ইংল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে শ্রীলঙ্কার বড় জয়

13

পূর্বদেশ ক্রীড়া ডেস্ক

ম্যাচের আগের দিন ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার মইন আলি বলেছিলেন, ঘুরে দাঁড়াতে আরও বেশি আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে হবে তাদের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বেশি আগ্রাসী হতে গিয়ে উল্টো তাদের বিপদ আরও বাড়ল। শট খেলার চেষ্টায় বেশিরভাগ ব্যাটসম্যান বিলিয়ে এলেন উইকেট। দারুণ বোলিং-ফিল্ডিংয়ে ইংলিশদের অল্পে আটকে রাখার পর পাথুম নিসানকা ও সাদিরা সামারাউইক্রামার দায়িত্বশীল ফিফটিতে অনায়াসে জিতল লঙ্কানরা। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার জয় ৮ উইকেটে।
বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে গতকাল বৃহস্পতিবার ইংল্যান্ড অল আউট হয় ¯্রফে ১৫৬ রানে। ওয়ানডেতে এই মাঠের সর্বনিম্ন স্কোর এটি। জবাবে শুরুতে ২ উইকেট হারালেও নিসানকা ও সামারাউইক্রামার অবিচ্ছিন্ন ১৩৭ রানের জুটিতে ১৪৬ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় শ্রীলঙ্কা। ৮৩ বলে ৭ চার ও ২ ছক্কায় ৭৭ রান করেন নিসানকা। ৫৪ বলে ৭ চার ও এক ছক্কায় ৬৫ রান সামারাউইক্রামার। ওয়ানডের বিশ্ব মঞ্চে ২০০৭ সাল থেকে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টানা পাঁচ ম্যাচ হারল ইংল্যান্ড। চলতি আসরে পঞ্চম ম্যাচে চতুর্থ হারে সেমি-ফাইনালের স্বপ্ন আরও ফিকে হয়ে গেল জস বাটলারের দলের। আসর জুড়েই ইংল্যান্ডকে ভোগাচ্ছে তাদের ব্যাটিং। আগের দুই ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে তারা গুটিয়ে গিয়েছিল ১৭০ ও ২১৫ রানে। ১৯৯৬ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের এক আসরে টানা তিন ম্যাচে হারের তেতো স্বাদ পেল ইংলিশরা। আসরে প্রথম তিন ম্যাচে হারের পর টানা দুটি জিতল শ্রীলঙ্কা। এবারের জয়ের ভিত গড়ে দেন বোলাররা। ৩৫ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা পেসার লাহিরু কুমারা। কাসুন রাজিথা ও অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের প্রাপ্তি ২টি করে উইকেট। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ইংল্যান্ডের শুরুটা ছিল আশা জাগানিয়া। জনি বেয়ারস্টো ও দাভিদ মালান উদ্বোধনী জুটিতে তুলে ফেলেন ৪৫ রান। এরপরই ছন্দপতন। সপ্তম ওভারে আক্রমণে এসেই মালানকে ফিরিয়ে শুরুর জুটি ভাঙেন ম্যাথিউস। শুরুতে শ্রীলঙ্কার বিশ্বকাপ দলেই ছিলেন না তিনি। সতীর্থের চোটে সুযোগ পেয়ে যান মাঝপথে। আসরে প্রথম খেলতে নেমে, ওয়ানডেতে ৪৪ মাস পর বল হাতে নিয়েই সাফল্য পেলেন শ্রীলঙ্কার সাবেক অধিনায়ক। উইকেটটি আসে রিভিউ নিয়ে। পাওয়ার প্লের মধ্যেই রান আউটে বিদায় নেন জো রুট। এরপর অন্যরা যোগ দেন আসা-যাওয়ার মিছিলে। বাজে শটে মিড-অনে ক্যাচ তুলে দেন বেয়ারস্টো। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ব্যাট চালিয়ে কট বিহাইন্ড হন বাটলার। লিয়াম লিভিংস্টোন হন এলবিডবিøউ। ৮৫ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর বেন স্টোকস ও মইনের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ইংল্যান্ড। ৩৭ রানের এই জুটি ভাঙার পর আর বেশিক্ষণ টেকেনি তারা। স্টোকস সর্বোচ্চ ৪৩ রান করেন ৭৩ বল খেলে। ছোট লক্ষ্য তাড়ায় ২৩ রানের মধ্যে কুসাল পেরেরা ও কুসাল মেন্ডিসকে হারায় শ্রীলঙ্কা। ইংলিশ শিবিরে তখন হয়তো দারুণ কিছুর আশা জেগেছিল। তবে দারুণ এক জুটিতে তাদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন নিসানকা ও সামারাউইক্রামা। সংক্ষিপ্ত স্কোর: ইংল্যান্ড: ৩৩.২ ওভারে ১৫৬ (বেয়ারস্টো ৩০, মালান ২৮, রুট ৩, স্টোকস ৪৩, বাটলার ৮, লিভিংস্টোন ১, মইন ১৫, ওকস ০, উইলি ১৪*, রশিদ ২, উড ৫; মাদুশানকা ৪-০-৩৭-০, রাজিথা ৭-০-৩৬-২, থিকশানা ৮.২-১-২১-১, ম্যাথিউস ৫-১-১৪-২, কুমারা ৭-০-৩৫-৩, ধানাঞ্জয়া ১-০-১০-০)। শ্রীলঙ্কা: ২৫.৪ ওভারে ১৬০/২ (নিসানকা ৭৭*, পেরেরা ৪, মেন্ডিস ১১, সামারাউইক্রামা ৬৫*; ওকস ৬-০-৩০-০, উইলি ৫-০-৩০-২, রশিদ ৪.৪-০-৩৯-০, উড ৪-০-২৩-০, লিভিংস্টোন ৩-০-১৭-০, মইন ৩-০-২১-০) ফল: শ্রীলঙ্কা ৮ উইকেটে জয়ী। ম্যান অব ম্যাচ: লাহিরু কুমারা।