ইসরায়েলে চরম দক্ষিণপন্থীদের উত্থানে আতঙ্কে ফিলিস্তিনিরা

5

ইসরায়েলের ইতিহাসে সবচেয়ে কট্টরপন্থী এবং গোঁড়া ধর্মভিত্তিক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করার পর ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দ্ব›দ্ব আরও সংঘাতময় হয়ে উঠবে- এমন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ইসরায়েলের ভেতর এবং আন্তর্জাতিক পরিমÐলে। ইতোমধ্যেই প্রবল শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিরা। এই পটভূমিতে হেব্রনে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে কথা বলেছেন বিবিসি নিউজের টম বেইটম্যান। কী দেখেছেন তিনি?
তিনি বলেন, আমি গিয়েছিলাম হেব্রনে ইয়াসের আবু মারখিয়ার বসতবাড়ির ওপর চালানো হামলা নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলতে। কিন্তু সাক্ষাৎকারের মধ্যেই কুঁঁচকিতে লাথি খেয়ে বাগানে তাকে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যেতে হলো। তার বাড়িতে হামলা চালানো যখন শুরু হয়, তখন আমাদের ক্যামেরা ওই ঘটনা রেকর্ড করতে শুরু করে। বসতি স্থাপনকারীরা হামলা শুরু করে, তারা পাথর ছুঁড়ে, আমার প্রযোজক চিৎকার করছিলেন।
ফিলিস্তিনি পরিবারটির সদস্যদের সঙ্গে আমরা ছুটে বাসার বাইরে গেলাম। দুজন তরুণ ইসরায়েলি, ইয়াসের আবু মারখিয়ার বাসার বাগানে জোর করে ঢুকে পড়ে। তাদের পেছন পেছন ঢোকে কিছু সৈন্য। দুই তরুণ বসতি স্থাপনকারীর একজন তেড়ে এসে পরিবারটিকে উদ্দেশে চেঁচাতে লাগল, এখান থেকে বেরিয়ে যাও। চলে যাও। তাদের হম্বিতম্বি থামানোর চেষ্টায় আবু মারখিয়া এগিয়ে গেলেন- তিনি তার ফোনে ঘটনাটার ছবি তুলছিলেন। একজন সৈন্য তাকে ছবি তুলতে বাধা দিল। কিন্তু এরই মধ্যে ইসরায়েলি তরুণটি এগিয়ে এসে ওই বাসার মালিক ফিলিস্তিনি আবু মারখিয়াকে জোরে লাথি মারল। ঠিক এ ধরনেরই আচমকা হামলা নিয়ে এই পরিবারটির সঙ্গে কথা বলতে আমরা হেব্রনে এসেছিলাম।
হেব্রনের ফিলিস্তিনি বাসিন্দারা বলছেন, ইসরায়েলের সা¤প্রতিক নির্বাচনের পর তাদের ওপর হামলা ক্রমশ বাড়ছে। তারা সবসময় আচমকা হামলার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। এবারের ভোটে চরম ডানপন্থীদের প্রতি সমর্থন ব্যাপক মাত্রায় বেড়েছে। যার ফলে হেব্রন এবং অন্যত্র ইহুদী বসতি স্থাপনকারীদের পক্ষে আন্দোলনকারী চরম জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীর একেবারে কট্টর মনোভাবাপন্ন মানুষরা নিজেদের ক্ষমতাশালী মনে করছেন। এ ছাড়া এই ভোটের ফলাফল, অধিকৃত এলাকাগুলোয় সেনাবাহিনীর ভূমিকা কী হওয়া উচিত তা নিয়ে ইসরায়েলি সমাজের ভেতর একটা সংস্কৃতির লড়াইয়েও ইন্ধন যোগাচ্ছে। আবু মারখিয়াকে লাথি মারা ঘটনার পর আমরা যখন ছবি তোলা চালিয়ে যাচ্ছি, তখন সেখানে একটা অচলাবস্থার পরিস্থিতি তৈরি হয়।

ওই পরিবারকে সাহায্য করছেন এমন একজন ফিলিস্তিনি আন্দোলনকারী, বাদি দোওয়েক, চিৎকার করতে থাকেন, এখানে সৈন্যরা ফিলিস্তিনিদের রক্ষার জন্য কিছুই করে না। একজন ফিলিস্তিনি যদি এ কাজ করতো, তাহলে তোমরা (সৈন্যরা) তাকে জেলে ধরে নিয়ে যেতে, নয়ত গুলি করতে।
পুলিশও নিয়মমাফিক বলে থাকে, ইহুদি বসতিস্থাপনকারীদের দিক থেকে সহিংসতার ঘটনা ঘটলে তারা তা তদন্ত করে। কিন্তু অধিকার গোষ্ঠীগুলো বলে, এগুলো সাধারণত কেবল মুখের কথা, আদতে কখনই এসব ঘটে না।