আস্থার জায়গা অতিলোভে নষ্ট

33

নিজস্ব প্রতিবেদক

হেপাটাইটিস ও ক্যান্সারের মতো জটিল রোগ নির্ণয়ে মেয়াদোত্তীর্ণ রি-এজেন্ট ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়ায় নগরীর শেভরন ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে পাঁচলাইশস্থ ল্যাবরেটরিতে অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়। এসময় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি করায় সেখানকার শ্রেষ্ঠা মেডিসিন কর্নার নামে একটি ফার্মেসিকেও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
নগরে ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে অনেক ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। সেবা-চিকিৎসা যত না তার চেয়ে বাণিজ্যই বেশি এসবে। বৈধ অবৈধ প্রায় সব কটা চলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রিলেটেড দালাল চক্রে। দুয়েকটা নিয়ে মানুষের আস্থা ও ভরসার জায়গা আছে। সেগুলোও হয়েছে নাম ছড়িয়ে পড়ার কারণে। অথচ এ ধরনের নামি-দামি ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টারও যে অতি লোভি ও সেবা বিমুখ তা অভিযানে প্রমাণিত হয়। এমনটাই হয়েছে শেভরন এর ক্ষেত্রেও।
সংশ্লিষ্ট বলছেন, শেভরন নগরীতে রোগনির্ণয়ের ক্ষেত্রে মানুষের তুলনামূলক আস্থার জায়গা। কিন্তু কর্তৃপক্ষের অতিলোভের কারণে এখন সেটি নষ্ট হতে চলেছে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শেভরনে অভিযান চালানো হয়। এসময় শেভরনে আমরা বেশকিছু মেয়াদোত্তীর্ণ রি-এজেন্ট পেয়েছি। এই রি-এজেন্টগুলো তারা পরীক্ষায় ব্যবহার করছে বলে বিষয়টি আমাদের কাছে প্রমাণিত হয়েছে।
প্রথমে মেয়াদোত্তীর্ণ রি-এজেন্ট ব্যবহারের বিষয়টি অস্বীকার করে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা বলেছিলেন, তাদের এখানে মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্ট আছে, কিন্তু তা ব্যবহার করা হচ্ছে না। তবে আমাদের অভিযান চলাকালে দেখা গেছে তাদের মেশিনের ভেতরে রি-এজেন্ট আছে, সেগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ।
এসব রি-এজেন্ট দিয়ে হেপাটাইটিস সি ও ক্যান্সার পরীক্ষা করা হতো। এগুলো দিয়ে পরীক্ষা করলে তো ফল উল্টে যাবে। তাই এসব মেয়াদোত্তীর্ণ রি-এজেন্ট ধ্বংসের পাশাপাশি শেভরনকে নগদ এক লাখ টাকা জরিমানা ও সতর্ক করা হয়েছে। ভোক্তাদের স্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নাসরিন আক্তার বলেন, শেভরন ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরিতে মেয়াদোত্তীর্ণ রি-এজেন্ট দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়ে থাকে। বিষয়টি প্রথম পর্যায়ে তারা অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে আমরা সরেজমিন তা দেখতে পাই। পরীক্ষা চলাকালীন অবস্থায় ও ফ্রিজে সংরক্ষিত অবস্থায় আলফা ফ্রেটোপ্রোটিনসহ বিভিন্ন মেয়াদোত্তীর্ণ কেমিক্যাল পাওয়া যায়। এজন্য শেভরন ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।