আল মাহমুদ বিশ্বসাহিত্যের একজন শক্তিমান কবি ও কথাশিল্পী

33

নাসিমা হক মুক্তা

অসাধারণ প্রতিভার শব্দ বয়ানের শৈল্পিক এক আধুনিক রূপ হচ্ছেন কবি আল মাহমুদ। যিনি ঐশ্বরিক শব্দের বিবিধ রূপ নিয়ে এক জগত বিস্তৃত হেঁটেছেন। যাঁর ভেতর জীবনমুখী ও বাস্তবতার ঘটনাপ্রবাহের অভিব্যঞ্জনার মৌলিকত্ব ফুটেছে যা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে বিরল ও দুঃসাহসিক উচ্চারণ। যাঁর কাব্যচর্চা সরল ও সাবলীল।তিনি কখনো কখনো পার্থিব জগতে থেকেও পৌরাণিক অবতারদের মতো ঐশ্বরিক অস্তিত্ব শুনেছেন আপন মনে। ঐ পবিত্র বাণীতে আস্থা রেখে নতুন আশার উদয় প্রত্যাশা করেছেন। মানুষকে বুঝাতে চেয়েছেন – ধর্মই মানবতা।তাই তিনি অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কে দেখেছেন অতিমানবিকতার বহিঃপ্রকাশে। মানুষের নিরাশা ও দুঃখ – দৈন্যতা নিরাময়ে আল্লাহর সুপারিশের জন্য এন্টিবায়িটিক হিসেবে তাঁরই পথ অনুসরণ করতে বলেছেন। চমৎকার সব প্রতীক ও উপমার বদৌলতে মানব জীবন ও মানবসত্তাকে বারবার পৃথিবীতে বাস করতে হলে আত্মার মুক্তি কতখানি জরুরি। তা তাঁর দুর্বোধ্য উপমায় সেজেছেন। তাঁর কবিতা মানেই দর্শন গুণাবলি। প্রেম, ভালোবাসা, ক্ষমা, ভয় ও শান্তির এসব গুণের অধিকারি মনুষ্যজাতের ঐশ্বরিক বৈশিষ্ট্য। ঐসবগুণের ভেতর তাঁর কল্পিত ভাষা, প্রকরণ ও বিচিত্র ছন্দ কবিত্বের শিল্পিত রূপায়ণ করেছেন।
এতো যাঁর গুণের সমৃদ্ধি তিনি কবি আল মাহমুদ। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জাত ও স্বশিক্ষিত কবি।কবিতা ছাড়াও গল্পে, প্রবদ্ধে, উপন্যাসে,সম্পাদক, কলামিস্ট ও সাহিত্যের স্বশিক্ষিত অনন্য উদাহরণ ও চিন্তক।তিরিশ কবিদের মত অত উচ্চ-শিক্ষিত না হয়েও আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অনন্য মর্যাদার কবি। তাঁকে বেশ জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছেন তাঁর তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ “সোনালি কাবিন”। এই গ্রন্থের জনক বা কবিতা জনক হিসেবে বেশ খ্যাতি অর্জন করেছেন। প্রথম কাব্যগ্রন্থ “লোক- লোকান্তর”, দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ “কালের কলস”। তবে “সোনালি কাবিন” তাঁর মেধা ও মননের কবিত্বের শৈল্পিক প্রকাশ। এই কাব্যগ্রন্থে চৌদ্দটি চতুদর্শপদী কবিতা বাংলা সাহিত্যে আলাদা তকমায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন। ইন্দ্রীয় সত্তার গভীরে নারী- নদী, প্রেম – প্রকৃতি, দেশ – ঐতিহ্য ও ভাবের ভেতর নারীর আবেগঘন স্পর্শের অস্তিত্ব নিয়ে কবি আল মাহমুদ ছুঁয়ে গেছেন পরিমিতিবোধের গহীন বনে। আল মাহমুদ প্রকৃতির গভীরে উবু গিয়ে রয়ে গেছেন বহু আকাঙ্খা… সোনালি কাবিনের ‘প্রকৃতি’
কতদূর এগোলো মানুষ!
