ইসলামিক আইকন নির্বাচিত চার তরুণ

42

কোরআন-সুন্নাহর জ্ঞানে পারদর্শিতা দেখিয়ে জমজমাট প্রতিযোগিতা শেষে নির্বাচিত হয়েছেন চার ইসলামিক আইকন। তাদের মধ্যে দুই জন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ^বিদ্যালয়ের (বুয়েট), একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এবং অন্যজন ঢাকার গেন্ডারিয়ার জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলুম ফরিদাবাদের শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে তিনজনই কোরআনে হাফেজ।
বিজয়ীরা ইসলাম ও বাংলাদেশ বিষয়ে নানা প্রশ্নের উত্তর দিয়ে নিজেদের পারদর্শিতা দেখিয়েছেন। চূড়ান্তপর্বে চারজন বিজয়ীর মধ্যে সেরাদের সেরা হয়েছেন মো. তারিকুল ইসলাম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। এছাড়া দ্বিতীয় হয়েছেন নোয়াখালীর সন্তান ফারহান উদ্দিন। তিনি বুয়েটের ব্যাচেলর অব সাইন্স ইন ম্যাটেরিয়াল অ্যান্ড মেটালর্জিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে ২০২১ সালে পাস করেছেন। তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন মুন্সিগঞ্জের মো. মেহেদী হাসান। তিনি বুয়েটে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। চতুর্থ বিজয়ী ফেনীর মুহাম্মদ উসমান গনী ঢাকার কওমি মাদরাসা থেকে পড়াশোনা করেছেন। এদের মধ্যে মেহেদী হাসান ছাড়া বাকি তিনজনই কোরআনে হাফেজ।
বিজয়ীরা প্রথম পুরস্কার হিসেবে পাচ্ছেন নগদ ৩ লাখ টাকা, ওমরাহ হজের সুযোগ, বিদেশে যতদিন উচ্চশিক্ষা করতে চান তার খরচ (কমপক্ষে সাত লাখ টাকা)। দ্বিতীয় পুরস্কার নগদ দুই লাখ টাকাসহ ওমরাহ হজের সুযোগ, বিদেশে উচ্চশিক্ষার খরচ (কমপক্ষে মোট ৪ লাখ টাকা)। তৃতীয় পুরস্কার নগদ এক লাখ টাকা, ওমরাহ হজের সুযোগ, বিদেশে উচ্চশিক্ষার খরচ (কমপক্ষে মোট আড়াই লাখ টাকা)। চতুর্থ পুরস্কার ওমরাহ হজের সুযোগ, ট্যাব ও বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ। এছাড়া এই চারজনসহ সেরা ১০ জন পাচ্ছেন একটি করে ট্যাব ও আকর্ষণীয় গিফট হ্যাম্পার।
ইসলামিক আইকনের আলো ঝলমলে দৃষ্টিনন্দন সেটে ছিলো স্বকীয়তা, সৃজনশীলতা ও নির্মাণের মুন্সিয়ানা। মেধাবীদের এই মিলনমেলা দর্শকদের মুগ্ধ করে। সেইসাথে মেধাবীদের পুরস্কার ও সম্মান দিয়ে স্বীকৃতি জানানোর উদ্যোগ সংশ্লিষ্ট সব মহলে প্রশংসিত হয়েছে।
আলেমেদ্বীন ও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক ট্যালেন্টদের নিয়ে আয়োজন হয় দেশব্যাপী জাতীয় প্রতিযোগিতা ও মেগারিয়েলিটি শো। গার্ডিয়ান রিসার্চ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২০২১ সালের পবিত্র রমজান মাসজুড়ে প্রতিদিন রাত ১০টা ৫০ মিনিটে জিটিভিতে প্রচার হয় এ অনুষ্ঠান।
ইসলামিক আইকন সিজন ওয়ানের টাইটেল স্পন্সর বিএম এলপি গ্যাস এবং পাওয়ার্ড বাই স্পন্সর স্মার্ট গ্রূপ। খালিদ সাইফুল্লাহ বকসীর পরিচালনা ও উপস্থাপনায় ব্যতিক্রমধারার এ অনুষ্ঠানে বিচারক ছিলেন মাওলানা কামালুদ্দীন আবদুল্লাহ জাফরী, প্রফেসর ড. গিয়াস উদ্দীন তালুকদার, ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী, শায়খ আহমাদুল্লাহ, মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভী, ড. নকীব মুহাম্মদ নাসরুল্লাহ, একিউএম শফিউল্লাহ আরিফ এবং প্রফেসর মোখতার আহমদসহ ইসলামিক স্কলাররা। সারাদেশের হাজার হাজার অংশগ্রহণকারীদের থেকে ৪৮ জন প্রতিযোগী এ অনুষ্ঠানে সুযোগ পেয়েছেন।
কী ছিল আয়োজনে : এই অনুষ্ঠান দর্শকপ্রিয়তা পাওয়ার অন্যতম কারণ হলো প্রতিটি পর্বের বিষয় বিন্যাস ছিল অসাধারণ। যেমন, দারিদ্র্য যাবে জাদুঘরে জাকাত কায়েম হলে, শান্তির ধর্মে কিসের আবার জঙ্গিবাদ, জলবায়ু পরিবর্তন ও ভারসাম্যপূর্ণ পৃথিবী গড়তে ইসলাম, সুবিধা বঞ্চিতদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলাম অন্যতম।
প্রতিটি পর্বের গ্রন্থনা ও পরিকল্পনায়ও ছিল ভিন্নতা। যেমন সেগমেন্ট বিন্যাসে- ক) ভালোবাসার বাংলাদেশ, খ) গণমানুষের প্রশ্নের জবাব, গ) অবজার্ভার আলেমদের প্রশ্ন, ঘ) প্রতিপক্ষ প্রতিযোগীকে প্রশ্ন করে আটকানো। ঙ) ঐতিহ্যের ইসলাম আমার গর্ব।
প্রতিযোগীদের একটা বিষয় বললে তারা আয়াতের লোকেশনসহ আয়াত বলেন। এছাড়া বলেন আয়াত নাজিলের ঐতিহাসিক পটভূমি, ব্যাখ্যা, আয়াতের শিক্ষা ও আয়াতটির উপর ধর্মীয় বিধান। শুধু কোরআন নয়, হাদিস সংক্রান্ত জিজ্ঞাসায় হাদিস গ্রন্থের লোকেশনসহ হাদিস বলা, সেই হাদিসের উপর খুঁটিনাটি প্রশ্নের ও ইসলামিক কারেন্ট নলেজের উত্তর দেয়া।
মাদ্রাসা পড়ুয়ারা বাংলাদেশ সংক্রান্ত জিজ্ঞাসায় কতটা পারদর্শী তা অনুষ্ঠানের ‘ভালোবাসার বাংলাদেশ’ সেগমেন্টটি না দেখলে বোঝা যাবে না। যদিও অনুষ্ঠানটি কুইজধর্মী, তবুও অত্যন্ত সুনিপুণভাবে বিন্যাস করা হয়েছে ইসলামের গৌরবগাঁথা ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাফল্যকে। ইসলামের শ্বাশতবাণীগুলো জানা গেছে বিনোদনের মধ্য দিয়ে। ইসলামের প্রকৃত মর্মবাণী প্রচার, মেধার প্রদর্শন ও প্রতিভার সন্ধান সব মিলিয়ে এক অনন্য আয়োজন ছিলো ইসলামিক আইকন। বিজ্ঞপ্তি