আপনার ভিটামিন ডি এর অভাব হচ্ছে না তো?

46

অনেকের ঘরে এমনিতেই রোদ এসে পড়ে। আবার কারও কারও ঘরে রোদের দেখা মেলে না। এই শহরের বাড়িগুলো যেমন গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে আছে, তাতে সব বাড়িতে রোদ না পৌঁছানোই স্বাভাবিক। এদিকে বাড়িতে বন্দি থেকে শরীরে ভিটামিন ডি এর অভাব হয়ে যেতে পারে যদি আপনি রোদের দেখা না পান। সূর্যের আলো যে ভিটামিন ডি এর প্রধান উৎস, সেকথা তো আমরা সবাই জানি।
আমাদের প্রতিদিনের খাবার থেকে শরীরে যে ক্যালসিয়াম পাওয়া যায় তাকে শরীরে ধরে রাখতে প্রয়োজন ভিটামিন ডি। সূর্যের আলো থেকেই মূলত আমাদের শরীরে আসে এই ভিটামিন ডি।
তবে কোনো কোনো খাবারেও মেলে এই ভিটামিন। হাড় মজবুত রাখতে অবশ্যই শরীরে প্রয়োজন ভিটামিন ডি। তবে শুধু হাড় বা দাঁতই নয়, চামড়ার যত্নেও ভিটামিন ডি এর প্রভাব কার্যকরী।
শুষ্ক-মরা চামড়ার সমস্যা অনেকেরই রয়েছে। অনেক ক্রিম-তেল ব্যবহার করেও চামড়া শুকিয়ে যায় অনেকের। ফলে, অনেকেরই ড্রাই স্কিন, চুলকানি, এগজিমা বা সোরিয়াসিসের মতো রোগও হয়। শরীরে পানির পরিমাণ ঠিক না থাকা এর একটি কারণ, এর পাশাপাশি শরীরে ভিটামিন ডি এর ঘাটতি কিন্তু এর কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে ভিটামিন ডি এর অভাব হচ্ছে কিনা তা জানার সবচেয়ে ভালো উপায় আপনার চামড়ার দিকে নজর দেয়া। যদি ত্বক ভীষণ শুষ্ক হয় তবে বুঝবেন শরীরে ব্যাপক হারে কমে গিয়েছে ভিটামিন ডি। ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই প্রয়োজন এই ভিটামিন। অনেকেই ভাবেন, শুধু ভিটামিন ই-তেই ত্বকের পরিচর্যা সম্ভব। কিন্তু ভিটামিন ডি এর অভাবে ত্বক একেবারে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
ভিটামিন ডি এর অভাবে ব্রণের পরিমাণও বাড়ে। মুখে বলিরেখা পড়তে শুরু করে। তাই হাড়, দাঁত, ব্যথা এবং ত্বকের যতœ নিতে ভিটামিন ডি খুবই প্রয়োজনীয়। এক ঝলকে দেখে নিন কোন কোন খাবারে পাবেন ভিটামিন ডি-
বিভিন্ন মাছে রয়েছে ভিটামিন ডি। বিশেষ করে চর্বিযুক্ত মাছ, যেমন, স্যামন, সার্ডিন, টুনা, ম্যাকেরেল ইত্যাদি। মাশরুমে রয়েছে ভিটামিন ডি।
ডিমে হালকা পরিমাণ ভিটামিন ডি রয়েছে। তবে যাদের উচ্চ রক্তচাপ এবং উচ্চ কোলেস্টেরল রয়েছে, তাদের ডিমের কুসুম খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। কলিজা, দুধেও রয়েছে এই ভিটামিন। তাই ভিটামিন ডি এর চাহিদা পূরণে এসব খাবার নিয়মিত পাতে রাখার চেষ্টা করুন। প্রতিদিন অন্তত পনের মিনিট রোদে বসতে পারলে সবচেয়ে বেশি উপকার মিলবে।