কিন্ত আমি ঘোরলাগা বর্ষণের মাঝে
আজও উবু হয়ে আছি। ক্ষীরের মতন গাঢ় মাটির নরমে / কোমল ধানের চারা রুয়ে দিতে গিয়ে / ভাবলাম,এ মৃত্তিকা প্রিয়তমা কিষাণী আমার।
আল মাহমুদের “সোনালি কাবিন” কাব্যগ্রন্থ কাব্যিকগুণ, জীবন সংশ্লিষ্ট ভাব, শব্দের সহজ প্রয়োগ ও মানব প্রেমের অসাধারণ আহরণ। চলতি ২১ জানুয়ারীতে সোনালি কাবিনের বয়স ৪৭ বছর পূর্ণ হলো। এটি তাঁর যৌবনের তেজোময়ী চেতনার ফসল। এখনো নতুন ও সজীব। এ সনেটগুচ্ছে কবি “অর্নার্য প্রাচীন” বাংলার কৌম জনসমাজের কথা বলতে চেয়েছিলেন। কৌমের কাব্যরুপ –
“শরমিন্দা হলে তুমি ক্ষান্তিহীন সজল চম্বুনে
মুছে দেবো আদ্যক্ষর রক্তবর্ণ অনার্য প্রাচীন।
বাঙালি কৌমের কেলি কল্লোলিত কর কলাবতী
আবার শিশুসাহিত্য ও বাংলা ছড়া কবিতায় তাঁর বিচরণ অনেকের চেয়ে এগিয়ে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, ফররুখ আহমদ, শামসুর রাহমানের মতো আরও বলিষ্ঠ কবিদের মতো কবি আল মাহমুদ আলাদা বৈশিষ্ট্যের। তাঁর কোমলমতি মন শিশু- কিশোরদের কাছে খুবই শ্রুতিমধুর ও তুষ্ট। কাব্যিক গুণ বিচারে কবি আল মাহমুদ স্বতন্ত্র পরিসরে একজন প্রতিশ্রুতিশীল লেখক। তাঁর মনে – প্রাণে কবিতার আলাদা বসবাস।কবিতার আষ্টেপৃষ্টে তিনি জড়িত। বড় বড় কবিদের মতো বাংলা গীতিকবিতার মধুর ব্যঞ্জনা পরিলক্ষ করা যায়। তা কাহিনী নির্ভর ও ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের অপার মুগ্ধতা। তাঁর এমন ছড়া পড়ুন যাতে গাণিতিক হিসাব শতভাগ সার্থক — স্বরবৃত্তের মাত্রা হিসেবে দেখা যায় ( ৪+৪;৪+২,৪+৪, ৪+২)
শিশির ঝরা রাত্রি এখন
চাঁদটা কেমন ঠান্ডা
মস্ত নীলের তস্তরিতে
সি- মোরগের আন্ডা।।
তাঁতী পাড়ার রাঙা মামীর
মাকুর ঠেকা ফুটছে
মেঘনা নদী বুবুর শাড়ির
নকশা হয়ে উঠছে।
পঞ্চাশ দশকের বিরল প্রতিভা ও প্রথিতযশা কবি আল মাহমুদ একাধারে কবি, দেশপ্রেমিক, কথাসাহিত্যিক ও একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধান কবি ও মুসলিম ঐতিহ্যের আধুনিক রুল মডেল। তাঁর কবিতার রোমাঞ্চকর অনুভূতি, শরীর – সুরতহাল, প্রেম- চেতনা, সংস্কৃতি, শহর ও নগরের সরলবিন্যাস থেকে বাংলাদেশের প্রকৃতি, নদী, দেশপ্রেম, বাস্তব-পরাবাস্তববাদী, আধ্যাত্মিক ও ইতিহাস সমৃদ্ধ শৈল্পিক সমন্বয় ঘটেছে। তিনি বাংলাদেশ তথাপি বাংলার সাহিত্যের জনপ্রিয়, পাঠক ও সমালোচকনন্দিত কবিও বটে। আধুনিক বাংলা কবিতার প্রাণ পুরুষ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেখানে বাংলা ভাষা খুঁজে পাওয়া – সেখানে ও তিনি নিজের শব্দের বলয়ে অধিষ্ঠিত হয়ে আছেন স্ব – স্থানে। যারা বাংলা সাহিত্য চর্চা করেন তারা তাঁকে প্রাণ ভরে চর্চা করেন। মধ্যযুগের থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের কবিদের মধ্যে তিনি অন্যতম ঈর্ষনীয় এক নাম। বাংলা সাহিত্যে ভাগ্যবান কবিদের একজন যাদের জনপ্রিয়তা কিংবদন্তী প্রতিম। কাহিনীর নরম প্রলেপ আছে তাঁর কবিতায়, আছে প্রেম- প্রকৃতি ও বসন্ত-ঋতুর লোভনীয় বন্দনা যেন – মনো শীতলতা ফুটে ওঠে লেখার আদ্যোপান্তে। যেমন বরফের মতো নরম ও সাবলীল শব্দের গাঁথনি তেমন জটিলতা বা দ্ব্যর্থকতা প্রশয় খুঁজে পাওয়া যায় না।
