ইউজার আইডির সন্ধানে পুলিশ

83

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সার্ভারে লাকী নামে রোহিঙ্গা নারীর ভুয়া এনআইডির তথ্য প্রদর্শনের রহস্য উন্মোচনে ইউজার আইডির সন্ধানে নেমেছে পুলিশ। রিমান্ডে লাকী ও আজিজুলকে জিজ্ঞাসাবাদের পর কারাগারে পাঠিয়ে পুলিশ কোন ইউজার আইডি ব্যবহার করে সার্ভারে এসব তথ্য আপলোড কিংবা ডাটা এন্ট্রি করা হয়েছে সেটা খুঁজে বের করার পথেই হাঁটছে।
এ বিষয়ে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সালাউদ্দিন সেলিম পূর্বদেশকে বলেন, ‘সার্ভারে লগ অপশন রয়েছে। তাতে প্রবেশ করে কোন ইউজার আইডি ব্যবহার করে সার্ভারে এসব ডাটা এন্ট্রি করা হয়েছে তাকে শনাক্ত করা সম্ভব। কাগজপত্রে নেই অথচ সার্ভারে প্রদর্শন করছে। তার মানে, যে বা যারা এ কাজ করেছে তারা প্রযুক্তিরই অপব্যবহার করেছে। এটাও একধরণের সাইবার ক্রাইম।’
পুলিশের ধারণা, এ কাজের সাথে কেউ একা নন। বরং সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত রয়েছে। সেটা কমিশনের ভেতরের বা বাইরের যে কেউ হতে পারে। তাই পুরো চক্রকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালী থানার ওসি মো. মহসীন। তিনি জানান, মামলা হওয়ার পর থেকেই খোঁজা হচ্ছে লাকীর স্বামী নজির আহাম্মদকে। কিন্তু তিনি আত্মগোপন করেছেন। তাকে পাওয়া গেলে চক্রের সাথে তার যোগসূত্র খতিয়ে দেখা সহজ হত।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, রোহিঙ্গা নারী লাকী গত ১৯ আগস্ট স্মার্ট কার্ড উত্তোলনের জন্য তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিয়ে নগরের জুবিলি রোডে জেলা নির্বাচন কার্যালয়ে আসেন। তার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর-১৯৯২১৫১৩৭৭১০০০৬২৯। স্বামীর নাম নজির আহম্মদ। পিতা হাটহাজারীর মির্জাপুর ইউনিয়নের আব্দুর সালাম। মাতা শাহেদা বেগম। নির্বাচন কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের কাছে জাতীয় পরিচয়পত্রটি ভুয়া মনে হয়। এনআইডি সার্ভারে সার্চ করলে লাকীর যাবতীয় তথ্য সংরক্ষিত আছে দেখা যায়। এটি ২০১৯ সালে আপলোড করা হয়। নিবন্ধন ফরম নম্বর ৪১৮৬৬৩৬৮। ভোটার সিরিয়াল নম্বর-১৭৬১, ভোটার এরিয়া কোড-মির্জাপুর (২ নম্বর ওয়ার্ড), হাটহাজারী, চট্টগ্রাম। তবে সন্দেহের কারণে জেলা নির্বাচন অফিস থেকে তাৎক্ষণিকভাবে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে সেখান থেকে জানানো হয়, লাকীর নামে কোনও ভোটার হিসেবে নিবন্ধন কিংবা জাতীয় পরিচয়পত্র ইস্যু করা হয়নি। কাগজপত্রে কোথাও ওই নামে কোনও তথ্য নেই। তাছাড়া, মির্জাপুর এলাকার সর্বশেষ ভোটারের নম্বর ১৭৬০। আর লাকীর ভোটার সিরিয়াল সার্ভারে দেখা যাচ্ছে ১৭৬১। পরে পুলিশ সেখান থেকে রোহিঙ্গা নারী লাকী ও তার সঙ্গে আসা আজিজুর রহমানকেও গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় হাটহাজারী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে ওইদিনই নগরীর কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন। লাকী ও আজিজুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মহিউদ্দিন মুরাদ।
উল্লেখ্য, ভুয়া পরিচয়পত্র বা এনআইডি কেউ ব্যবহার করলেও তা সাধারণত সার্ভারে প্রদর্শন করে না। কিন্তু রোহিঙ্গা নারী লাকীর ভুয়া এনআইডির তথ্য সার্ভারেও প্রদর্শিত হচ্ছে।