আর জনসভা হবে না লালদিঘি মাঠে

74

নিজস্ব প্রতিবেদক

সংস্কার শেষে প্রায় দুই বছর পর উন্মুক্ত হয়েছে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘি ময়দান। তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে ইতিহাস-ঐতিহ্যের এ মাঠ নবরূপে উন্মুক্ত করে দেয়া হলেও মুসলিম হাই স্কুলের নিজস্ব প্রোগ্রাম ছাড়া এখানে কোনো জনসভা করা যাবে না। আর করতে চাইলেও সেক্ষেত্রে স্কুল কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত অনুমতির প্রয়োজন হবে। নতুন এই শর্তের কারণে কালের সাক্ষী লালদিঘি মাঠ নিয়ে কেউ কেউ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এসব প্রতিক্রিয়ায় বলা হচ্ছে, চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘি মাঠ। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা ভাসানি, বঙ্গবন্ধু এবং বাঙালি জাতির সংগ্রামের নেতারা এই মাঠে অসংখ্য জনসভা করে ভাষণ দিয়েছেন। ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারের বলী খেলা এবং মেলাও এই মাঠকে ঘিরে। লালদিঘি মাঠ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যের অংশ। ফুটবল, ক্রিকেটসহ খেলাধুলার মাঠও বটে। এই মাঠে আর জনসভা হবে না। এখন থেকে এসব ইতিহাস হয়ে থাকবে। গতকাল সোমবার দুপুরে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল লালদিঘি মাঠের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে মুসলিম হাই স্কুলের কাছে হস্তান্তর করেন। এ সময় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামরুল আখতারসহ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলররা ও স্কুল কর্তৃপক্ষ উপস্থিত ছিলেন।
জাতির জনকের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে লালদিঘি ময়দানে ছয় দফা দাবির স্মৃতি সংরক্ষণে প্রকল্প নেয় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। ২০২০ সালের ফেব্রæয়ারিতে সংস্কার কাজ শুরু হয়। এতে ব্যয় হয় ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৪ ডিসেম্বর নগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় চট্টগ্রামের অন্যান্য প্রকল্পের সঙ্গে ‘সরকারি মুসলিম উচ্চবিদ্যালয়ের লালদিঘি মাঠের ৬ দফা মঞ্চ ও মাঠ সংস্কারকাজ’ শীর্ষক এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। ২০২১ সালের জুন মাসে ভারি বর্ষণের ফলে পাহাড় সংলগ্ন মাঠের সীমানা দেওয়ালের একাংশ নিচের দিকে ধসে গিয়ে কয়েকটি ম্যুরাল ভেঙে যায়। ফাটল দেখা দেয় দেওয়ালের আরেকটি অংশে। পুনঃসংস্কারের পর চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে শেষ হয় উন্নয়ন কাজ। প্রকল্পের আওতায় রাতে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাঠে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য তৈরি হয়েছে দুটি ২০ ফুট প্রস্থের গেট ও একটি ভিআইপি গেট। ১ হাজার ২৫০ বর্গফুট দেওয়ালে তুলে ধরা হয়েছে ১৮টি টেরাকোটার ম্যুরালে মহান মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন, গণঅভ্যুত্থান, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বাঙালির গৌরবের ইতিহাস।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বড় বড় সমাবেশগুলো মূলত লালদিঘি ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়। এ কারণে রাজনৈতিকভাবে মাঠটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। এ ছাড়া এখানে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয় জব্বারের বলীখেলা।
এ সময় শিক্ষা উপমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, করোনার সময় সবকিছু বন্ধ রাখার সুবাধে এ ময়দানের সংস্কার করা হয়। এখন মুসলিম হাইস্কুলের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য ময়দানটি উন্মুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি এলাকার শিশুদের খেলাধুলা এবং বয়স্কদের হাঁটাচলার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, ময়দানটির রক্ষণাবেক্ষণ মুসলিম হাইস্কুল করলেও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি কমিটি থাকবে। কেউ এ মাঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করতে চাইলে এ কমিটি অনুমতি নিবেন। তবে মাঠে জনসভা করার সুযোগ থাকবে না। আর বলীখেলা অনুষ্ঠিত হবে। তবে মাঠের ভেতরে মেলা বসতে পারবে না। মেলা মাঠের বাইরে বসবে।