আমিরাতে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন একশ্রেণির বাংলাদেশি

25

আরব আমিরাতে দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশিদের নতুন নিয়োগ ভিসা বন্ধ থাকায় ভিজিট ভিসার সুযোগে আমিরাতে আসছেন বাংলাদেশি শ্রমিকরা। এখানে আসার পর শুধুমাত্র বিজনেস পার্টনার ভিসা লাগিয়ে বৈধ হওয়ার সুযোগ থাকলেও একশ্রেণির লোক তা কাজে না লাগিয়ে অথবা বিজনেস পার্টনার ভিসা লাগিয়ে বৈধ হওয়ার পরও নিজ প্রতিষ্ঠান ছেড়ে অবৈধ হয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে গিয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ছেন। এতে ভিজিট ভিসার অপব্যবহারে নষ্ট হচ্ছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি।
জানা গেছে, ভিজিট ভিসায় বাংলাদেশ থেকে আমিরাতে আসা কিছু লোকের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে একশ্রেণির লোক বিজনেস পার্টনার ভিসা লাগিয়ে দেয়ার নামে বাণিজ্য করছেন। এতে প্রতারিত হচ্ছেন অনেকেই। আবার কতিপয় প্রতিষ্ঠানের মালিক ভিজিট ভিসায় আসা শ্রমিকদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে পার্টনার ভিসা লাগিয়ে দিয়ে নিজ প্রতিষ্ঠানে না রেখে অন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করার জন্য ছেড়ে দিচ্ছেন। এতে পরিস্থিতির শিকারে মানুষগুলোর কিছুই করার থাকে না। তাই বিজনেস পার্টনার ভিসা লাগানোর পরও বাধ্য হয়ে তাদেরকে অন্য প্রতিষ্ঠানে গিয়ে অবৈধ হয়ে কাজ করতে হচ্ছে। আবার একশ্রেণির লোক রয়েছেন, যারা ভিজিট ভিসার মেয়াদ শেষে দেশে ফিরে না গিয়ে অথবা ব্যয়বহুল খরচের কারণে বিজনেস পার্টনার ভিসা না লাগিয়ে অবৈধ হয়ে কাজ করছেন। যা এদেশটির শ্রম আইনে অপরাধ।
সূত্র মতে, আরব আমিরাতে ভিজিট ভিসায় আসা লোকদের মধ্যে অসংখ্য লোক বৈধ না হওয়ায় এবং মেয়াদ শেষে আমিরাত ত্যাগ না করায় বিষয়টি নজরে আসে দেশটির ইমিগ্রেশন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর। ফলে ভিজিট ভিসা দেয়ার ক্ষত্রে আগের তুলনায় এখন অনেক সীমিত করে দিয়েছে আমিরাত সরকার।
অপরদিকে অবৈধদের ধরপাকড় অভিযানও চালাচ্ছে। তবে ভিজিট ভিসার সুযোগ নিয়ে আমিরাতে যেভাবে বাংলাদেশি শ্রমিকরা পাড়ি জমাচ্ছেন এবং অবৈধ হয়ে কাজ করতে গিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে দেশের সুনাম নষ্ট করছেন, তাতে দেশটিতে বাংলাদেশিদের বন্ধ থাকা নতুন নিয়োগ ভিসা চালুর ক্ষেত্রে অন্তরায় হতে পারে বলেও মনে করেন প্রবাসীরা।
এদিকে আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান এবং দুবাই ও উত্তর আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন খানসহ দূতাবাস ও কনস্যুলেটের কর্মকর্তারা প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমিরাতের আইন-কানুন মেনে চলার এবং নিজ দেশের সুনাম বয়ে আনে এমন কাজ করতে প্রবাসীদের আহবান জানিয়ে আসছেন। কিন্তু তা আমলে নিচ্ছে না একশ্রেণির বাংলাদেশি। এছাড়া ২০১২ সালের আগস্টে কেনইবা বাংলাদেশিদের নতুন নিয়োগ ভিসা বন্ধ করে দিল আমিরাত সরকার এ নিয়েও কোন চিন্তা-ভাবনা নেই তাদের।