ইউরোপ-আমেরিকার আদলে ফিলিং স্টেশন করবে বিপিসি

36

 

ইউরোপ-আমেরিকার আদলে দেশে মডেল ফিলিং স্টেশন করতে চায় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। জ্বালানি তেলের নতুন ফিলিং স্টেশনগুলোতে থাকবে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটির তেল বিপণনকারী তিনটি কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল এ ফিলিং স্টেশনগুলো স্থাপন করবে। বেসরকারি উদ্যোক্তারাও চাইলে একই ধরনের মডেল ফিলিং স্টেশন স্থাপন করতে পারবে। তেলের ভেজাল রোধ এবং পরিমাণ ও মান নিয়ন্ত্রণের লক্ষে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।
মূলত মুজিববর্ষের কর্মসূচির আওতায় মডেল ফিলিং স্টেশন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সরকারি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে অন্তত একটি করে মডেল ফিলিং স্টেশন নির্মাণ করবে। নিজস্ব অর্থায়নে আরো কিছু ফিলিং স্টেশন করবে বিপিসি। দীর্ঘ পথ ভ্রমণের সময় রাস্তায় ক্লান্তি দূর করতে বিশ্রাম নেয়ার প্রয়োজন পড়লে বিরতি নেয়া যাবে মডেল ফিলিং স্টেশনে। থাকবে আধুনিক খাবারের দোকান, শৌচাগার, ফার্মেসিও। বিপিসির কর্মসূচির আওতায় মডেল ফিলিং স্টেশন হলেও বেসরকারি উদ্যোক্তারাও এগিয়ে আসতে পারবেন এ উদ্যোগে। মানদন্ড রক্ষা করে নির্মাণ করা যাবে নতুন অয়েল পাম্প স্টেশন।
এ প্রসঙ্গে বিপিসির পরিচালক (অপারেশন) সৈয়দ মেহদী হাসান বলেন, মডেল ফিলিং স্টেশনের মানদন্ড রক্ষা করে স্টেশন স্থাপন করার জন্য প্রয়োজনীয় ও সম্ভাব্য জমি দেখছে কোম্পানিগুলো। বেসরকারি উদ্যোক্তারাও এ ধরনের ফিলিং স্টেশন নির্মাণ করতে চাইলে তাদের অনুমোদন দেওয়া হবে।
দেশে ২ হাজার ২৬০টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ৩৬৮টি, ঢাকায় ৫৫৮টি, সিলেটে ১৪৪টি, ময়মনসিংহ ১২০টি, বরিশালে ৬৫টি, খুলনাতে ৩৩০টি, রাজশাহীতে ৩২৭টি, রংপুরে ৩৪৮টি। এগুলোর মধ্যে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ৮২৪টি, যমুনা অয়েল কোম্পানির ৭৩৫টি এবং পদ্মা অয়েল কোম্পানির ৭০১টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। তিনটি কোম্পানি নিজস্ব অর্থায়নে ও ব্যবস্থাপনায় সব মিলিয়ে ১০টির মতো ফিলিং স্টেশন পরিচালনা করছে।
সূত্রমতে, ২০১৬ সাল থেকে জ্বালানি তেলের ফিলিং স্টেশন স্থাপনের অনুমোদন বন্ধ ছিল। তেলের পাম্প ও ফিলিং স্টেশনগুলোর মধ্যে অন্যায্য প্রতিযোগিতা, ভেজাল ও মানহীন তেল বিক্রি, পরিমাণে কম দেওয়া এবং অবৈধ পথে তেল সংগ্রহের প্রবনতার কারণে নতুন করে পাম্প স্টেশন স্থাপনে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। এমন অবস্থায় নির্দিষ্ট মানদন্ড রক্ষা করে মডেল ফিলিং স্টেশন নির্মাণ করতে হবে। প্রতিনিয়ত বেড়ে যাওয়া গাড়ির তেলের চাহিদা পূরণে এবং মানসম্পন্ন তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে এ ফিলিং স্টেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।