আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় অটোমেশনে যেতে চায় বিপিসি

45

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও হ্রাসের প্রভাব পড়ে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) ওপর। দাম উঠানামার কারণে এ প্রতিষ্ঠানকে কখনও লোকসান গুনতে হয়, আবার কখনও দেখা মেলে লাভের। কিন্তু লাভ বা লোকসান কোনটাই গুনতে চায় না বিপিসি। প্রতিষ্ঠানটি চায় আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে নিয়মিত জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করতে। এ জন্য অটোমেশন পদ্ধতির দিকে এগোতে চাইছে বিপিসি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাধারণত আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়মিত উঠানামা করে। তবে দেশীয় বাজারে এর প্রভাব পড়ে না। আন্তর্জাতিক বাজারে যে দরেই থাকুক, দেশীয় বাজারে নির্ধারিত দরেই বিক্রি হয় জ্বালানি তেল। এতে বিপিসিকে সব সময় থাকতে হয় অনিশ্চয়তার মধ্যে। এ অনিশ্চয়তা দূর করতে জ্বালানি তেল বিক্রির কার্যক্রম পুরোটাই অটোমেশনে আনার চিন্তা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয় করে নিয়মিত জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।
বিপিসির ওয়েবসাইটে নিয়মিত হালনাগাদ তথ্য থাকবে। হালনাগাদ দরে জ্বালানি তেল বিক্রি করতে বাধ্য থাকবে ফিলিং স্টেশনগুলো। তাছাড়া ফিলিং স্টেশনগুলোতে একটি ডিজিটাল বোর্ডে নির্ধারিত মূল্য লেখা থাকবে। এ মূল্য দেখেই ক্রেতারা জ্বালানি তেল কিনতে পারবেন। ডলারের দামের মতো নিয়মিত এ দামও উঠানামা করতে পারে। আবার কয়েকদিন বা কয়েক মাসেও পরিবর্তন হতে পারে।
বিপিসির মহাব্যবস্থাপক (ফাইন্যান্স) মনি লাল দাশ পূর্বদেশকে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম উঠানামার কারণে বিপিসির কখনও লোকসান হয়, আবার কখনও লাভ হয়। জ্বালানি তেল থেকে বিপিসি লাভ বা লোকসান কোনটাই দেওয়ার পক্ষে না। আমরা অটোমেশনের চিন্তা করছি। আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে দেশীয় বাজারের দাম সব সময় আপডেট হবে। এটা করতে গেলে কী ধরনের প্রভাব পড়বে, সেটা চিন্তা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, অটোমেশন হলে তখন বিপিসির ওয়েবসাইটে তথ্য দেওয়া হবে। সেটা ফিলিং স্টেশন অনুসরণ করবে। দাম দেখতে ক্রেতাদের জন্য ফিলিং স্টেশনে একটা বোর্ড থাকবে। তাছাড়া বিপিসির ওয়েবসাইটে গিয়েও যে কেউ দাম দেখতে পারবেন। আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে এটা নিয়মিত উঠানামা করবে।
আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে নিয়মিত দাম সমন্বয় করতে গেলে বেশকিছু সমস্যায় পড়তে হতে পারে বিপিসিকে। এসব সমস্যার মধ্যে পরিবহন সেক্টরের অরাজকতাকে বড় করে দেখা হচ্ছে। জ্বালানি তেলের দামের সাথে দেশের পরিবহন সেক্টরের বড় ধরনের সংযোগ রয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম নিয়মিত উঠানামা করলে পরিবহন ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি হতে পারে। আবার নিয়মিত দাম হালনাগাদ করা হলে ফিলিং স্টেশন মালিকরা নানা ধরনের প্রতারণার আশ্রয় নিতে পারে। এসব সমস্যাগুলো কীভাবে ঠেকানো যায়, সেটা নিয়ে চিন্তা করছে বিপিসি। সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে এর সমাধান বের করতে পারলে তবেই অটোমেশন কার্যক্রমে হাত দিবে প্রতিষ্ঠানটি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিপিসির এক কর্মকর্তা বলেন, অটোমেশনের সুবিধা ও অসুবিধা দুটোই আছে। আমাদের দেশে তেলের দাম দুই টাকা বাড়লে গাড়ি ভাড়াও বেড়ে যায়। আবার দাম কমলে ভাড়া কমে না। এমন হলে পরিবহন সেক্টরে অরাজকতা তৈরির আশঙ্কা থাকে। আবার আন্তর্জাতিক বাজারের দিকে নজর দিয়ে ফিলিং স্টেশনের মালিকরা বেশি লাভের আশায় তেল জমিয়ে রাখতে পারে। এতে বাজারে বিরূপ পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। সবগুলো বিষয় বিবেচনা করেই অটোমেশনের কার্যক্রমে হাত দেওয়া হবে। সমস্যাগুলো মোকাবেলা করার মতো সামর্থ তৈরি না হলে অটোমেশনে যাওয়া হবে না।
দেশে ডিজেল, ফার্নেস অয়েল, পেট্রোল, অকটেন, জেট ফুয়েল ও কেরোসিন এই ছয় ধরনের জ্বালানি ব্যবহার হচ্ছে। তাছাড়াও এলডিও, জেবিও, লুব, এলপিজি, বিটুমিন, এমটিটি, এসবিপি এসব তেল আমদানি ও বিক্রি করে করে থাকে। বর্তমানে দেশে পরিশোধিত ও অপরিশোধিত মিলে মোট জ্বালানি তেলের চাহিদা ৫৫ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে দেশের একমাত্র তেল শোধানাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন ক্ষমতা হচ্ছে ১৪ লাখ মেট্রিক টন। বাকি চাহিদা পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয়। বর্তমানে দেশের বাজারে লিটার প্রতি পেট্রোল ৮৬ টাকা, অকটেন ৮৯ টাকা এবং কেরোসিন ও ডিজেল ৬৫ টাকা। এ ছাড়া লিটার প্রতি ফার্নেস অয়েলের মূল্য ৪২ টাকা।