আবার লকডাউন সরকারি প্রজ্ঞাপন মেনে চলা জরুরি

4

সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুসারে ৫ এপ্রিল ২০২১ ভোর ৬টা হতে ১১ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত এক সপ্তাহ করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে জনসাধারণের জন্য ১১ দফা নির্দেশনাসহ বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। গতবছর মার্চ হতে লকডাউন তথা জনসাধারণের জন্য ঘরে থাকার এই নির্দেশনা শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে দেশে অর্থনৈতিক কার্যক্রম চালু রাখার স্বার্থে এবং জনগণের দুর্ভোগ লাঘবের স্বার্থে ধীরে ধীরে লকডাউন পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে সরকার। শেষ পর্যন্ত সরকারি ও সরকার অনুমোদিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্যসব জনসমাগম ঘটে এমন কার্যক্রমে কড়াকড়ি শীতল হয়ে যায়। এক পর্যায়ে গণপরিবহন, পর্যটন কেন্দ্র থেকে শুরু করে সবকিছু স্বাভাবিকভাবে চলে। মার্চ ২০২০ থেকে মার্চ ২০২১ একবছর করোনা ভাইরাস দেশে বহু প্রাণ ধ্বংস করেছে। উল্লেখ্য যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একবছরের অধিক সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। সরকার ও বিশেষজ্ঞদের ধারণা শিক্ষ প্রতিষ্ঠান খুলে দিলে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি বেসামাল হয়ে যাবে। যে কারণে পরীক্ষা ছাড়াই এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অটোপাস দেয়া হয়। জেএসসি, জেডিসি পরীক্ষার অবস্থাও একই রকম ছিল। এবছর এসএসসি পরীক্ষার্থীদের নির্বাচনী পরীক্ষা ছাড়া এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণের অনুমতি দেয়া হয়। বর্তমানে মাধ্যমিক স্কুলগুলোতে এসএসসি পরীক্ষা ২০২১ এর ফরম পূরণের কাজ চলছে। বিগত এক বছরে দেশের শিক্ষাকার্যক্রম বিশ্লেষণ করলে দেশের সর্বস্তরের সাধারণ শিক্ষা, বিশেষায়িত শিক্ষাসহ সব শিক্ষা এক প্রকার অচল হয়ে আছে। ধ্বংস স্ত‚পের ভেতর শিক্ষার প্রাণ রক্ষার জন্য অনলাইন ক্লাস ও পরীক্ষা পদ্ধতি চালু করা হয়েছিল, যা এখনো চলছে। বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে অনলাইন শিক্ষাপদ্ধতি আমাদের দেশের জন্য প্রযোজ্য নয়। কেননা আমাদের বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা অনলাইন শিক্ষার উপযুক্ত হয়ে ওঠেনি। আমরা গলাবাজি করে অনলাইন প্রক্রিয়াকে অনলাইন শিক্ষার যতই উপযুক্ত বলিনা কেন, প্রকৃতপক্ষে এদেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক অনলাইন শিক্ষা পদ্ধতির উপযুক্ততা অর্জন করতে পারেনি। প্রকৃতপক্ষে বর্তমানের অনলাইন শিক্ষা, শিক্ষার নামে একটি ফাঁক ও ফাকির সয়লাব। শিক্ষার্থীদের এনড্রয়েড মোবাইল সেট সমস্যা তো আছেই। তার উপর এদেশের নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে এবং অনলাইন প্রযুক্তির সাথে সার্বিকভাবে যুক্ত হবার সীমাবদ্ধতার কারণে অনলাইন ক্লাস হতে শতকরা দশ শতাংশ শিক্ষার্থীও উপকৃত হচ্ছে না। একাডেমিক শিক্ষা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য উপায়ে সম্পন্ন করা এ দেশে সম্ভব নয়। আমরা আশাবাদী দূরভবিষ্যতে হয়তো সম্ভব হবে। দেশের সর্বত্র নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত হলে এবং দেশের সর্বত্র সমান তালে মোবাইল নেটওয়ার্ক স্থাপন করা গেলেই অনলাইন ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শেখানো সম্ভব হবে। বিরাজমান শিক্ষা সমস্যা সমাধানে স্কুল, কলেজ, মাদরাসা, বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়া ছাড়া কোন বিকল্প নেই। কেননা বিগত একবছর শিক্ষাকে প্রকৃতপক্ষে বন্ধ রেখে আমরা করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি। সুতরাং দেশের সবকিছু চালু রেখে শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার অর্থ জাতির শিক্ষাকে কবর দিয়ে দেয়া। লকডাউন সবখানে, সর্বক্ষেত্রে সমতা বিধান করা জরুরি। জনগণ অতীতে লকডাউন উপেক্ষা করতে দেখেছি। দ্বিতীয় দফায় আবার লকডাউন জনগণ কতটুকু মানছে তা দেখার বিষয়। আমরা চাই জনগণ লকডাউন মেনে দেশের করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করুক। এই দ্বিতীয় দফা লকডাউনের শেষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া অযৌক্তিক মনে হয় না। সুতরাং দেশের শিক্ষাকে বাঁচাতে অন্যান্য উন্নয়ন খাতের মতো শিক্ষাকেও সমান দৃষ্টিতে বিচার বিবেচনা করা হোক। যে কোন দেশে শিক্ষা অন্যতম প্রধান উন্নয়নখাত। সুতরাং শিক্ষাকে বৈষম্যের দৃষ্টিতে না দেখে এ জাতির প্রকৃত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা হোক