আন্দোলনমুখি হচ্ছে ইসলামি দলগুলো

7

নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘদিন চুপ থাকলেও আবার মাঠে নামতে পারে হেফাজতে ইসলাম। নতুন শিক্ষাক্রম (কারিকুলাম) সংশোধন এবং ধর্মীয় বিবেচনায় ‘সাংঘর্ষিক’ বিষয়গুলো বাদ দেওয়ার দাবিতে আগামীকাল মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করবে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। এছাড়া একই ইস্যুতে আরও কয়েকটি ইসলামি দলও সক্রিয় রয়েছে। পাঠ্যপুস্তক সংশোধনের দাবি না মানলে সম্মিলিত আন্দোলনের মতো বড় কর্মসূচি ঘোষণা আসতে পারে।
প্রাথমিকভাবে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করবে হেফাজতে ইসলাম। এরপর শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবী এবং শীর্ষ ওলামা, মাশায়েখদের নিয়ে জাতীয় শিক্ষা সেমিনার আয়োজন করা হবে। সেখান থেকে সরকারের কাছে দাবিগুলো উপস্থাপন করা হবে। তারপরও দাবি না মানলে বড় আন্দোলন কর্মসূচির দিকে যেতে পারে এ সংগঠনটি।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব সাজিদুর রহমান জানান, ট্রান্সজেন্ডার মতবাদ ঈমান বিধ্বংসী অভিশপ্ত এক মতবাদ। এই মতবাদ কোনভাবেই এ দেশে বাস্তবায়ন করতে দেওয়া যাবে না। আমরা এ দেশে ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তির অধিকার সুরক্ষা আইন ২০২৩ (খসড়া) প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে বিরত থাকতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। আমরা দাবি আদায়ে ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি দিব।
স¤প্রতি সপ্তম শ্রেণির ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞান বইয়ের একটি অধ্যায়ে ‘শরীফার গল্প’ শিরোনামের লেখা কেন্দ্র করে নতুন শিক্ষাক্রমের সমালোচনায় মুখর হয়েছেন ইসলামী দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এই বিষয়কে প্রত্যাখ্যান করে বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি আলোচনা সভা ও সেমিনার অব্যাহত রয়েছে।
দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আখ্যা দিয়ে নতুন শিক্ষাক্রম (কারিকুলাম) বাতিলের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই তারা বেশ সরব। এ ইস্যুতে এরই মধ্যেই সভা, সমাবেশ, মতবিনিময় ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বিভিন্ন দল।
এরই মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করেছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আগামী বৃহস্পতিবার রাজধানীতে সেমিনার করবে দলটি। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য দলও এ ইস্যুতে কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে চায়।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ইসলামী দল আছে ১১টি। এরমধ্যে দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন বর্জন করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। এছাড়া নিবন্ধন বাতিল হওয়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও নির্বাচনে যায়নি। তবে নির্বাচনের পরও এসব দল সরকারের পদত্যাগ ও সংসদ বাতিল করে ফের নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।