ।]
পাত্র-পাত্রী নির্বাচনে দ্বীনদারিকে প্রাধান্য দেয়া : বিবাহের প্রস্তাব দেয়ার আগে লক্ষ্য করতে হবে পাত্র-পাত্রীর মধ্যে সমতা আছে কি-না। সম্পদ ও বংশ মর্যাদার সমতা হলে ভাল হয়, তবে জরুরি নয়। কিন্তু দ্বীনের বিষয়ে সমতা থাকা জরুরি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআ’লা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন,‘সাধারণতঃ মেয়েদের চারটি গুণ দেখে বিবাহ করা হয়, তার ধন-সম্পদ, বংশ-মর্যাদা, সৌন্দর্য এবং দ্বীন। তোমরা ধার্মিক মেয়েকে অগ্রাধিকার দাও, অন্যথায় তোমাদের উভয় হস্ত অবশ্যই ধূলায় ধূসরিত হবে’।[ বুখারী-৪৮০২, মুসলিম-১৪৬৬, মিশকাত হা/৩০৮২, ৩০৯০, ‘বিবাহ’অধ্যায়।]
রাসূল সাল্লাল্লাহু তাআ’লা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন, ‘তোমরা বিবাহের জন্য উপযুক্ত পাত্রী নির্বাচন কর এবং সমতা দেখে বিবাহ কর’।[মুসতাদরাক, হা-২৭৩৪] তিনি আরও এরশাদ করেন, ‘যার দ্বীনদারী এবং উত্তম আচরণে তোমরা সন্তুষ্ট, তার সাথে বিবাহ দাও’।[ তিরমিযী, মিশকাত হা/৩০৯০।]
একজনের প্রস্তাবের উপর অন্যজনের প্রস্তাব হারাম : বিবাহের প্রস্তাব দেয়ার পূর্বে লক্ষ্য করতে হবে যে, এই পাত্রীকে অন্য কেউ বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছে কি-না? যদি দিয়ে থাকে তাহ’লে নতুন করে প্রস্তাব দেয়া যাবে না। যতক্ষণ না প্রথম প্রস্তাবকারী তার প্রস্তাব থেকে সরে দাঁড়ায়। নবী করীম সাল্লাল্লাহু তাআ’লা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ভাই (ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে) দরদাম করলে অন্যকে দরদাম করতে নিষেধ করেছেন এবং এক মুসলিম ভাইয়ের বিবাহের প্রস্তাবের উপর অন্য ভাইকে প্রস্তাব দিতে নিষেধ করেছেন, যতক্ষণ না প্রথম প্রস্তাবকারী তার প্রস্তাব উঠিয়ে নেয় বা তাকে অনুমতি দেয়’।[ বুখারী হা/৫১৪২, মুসলিম হা/১৪১২,বুলূগুল মারামহা/৯৭৮।]
পাত্র-পাত্রী পরস্পর দর্শন বৈধ : বিবাহের পূর্বে পাত্র-পাত্রী পরস্পরকে দেখে নেওয়া উচিত। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা বিবাহ কর সেই স্ত্রীলোক, যাদেরকে তোমাদের ভাল লাগে’ (নিসা ৪/৩)।
হযরত মুগীরা ইবনে শু‘বা রাদ্বিয়াল্লাহু তাআ’লা আনহু বলেন, আমি জনৈক নারীকে বিবাহের প্রস্তাব করলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু তাআ’লা আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বললেন, ‘তুমি কি তাকে দেখেছ? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, তাকে দেখে নাও। কেননা এতে তোমাদের উভয়ের মধ্যে ভালবাসা জন্মাবে’। [ বুখারী হা/৫১৪৪, মুসলিম, মিশকাত হা/৩১৪৪]
মোহরানা নির্ধারণ : বিবাহের আগে মোহরানা নির্ধারণ করা এবং বিবাহের পর তা স্ত্রীকে দিয়ে দেওয়া ফরয। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেন,‘তোমরা স্ত্রীদেরকে তাদের মোহরানা খুশী মনে প্রদান কর’ (নিসা ৪/৪)। অন্যত্র তিনি এরশাদ করেন, ‘তোমরা স্ত্রীদের মোহরানা ফরয হিসাবে প্রদান কর’ (নিসা ৪/২৪)।
স্বামীর সামর্থ্য অনুযায়ী স্ত্রীকে মোহরানা দিতে হবে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন, ‘উত্তম মোহর হচ্ছে, যা দেয়া সহজ হয়’।[ আবুদাউদ হা/২১১৭, বুলূগুল মারাম হা/১০৩৫; ছহীহুল জামে‘ হা/৩২৭৯।]
যৌতুক : বিবাহের সময় কনের পক্ষ থেকে বরকে বা বরপক্ষকে কিছু দিতে হবে, এটা ইসলাম সমর্থন করে না; বরং ছেলে বা ছেলেপক্ষ তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী মেয়েকে মোহর প্রদান করবে এটাই শরীয়ত।

লেখক: বিভাগীয় প্রধান, ইসলামিক স্টাডিজ, সাদার্ন
বিশ্ববিদ্যালয়, খতীব, মুসাফিরখানা জামে মসজিদ