ইটভাটার পর অবাধে গড়ে উঠছে বসতবাড়ি

5

 

মাসুদ নাসির, রাঙ্গুনিয়া

দেশের আড়াই দিনের খাদ্য উৎপাদনকারী গুমাইবিলে প্রতিদিন কোন না কোন স্থানে কোপ পড়ছে নানা স্থাপনার গড়ার জন্য। যে কারণে ‘শস্যভান্ডার’ খ্যাত চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার গুমাই বিল প্রতিনিয়ত ছোট হয়ে আসছে।
দেশের অন্যতম বৃহৎ এই বিলে ধানের জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে ভরাট করে গড়ে তোলা হচ্ছে বসতবাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনা। অনেক জায়গায় গড়ে তোলা হয়েছে পরিবেশ বিধ্বংসী ইটভাটা। এতে পরিবেশের বিপর্যয় ও কমে আসছে ফসলি জমি।
এভাবে প্রতিনিয়ত নানা স্থাপনা গড়ে উঠলেও প্রশাসনের যেন ‘কিছু করার নেই’ সেই ভূমিকায় থাকায় এলাকার ভূমি সিন্ডিকেট কোন না স্থানে কৃষি জমি ধ্বংস করা হচ্ছে। স্থাপনা গড়ে উঠছে অহরহ। এভাবে বেপোরোয়া উঠেছে ভূমি দস্যু সহ স্থাপনা নির্মাণকারীরা। যে কারণে স্থানীয় পরিবেশবাদীরা স্থানীয়রা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা, মরিয়মনগর, হোসনাবাদ, স্বনির্ভর রাঙ্গুনিয়া, লালানগর ইউনিয়ন ও পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে গুমাই বিলের অবস্থান। গুমাই বিলের জমিতে প্রতি বছরই ইরি ও আমনের বাম্পার ফলন হয়। ব্রিটিশ আমল থেকে এই বিলে ধান চাষ শুরু হলেও স্বাধীনতা পরবর্তী সরকারগুলো এখানে আধুনিক সেচের ব্যবস্থা করে। স্থানীয় বাইনালার ছড়া, সোনাইছড়ি, মুন্দরী, কুরমাই, ইছামতি, বারঘোনিয়া, ঘাগড়া, হ্রদ খাল ও গুট্টাকার খালের সংযোগ রয়েছে গুমাই বিলের সঙ্গে। এগুলোর মাধ্যমে পরিকল্পিত সেচ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে কৃষি বিভাগ। শুরুতে এই বিলের আয়তন ছিল চার হাজার হেক্টরেরও বেশি। বর্তমানে তা কমতে কমতে তিন হাজার হেক্টরে নেমে এসেছে। আবাদি এই বিলে অপরিকল্পিত আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের কারণে রাঙ্গুনিয়ায় খাদ্য নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে।
সরেজমিনে কাপ্তাই সড়কপথে মরিয়মনগর চৌমুহনী পার হলেই দেখা মেলে ঐতিহ্যবাহী গুমাই বিলের। মরিয়মনগর থেকে শুরু করে চন্দ্রঘোনা লিচুবাগান পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে কৃষিজমি ভরাট করে গড়ে উঠছে অসংখ্য স্থাপনা। আবাসিক আর অপরিকল্পিত বাণিজ্যিক ভবনের পাশাপাশি আবাদি এই বিলে গড়ে উঠছে ইটভাটা। বেশ কয়েক বছর ধরে গড়ে ওঠা এই ইটভাটার কারণে এর আশপাশের কৃষিজমিতে ধানের ফলনে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। চন্দ্রঘোনা ছুফি পাড়া গ্রামের কৃষক নুরুল আলম বলেন, গুমাই বিলে শত শত কৃষকের জমি রয়েছে। তবে এসব কৃষিজমি দিন দিন কমে যাচ্ছে। বিত্তবানরা কৃষিজমি নিয়ে বাণিজ্যে মেতে উঠেছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কারিমা আক্তার বলেন, গুমাই বিলে আবাদি জমির পরিমাণ কমছে প্রতিনিয়িত। স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে বাধাদানের কোনো এখতিয়ার আমাদের না থাকায় ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। তবে গুমাই বিলে ইটভাটার ব্যাপারে তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে আমি এর ক্ষতিকর দিক উল্লেখ করে প্রতিবেদন দিয়েছিলাম।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আতাউল গনি ওসমানী বলেন, কৃষিজমির বেচাকেনা করা যাবে। কিন্তু শ্রেণি পরিবর্তন করতে হলে অনুমতি নেওয়ার বিধান আছে।
গুমাই বিল রক্ষায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এর একটি ম্যাপ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ম্যাপ তৈরি হয়ে গেলে এটি রক্ষার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।