ইউক্রেইনে ‘বিশেষ সামরিক অভিযানে’ আরও সেনা পাঠাচ্ছেন পুতিন

4

পরদেশ ডেস্ক

ইউক্রেইনে রাশিয়ার ‘বিশেষ সামরিক অভিযানে’ আরও সেনা পাঠানোর জন্য সামরিক বাহিনীর রিজার্ভ সেনাদের একটি অংশকে ডাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথমবারের মতো সামরিক বাহিনীর রিজার্ভ সেনাদের ডেকে পাঠালেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট।
পুতিনের এ নির্দেশের পরপরই সামরিক বাহিনীতে কাজ করার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন রির্জার্ভ বাহিনীর তিন লাখ সদস্যকে ডাকার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সের্গেই শোইগু জানিয়েছেন।
বুধবার জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে পুতিন বলেছেন, পশ্চিম দেখিয়েছে রাশিয়াকে ধ্বংস করাই তাদের লক্ষ্য এবং তারা ইউক্রেইনের জনগণকে কামানের ‘খাদ্যে’ পরিণত করার চেষ্টা করছে। আমাদের লক্ষ্য দনবাসকে স্বাধীন করা, বলেছেন তিনি। পশ্চিমা দেশগুলো যদি ‘পারমাণবিক বø্যাকমেইল’ অব্যাহত রাখে তাহলে রাশিয়া তার বিপুল অস্ত্রভাÐারের সমস্ত শক্তি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখাবে বলেও হুঁশিয়ার করেছেন তিনি। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের এ কড়া হুঁশিয়ারিকে ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেইনে মস্কোর সেনা পাঠানোর পর সেখানে যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ানোর সবচেয়ে বড় ঘোষণা হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। রাশিয়ার কাছে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও বেশি পারমাণবিক অস্ত্র আছে। “যদি আমাদের আঞ্চলিক অখÐতা হুমকির মুখে পড়ে, তাহলে আমরা আমাদের লোকজনকে রক্ষায় সম্ভব সবকিছু ব্যবহার করবো। এটা ধাপ্পা নয়,” টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভাষণে বলেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট। পুতিন পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়াকে ‘ধ্বংসের ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ এনেছেন। তিনি রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা ইউক্রেইনের বিরাট অঞ্চলে মস্কো অনুগত নেতাদের ডাকা গণভোটের প্রতি তার সুস্পষ্ট সমর্থন ঘোষণা করেছেন। লুহানস্ক, দোনেৎস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়াকে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করতে এই গণভোট ডাকা হয়েছে। গণভোটের রায় পক্ষে গেলে মস্কো প্রায় হাঙ্গেরির সমান আয়তনের মতো ভূখÐ আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের ভূখÐভুক্ত করার সুযোগ পাবে।
ইউক্রেইনে সেনা পাঠানোকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ১৯৬২ সালের কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের পর পশ্চিমের সঙ্গে সবচেয়ে বড় বিবাদে জড়িয়েছে। ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই ইউক্রেইন যুদ্ধ এরই মধ্যে লাখো মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে; ওলট-পালট করে দিয়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতিও।