আবহাওয়ার পূর্বাভাস সচেতনতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা জরুরি

4

দৈনিক পূর্বদেশ পত্রিকার এক প্রতিবেদনে সমগ্র জুন মাসের আবহাওয়ার পূর্বাভাস সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করা হয়েছে। বর্ষাকাল শুরু হতে আর মাত্র আট দিন বাকী। জ্যৈষ্ঠের শেষ পক্ষে বর্ষার আমেজ শুরু হয়ে গেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝড়ো হাওয়া এবং প্রবল বর্ষণ হচ্ছে। অনেক জেলায় পুকুর-ডোবা, খাল-বিল হাওর ভরে গেছে পানিতে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিও হয়েছে। বজ্রপাতে মৃত্যুবরণ করছে মানুষ। প্রায়ই দেখা যায় জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষের দিকে প্রচন্ড তাপদাহে খরার পরিবেশ তৈরি হয়। এ বছর বৈশাখ মাসে কালবৈশাখীর ছোবল অধিক হারে দেশে তাÐব সৃষ্টি করেনি। কালবৈশাখীর পরিমাণ অন্যান্য বছরের তুলনায় কম দেখা গেছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম জেলায় কালবৈশাখীর ক্ষয়ক্ষতির তেমন খবর পাওয়া যায়নি। কিন্তু ১৭ জ্যৈষ্ঠ হতে চট্টগ্রামে বর্ষার চরিত্র দারুণ করে বৃষ্টি হতে দেখা যাচ্ছে। কখনো সকালে, কখনো বিকালে, কখনো মাঝরাতে আবার কখনো ভোররাতে বৃষ্টি হচ্ছে। সারাদিন কোথাও না কোথাও মেঘাচ্ছন্ন থাকছে চট্টগ্রামের আকাশ। ঠিক যেন বর্ষাকালের আমেজ শুরু হয়ে গেছে চট্টগ্রামে। কখনো বর্ষার চরিত্র নিয়ে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে অনেকক্ষণ ধরে। আবার কখনো ভারী বর্ষণ হতে দেখা যাচ্ছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে সারা দেশে দুর্যোগের ঘনঘটার ইঙ্গিত রয়েছে। পুরো জুন মাসের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে অতিভারী বর্ষণ, গভীর নিম্নচাপ, আকস্মিক বন্যা, মাঝারি তাপপ্রবাহ সবই থাকতে পারে পুরো জুন মাস। জুন মাসের ভেতরেই বর্ষাকাল শুরু হবে। এখন হতে অতি ভারী বর্ষণ দেখা যাচ্ছে। সাগরে গভীর নিম্নচাপ সৃষ্টি হলে অতিভারী বর্ষণ না হলে প্রচÐ ঝড় বয়ে যেতে পারে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জন্য জুন মাস সংকটাপন্ন হতে পারে। কেননা উপকূলে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাবে এবং ঝড়ে ঘরবাড়ি বিনষ্ট হতে পারে। তলিয়ে যেতে পারে উপকূলের নিম্নাঞ্চল। আবার ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ি এলাকায় পাহাড় ধসের সম্ভাবনা বেশি। ঝড়ের তাÐবেও পাহাড়ি অঞ্চলের বনজ ও ফলদ গাছপালার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। একটানা ভারী বর্ষণ হলে জনজীবন অস্বাভাবিক দুর্ভোগে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ষড়ঋতুর এদেশে ঋতুচক্রের কারণে বিভিন্ন সময় দুর্যোগ এবং দুর্ভোগ বেড়ে যেতে দেখা যায়। প্রকৃতির ভারসাম্যহীনতা ঋতুর চরিত্রে পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। এদেশের ছয় ঋতুর কোন ঋতুই তার স্থায়ী চরিত্রে থাকছে না। গ্রীষ্ম-বর্ষা-শরৎ-শীত কোন ঋতুই চরিত্র অনুসারে আচরণ করছে না এদেশে। তার মূল কারণ বৈশ্বিক উষ্ণতা, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস। মানুষ প্রকৃতির উপরে চড়াও হচ্ছে আর প্রকৃতিও চরিত্র বদলিয়ে মানুষের উপর চড়াও হচ্ছে। এ অবস্থা হতে উত্তরণের একমাত্র উপায় প্রতিবেশ পুনরুদ্ধার। আর প্রতিবেশ পুনরুদ্ধারের পূর্বশর্ত প্রকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস না করা। শিল্পায়ন করতে গিয়ে বাতাসে অতিমাত্রায় কার্বন ছড়ানো হতে বিরত হওয়া জরুরি। পরিবেশ বিনষ্ট করে শিল্পায়ন, নগরায়ন দেশের পরিবেশকে ধ্বংস করছে।
এই জুন মাসের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে যে সকল দুর্যোগের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে তা থেকে রক্ষা পেতে দেশের সর্বস্তরের নাগরিকের মধ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধির কোন বিকল্প নেই। বজ্রপাত হতে রক্ষার জন্য রাবারের সেন্ডেল ব্যবহার, ঝড়ের মধ্যে নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে নেয়া, বন্যা হতে বাঁচতে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। বাংলাদেশের মানুষ আদিকাল হতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবেলা করে বংশপরম্পরায় বসবাস করে আসছে। যেকোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে সচেতন থাকলে জীবন নাশ ও মালামালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। আমরা আশা করবো দেশের সর্বস্তরের মানুষ জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আগামীর যেকোন দুর্যোগে ব্যাপক জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হতে নিজেদের নিরাপদ রাখার চেষ্টা করবে।