আরও এক হাজার সিএনজি অটোরিকশা স্ক্র্যাপ করা হলো

12

নিজস্ব প্রতিবেদক

গত তিন দিনে ১ হাজার ৫টি সিএনজি অটোরিকশাকে স্ক্র্যাপ করা হয়েছে। ফলে নতুনভাবে চট্টগ্রাম মহানগরীতে ১ হাজার ৫টি সিএনজি অটোরিকশা চলবে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চট্টগ্রামের বিভাগীয় কার্যালয় এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে।
গত বুধবার থেকে সরকারি নির্দেশনায় এসব সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ক্র্যাপকরণ শুরু করে বিআরটিএ। গতকাল শুক্রবার ৩০০টি সিএনজি অটোরিকশা স্ক্র্যাপকরণের মাধ্যমে এ কাজের সমাপ্তি হয়েছে। স্ক্র্যাপকরণের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ সিএনজিচালিত অটোরিকশাগুলো অপসারণ সম্ভব হয়েছে।
বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় অফিসের উপ-পরিচালক শফিকুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, সিএনজি অটোরিকশা স্ক্র্যাপকরণ কার্যক্রমটি সরকারের কর্মযজ্ঞের অংশ। বিআরটিএ এখন সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজ প্রতিষ্ঠান। ২০০৫ মডেলের সিএনজি অটোরিকশা স্ক্র্যাপকরণ কার্যক্রমটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি আমরা। স্বল্প জনবল নিয়ে সম্পূর্ণ স্বাস্থবিধি মেনেই এই কার্যক্রম পরিচালনা করেছি।
জানা গেছে, ২০০১-২০০৩ সালে প্রস্তুত হওয়া প্রায় সাড়ে ৮ হাজার সিএনজি অটোরিকশা স্ক্র্যাপ করা হয়েছিল ২০১৮ সালে। ২০০৪ সালে প্রস্তুতকৃত ৩ হাজার ৬১৬টি অটোরিকশা স্ক্র্যাপ করা হয়েছিল ২০২০ সালে। সর্বশেষ ২০০৫ সালে প্রস্তুত হওয়া অটোরিকশা গত তিনদিনে স্ক্র্যাপ করা হলো।
বিআরটিএ’র কর্মকর্তারা জানান, ২০০৫ মডেলের ১ হাজার ৫টি মেয়াদোত্তীর্ণ সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ক্র্যাপকরণের জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। সে অনুযায়ী সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ক্র্যাপকরণ কার্যক্রম চলে। ২০০১ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআরটিএ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ১৩ হাজার সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিবন্ধন দিয়েছিল। এই সব সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিবন্ধনের সময় মেয়াদ বা আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯ বছর। পরে মালিক ও চালকদের দাবির মুখে তিন দফায় অটোরিকশাগুলোর মেয়াদ বাড়িয়ে ১৫ বছর করা হয়। ১৩ হাজার সিএনজি অটোরিকশার আয়ুষ্কাল গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়।
২০১৭ সাল থেকে কয়েকটি সিএনজি অটোরিকশার সিলিন্ডার বিস্ফোরণে প্রাণ দিতে হয়েছিল তিনজন যাত্রী ও চালককে। এছাড়াও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়েছিল আরো পাঁচ যাত্রী। এমন ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছিল বিআরটিএ। মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলোর চাপে ও সরকারের উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ হিসেবে পরিবেশগত ক্ষতির প্রভাবমুক্ত হতে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ২০০১, ২০০২ ও ২০০৩ মডেলে প্রস্তুতকৃত সাড়ে আট হাজার সিএনজি অটোরিকশা ২০১৮ ও ২০১৯ সালে স্ক্র্যাপকরণ করে প্রতিস্থাপন করেছিল বিআরটিএ। করোনার কারণে মেয়াদোত্তীর্ণ ২০০৪ মডেলের সিএনজি অটোরিকশা স্ক্যাপকরণ প্রায় ১০ মাস বন্ধ থাকার পর সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে গতবছরের ১৬ নভেম্বর থেকে ২০০৪ মডেলের ৩৬১৬টি সিএনজি অটোরিকশা স্ক্যাপকরণ শেষ করেছে।
বিআরটিএ চট্ট মেট্রো-১ (রেজিস্ট্রেশন) সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জি.) তৌহিদুল হোসেন পূর্বদেশকে বলেন, স্ক্র্যাপকৃত অটোরিকশার বিপরীতে নতুন অটোরিকশা রেজিস্ট্রেশন নাম্বার পাওয়ার জন্য মালিক তার নিজ নামে প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্রসহ সরকারি ফি জমা দিয়ে নতুন সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বিআরটিএ কার্যালয়ে হাজির হলে আমরা রেজিস্ট্রেশন প্রদান করবো।
বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ-পরিচালক (ইঞ্জি.) শফিকুজ্জামান ভূঁইয়া পূর্বদেশকে আরও বলেন, চট্টগ্রাম মহানগর এলাকার জন্য নিবন্ধিত সিএনজিচালিত অটোরিকশাগুলোর ইকোনমি লাইফ (সময়সীমা) ১৫ বছর ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। পরিবেশবান্ধব চট্টগ্রাম নগরী গড়তে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক মেয়াদোত্তীর্ণ এসব অটোরিকশা স্ক্র্যাপ করা হয়েছে। স্ক্র্যাপ করার পর এসব সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিবন্ধন নম্বর ও তথ্য সার্ভার থেকে মুছে দেওয়া হবে। পরবর্তীতে গাড়ি মালিকদের নতুন করে গাড়ি পুন:স্থাপনপূর্বক নতুন নিবন্ধন নম্বর দেওয়া হবে। স্ক্র্যাপকরণে বুলডোজারসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও লোকবল বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ সরবরাহ করে।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম নগরীতে এখন ১২ হাজার সম্পূর্ণ নতুন সিএনজি অটোরিকশা চলছে। ফলে ভ্রমণকারী সাধারণ যাত্রীদের কাছে নেই সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে অগ্নিদগ্ধ হওয়ার আতঙ্কও।