আসছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় কতটুকু প্রস্তুত

10

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস এর তান্ডব বিশ্বব্যাপী এখনও চলমান। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। করোনায় নতুন করে শনাক্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমলেও তা আশানুরূপ নয়। বরং উদ্বেগ ও আশঙ্কার ডালপালা নতুন করে মেলতে শুরু করেছে। সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বলা যায়, পার্শ¦বর্তী ভারতসহ যুক্তরাজ্য, চীন ও ইউরোপে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানতে শুরু করেছে। বিশেষকরে যুক্তরাজ্য আবারও লকডাউনের কথা ভাবছে। সেখানে করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাই তিন স্তরের নতুন বিধিনিষেধ বিবেচনা করা হচ্ছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন: ‘এমন কিছু যে ঘটবে তা অনিবার্য ছিল।’ ভারত এর আগে থেকেই করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে কাবু। সেখানেও প্রতিনিয়ত লাখো মানুষ শনাক্ত হচ্ছেন। করোনায় মারা যাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে লকডাউনে যাচ্ছে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদ। ইউরোপে সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা স্পেনে। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত মাদ্রিদ। গত সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে স্পেন সরকারের ভাষ্যমতে ৮ লাখ ৫০ হাজার জনসংখ্যার দেশটি আবারও কঠোর লকডাউনে পড়তে যাচ্ছে। উত্তর গোলার্ধের এই দেশে শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা করছে অনেকে। দেশটিতে বর্তমানে ৬ লাখের বেশি মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত। আর প্রাণ হারিয়েছে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ। বাংলাদেশে কয়েকদিন নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার কমতির দিকে। মৃত্যুর সংখ্যাও একই বৃত্তে ওঠানামা করছে। পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর আশঙ্কা করছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। তিনি সেপ্টেম্বরে ২০ তারিখ গণভবনে অনুষ্ঠিত একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুতি নেয়ার আহবান জানান। এরপর থেকে স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন কমিটি একটু নড়েচড়ে বসতে দেখা গেলেও সাধারণের মাঝে এ নিয়ে কোন উদ্বেগ বা সতর্ক অবস্থানের বিন্দুমাত্র চিহ্ন এখন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। অফিস, আদালত, বাজার, রাস্তাঘাট, মসজিদ, মন্দির, জানাজা, সমাবেশ সবকিছুই হচ্ছে স্বাভাবিক নিয়মে। কোথাও সামাজিক দূরত্বের বালাই নেই সাধারণ মানুষের মাঝে। মাস্ক পরার কথা বলা হলেও বেশিরভাগ মানুষ মাস্কও পরছেন না। এ জন্য আইন করা হয়েছে, মাঝেমধ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ঝটিকা অভিযান চালিয়ে মাস্ক পরার জন্য বাধ্য করলেও তা যতক্ষণ ততক্ষণ। এরপর যে লাউ সেই কদু। বলার অপেক্ষা রাখেনা যে, করোনার মত মরণব্যাধি নিয়ে এমন অবহেলা ও নিয়ম না মানার সংস্কৃতি ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এজন্য সংশ্লিষ্টদের আরও কঠোর ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। অন্যদিকে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় কোভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি ৭ দফা সুপারিশ দিয়েছে। সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য কিছু রোডম্যাপও তারা দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। ওই সুপারিশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, দ্রুত ভ্যাকসিন সংগ্রহ ও বিতরণ। এ বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য কয়েকটি দিকে লক্ষ্য রাখার পরামর্শ দেয়া হয়। এমনকি দ্রুত ভ্যাকসিন পেতে প্রতিযোগী দেশগুলোর মতো অগ্রিম টাকা দেওয়ার পরামর্শও জাতীয় কমিটির। এসব সুপারিশ আমলে নিয়ে করোনা মহামারি মোকাবেলায় দক্ষতার স্বাক্ষর রাখতে হবে। আমরা বরাবরের মতো আবারও বলতে চাই যে, সরকারের একার পক্ষে মহামারী করোনাভাইরাস মোকাবেলা সম্ভব নয়। এজন্য সাধারণ জনগণের সচেতনতা জরুরি। আইন ও নিয়ম মানার সংস্কৃতি গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই। স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চললে দ্বিতীয় ঢেউয়ে কঠোর পরিণতি বরণ করতে হতে পারে বলেই আমাদের শঙ্কা। এজন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে আগেভাগেই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে আমরা সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।