আল জামেয়া পটিয়ার সহকারি মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে ১০ মামলা

51

আল জামিয়া আল ইসলামীয়া পটিয়া’র সহকারি মহাপরিচালক ও ভাইস প্রিন্সিপাল আবু তাহের নদভী’র বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১০টি মামলা করা হয়েছে। সুদমুক্ত সমাজ গঠনের আহবানে সাড়া দিয়ে এহসান সোসাইটি বাংলাদেশ ও তাদের সহযোগি প্রতিষ্ঠান এহসান রিয়েল এস্টেট এন্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের নামে মাত্র সভাপতির দায়িত্ব নেন। পরে এসব সংগঠনের কার্যক্রমে অসন্তুষ্ট হয়ে ২০০৯ সালে দুটি পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ নদভীকে প্রতিষ্ঠানের প্রধান উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে ১০টি মামলা দায়ের করেছেন। এ বিষয়ে আবু তাহের নদভী গতকাল পটিয়ায় সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সম্মেলনে এসব মামলা ও দুটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন এবং এসব মামলার কারণে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেন। জানা গেছে, ২০০৫ সালে ‘সুদমুক্ত সমাজ গঠন’ করার সুন্দর ¯েøাগানে মুদ্ধ হয়ে এহসান সোসাইটি বাংলাদেশ’ নামের একটি বেসরকারি সংস্থায় আবু তাহের নদভী যোগদান করেন। পরে সংস্থাটি এহসান রিয়েল এস্টেট এন্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড নামে আরো একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেন। ২০০৮ সালের দিকে এসে এ দুটি প্রতিষ্ঠানের নামে মাত্র সভাপতির দায়িত্ব নেন নদভীভ।
দুটি সংস্থায় সভাপতি পদে থাকলেও ওই প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আর্থিক কোন লেনদেন বা সুবিধা গ্রহণ করেননি। পরবর্তীতে সংস্থা দুটির অনিয়ম ও দুর্র্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০০৮ সালের শেষের দিকে পরিচালনা পরিষদের সভায় অনিয়মের বিষয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। কিন্তু এর কোন প্রতিকার না পাওয়ায় ২০০৯ সালের ১২ মে সভাপতির পদ থেকে আমি পদত্যাগ করেন। সর্বশেষ ২০১৬ সালের ২০ জুন পঞ্চমবারের মতো পদত্যাগপত্র সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবরে জমা দেন। তাতে অনিয়ম, দুর্র্নীতিসহ পদত্যাগের ৫টি কারণ উল্লেখ করা হয়। এরই প্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের ১ জুলাই সংস্থার সভা নং-১১৮ এর সিদ্বান্ত মোতাবেক উক্ত সংস্থার সভাপতি ও কার্যনির্বাহী পরিষদ সভাপতি পদ থেকে নদভীকে অব্যাহতি দেয়া হয় মর্মে প্রত্যায়নপত্র দেয়া হয়। সংস্থার পক্ষ থেকে জয়েন্ট স্টক থেকেও তার নাম অব্যাহতি দেয়ার আবেদন করা হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে আবু তাহের নদভী বলেণ, তার বিরুদ্ধে পাবনা, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১০/১২টি মামলা দায়ের করেছেন প্রতিষ্ঠানটির দ্বারা ভোক্তভোগীরা।
তার পদত্যাগের বিষয়টি প্রতিষ্ঠান থেকে গোপন রাখায় প্রতিষ্ঠান দুটির সভাপতি হিসেবে তাকে মামলায় জড়িয়ে দেয়া হয়েছে। অথচ আইনগতভাবে ২০১৬ সালের পর থেকে তিনি প্রতিষ্ঠান দুটির কেউ নন। এ ব্যাপারে তিনি রাষ্ট্্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় দায়ের হওয়া মামলায় নিয়মিত হাজিরা দিতে গিয়ে তিনি নিঃস্ব হয়ে উঠেছেন। বয়োবৃদ্ধ বয়সে হাজিরা দিতে গিয়ে শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়ছেন।