কবি আল মাহমুদ তাঁর কবিতায়।পরাধীনতার সঙ্গে সমাজ সচেতনতাকে চমৎকার ভাবে জোড়াতালি দিয়েছেন। কারণ তিনি সাহিত্য চর্চা শুরু থেকে এমন এক ধরনের কবিতাকে পূঁজি করে অবচেতন মনে যা সহজপাঠ ও পাঠকের অপ্রতিরোধ্যতার শেকল ভেঙ্গে দেয়। এজন্য তিনি পাঠকনন্দিত বা জনপ্রিয়তা কবিদের মতো তিনিও কবিতাকে নিত্যদিনের সঙ্গী করেছেন। আঙ্গিকতার কুশল এবং সৌন্দর্যের কাঠামোতে অনন্য মাত্রার বাচনভঙ্গি পাঠকের হাতে নিপূন হস্তে হাজির করেছেন তাঁর অপূর্ব কবিতাগুলো –
আমার ভাঙা টুকরোগুলো আবার জুড়তে ইচ্ছে করে/কিন্ত খন্ড বিখন্ড হয়ে ছড়িয়ে পড়া/আমার স্মৃতি ও বিস্মৃতি কিছুতেই জোড়া লাগতে চায় না। (নগরীর কথা নয় চাষবাসের গল্প)
যদিও বসবাস করতেন আধুনিক শহরে তবুও গ্রাম- বাংলার প্রতি উনার অসম্ভব টান ছিলো।বারবার পল্লির উঠোনে মায়ের আঁচল ধরে ঘুরে বেড়ানোর কথা মনে পড়তো.- তাই “ফেরার পিসাসা”তে তুলে ধরেন ..
“ফিরে যেতে সাধ জাগে, যেন ফিরে যাওয়ার পিপাসা/ দেখায় দূরের নদী ওই তো হাটের নাও মাগো। ( কালের কলস)
এভাবে তিনি অসংখ্যক কবিতা লিখেন।
১৯৫৫ সালে বুদ্ধদেব বসু সম্পাদিত “কবিতা” কাগজে তাঁর প্রথম প্রকাশিত হয়। তারপর থেকে লেখালিখির প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায়।
তিনি একজন ধার্মিক লোক এবং ধার্মিক কবিও বটে।
ইসলাম ধর্মের বিশ্বাসী কবি “নিজের ভিতরে শিশু ও পশুর বিরোধ অনুভব করেন। ১৯৫৪ সাল থেকে বাংলাদেশসহ কলকাতার বিভিন্ন সাহিত্য সাময়িকীতে উনার কবিতা প্রকাশিত হত। তিনি কলকাতার বিভিন্ন সাহিত্য, ময়ূখ, চতুষ্কোণ, চতুরঙ্গ এ কৃতিবাসের মাধ্যমে এপার- ওপার সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে অন্যতম ও সুপরিচিত লাভ করেন।কালের কলস ও সোনালি কাবিন” এই বইগুলোর মাধ্যমে আধুনিক বাংলার কবিতার রাজপুত্রের নামটি দখল করে বসেন । “সোনালি কাবিন” বইটি বাংলা ও বাঙ্গালি সাহিত্য চর্চার আবহমান কালের সোনার খনি বা প্রামাণ্য দলিল বলা হয়। “সোনালি কাবিন” প্রকাশিত হওয়ার পরপরই তিনি পাঠকের কাছে বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল নক্ষত্র বনে যান। সোনালি কাবিনে কাব্যের রূপে বলেন –
সোনার দিনার নেই, দেনমোহর চেয়ো না হরিণী
যদি নাও, দিতে পারি কাবিনবিহীন হাত দু’টি,
কবি এক সময় আল্লাহ ভক্তিতে নিজেকে নত হয়ে অনুনয় সুরে লিখলেন প্রার্থনার ভাষা :
একটু জানান দাও হে প্রভু, তুমি হাল ধরে আছো/ আমার মত এক টলটলায়মান দিগভ্রান্ত নৌকোর/
শেষ বয়সে কবি কোন কোন সময় আশাবাদী হয়ে অদৃষ্টের কাছে বলেন-
আশির কোঠায় বয়স আমার/একলা ঘরে হাসি
বলার কিছু তো কেউ নেই এখানে কাকে ভালোবাসি।।
কবি আল মাহমুদকে কেউ কেউ “মৌলবাদী” বলেও সমালোচনা করেছেন।তবে সোনালি কাবিনের কবি স্নেহশীলতা সবাইকে মুগ্ধ করেছেন। একজন তরুণ (আবিদ আজম) কবিকে বুকে আগলিয়ে নিজে সুখ পেতেন এবং ঐ তরুণ কবিও ভালোবেসে শ্রদ্ধাভরে সেবা ও সহযোগীতা করেছেন। এ এক অসামান্য দৃষ্টান্ত স্নেহের ও শ্রদ্ধার। এত গুণগাহী, আত্বীযস্বজন থাকতেও কবি আবিদ আজম যতটুকু কাছের হতে পেরেছেন তা আর কেউ পারেনি। কবি আবিদ আজম তাঁর এক ভরসার নাম। আবিদ আজম কে ভালবেসে কবি ও লিখেছেন –
এই পৃথিবীর সড়ক- সুড়ং পাহাড় ও পর্বত
পেরিয়ে এসে হাঁটছি আজো হাঁটাই আমার কাজ
কেউ বলেনি থামতে আমায় ঘামতে ঘামতে যাই
কোথায় এলাম কষ্ট যে পেলাম মুষ্টিযুদ্ধ হাত।
পরবর্তী সময়ে কবিকে মৃত্যু – চিন্তায় ভর করেছেন। চিন্তায় কাতর হয়ে কবি লিখেন
কাল মৃত্যু হাত বাড়িয়েছিলো আমার ঘরে——
এভাবে অসংখ্যক কবিতা লিখেন যান। সোনালি কাবিনের পর তাঁর কাব্যগ্রন্থ গুলো হলো –
মায়াবী পর্দা দুলে ওঠে, অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না, বখতিয়ারের ঘোড়া, আরব্যরজনী, রাজহাঁস, এক চুক্ষ হরিণ, দ্বিতীয় ভাঙন, সেলাই করা মুখ, নদীর ভিতরে নদী, উড়ালকাব্য, বিরামপুরের যাত্রী, না কোনো শূন্যতা মানি না, বারুদগন্ধী মানুষের দেশ, তোমার জন্য দীর্ঘ দিবস দীর্ঘ রজনী, নগরীর কথা নয় চাষবাসের গল্প, প্রেমপত্র পল্লবে, তোমার রক্তে তোমার গন্ধে, পাখির কথায় পাখা মেললাম, আমি সীমাহীন যেন- বা প্রাচীন বটবৃক্ষের মতো আরো অনেক কবিতার বই। তিনি বেশ কিছু উপন্যাস ও লিখেন, তার মধ্যে সবচেয়ে প্রশংসিত হলো – আগুনের মেয়ে, যমুনাবতী, কাবিনের বোন, উপমহাদেশ, ডাহুকী, অজগরী, যেভাবে বেড়ে উঠে সহ আরো অনেক।
তিনি ছোটগল্প ও লিখেন। যেমন-
ময়ূরীর মুখ, নদীর সতীন, পানকৌড়ির রক্ত, সৌরভের কাছে পরাজিতসহ আরো কয়েকটি।
কবি আল মাহমুদ একজন ভাষা সৈনিক ও শিশু সাহিত্যিক। বাংলা সাহিত্যে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর জন্ম ১৯৩৬ সালে ১১ জুলাই ব্রাক্ষণবাড়িয়া শহরে একটি ব্যবসায়িক পরিবারে। একুশ বছর বয়স পর্যন্ত নিজের এলাকা থেকে কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানার অন্তর্ভুক্ত জগৎপুর গাঁয়ের সাধনা স্কুলে এবং পরে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড হাই স্কুলে পড়াশোনা করেন। ১৯৫৪ সাল থেকে দু বাংলার সাহিত্য সাময়িকীগুলোতে তাঁর কবিতা প্রকাশ পেত। ১৯৬৮ সালে বাংলা একাডেমি পুরষ্কার লাভ করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালে “দৈনিক গণকন্ঠ” নামের একটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন এবং পরে গ্রেফতার হয়ে ১৯৭৫ সালে মুক্তিপান। ১৯৯৩ সালে এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি তে পরিচালক দায়িত্ব থেকে অবসর নেন। বাংলাদেশের বতবে কেমন যেন বাংলা সাহিত্যে সবচেয়ে অনাদরে পড়ে আছেন। তিনি হচ্ছেন একমাত্র কবি যিনি বাংলা সাহিত্যে অবহেলা, সমালোচিত আর উপেক্ষিত। আমাদের প্রাণের কবি ও বাংলা সাহিত্যের প্রামাণ্য দলিল ঘোষিত “সোনালি কাবিন” এর জনক – কাব্যগ্রন্থটি দিয়ে গেলেন ঠিকই তবে কাবিননামার পাওনাটি বাকী রইলে গেলো। অবহেলা আর অনাদরে পড়ে রইলেন – নামের কবি আল মাহমুদ, উপেক্ষিত কবি আল মাহমুদ। চলতি ১১ জুলাই তাঁর ৮৫ তম জন্মদিন। এই জন্মদিনে কবির আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।