আনন্দদায়ক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চন্দ্রঘোনা রাইজিং সান কেজি এন্ড হাইস্কুল

41

শিক্ষার প্রতিশ্রুতি পূরণে প্রতিষ্ঠার ২১ বছর পরও লক্ষ থেকে বিন্দুমাত্র পিছপা হয়নি চন্দ্রঘোনা রাইজিং সান কেজি এন্ড হাই স্কুল । গতানুগতিক শিক্ষা ব্যবস্থার বাইরে যুগোপযোগি একটি বিজ্ঞানভিত্তিক মেধানির্ভর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে দিন দিন এলাকায় সাধারণ মানুষের কাছে স্কুলটির গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। মেধাবী শিক্ষক- শিক্ষকা দিয়ে স্কুলের শিক্ষার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। স্কুলের লেখা পড়া অন্যান্য স্কুলের চেয়ে ব্যতিক্রম নেই বলে জানান।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়নে একটি মাত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। জনবহুল ও বাণিজ্যিক এলাকা হওয়ায় এখানে গড়ে উঠেনি একাধিক উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল। চন্দ্রঘোনা বনগ্রাম এলাকার ছেলে-মেয়েরা এক সময় ২ কিলোমিটার দূরে চন্দ্রঘোনা আদর্শ বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার জন্য যেত। ওই সময়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল খারাপ। এলাকার অনেক ছেলে-মেয়ে সেই সময়ে স্কুল দূরে হওয়ার কারণে লেখাপড়া করা থেকে বঞ্চিত ছিল। যে কারণে প্রথম বারের মত ১৯৯৮ সালে মরহুম হাজী আব্দুল জলিল কন্ট্রাক্টরের জায়গায় লিচুবাগানে স্থাপন করা হয় চন্দ্রঘোনা রাইজিং সান কেজি এন্ড হাই স্কুল। শিক্ষাকে পণ্য বা ব্যবসা মনে না করে সম্পূর্ণ নিজেদের স্বার্থ উর্ধ্বে রেখে শিক্ষার ফেরিওয়ালা হয়ে কয়েকজন মিলে এলাকার শিক্ষাকে উন্নত শিখরে নিয়ে যাওয়ার লক্ষে এ স্কুলটির সৃষ্টি। শিক্ষাবান্ধব কিছু স্বপ্নবাজ লোকেরা মিলে নান্দনিক পরিবেশে এই কেজি স্কুলের মেধানির্ভর শিক্ষা এলাকায় ছড়িয়ে দেয়। প্রতি বছর জেএসসি এবং পিএসসিতে পাশের হার শতভাগ। এ ধারবাহিকতা এ স্কুলটি অব্যাহত রেখেছে। স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রমের সুনাম সমগ্র উপজেলায় ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষিকা ও স্কুল পরিচালনা কমিটির অন্যতম সদস্যা অধ্যাপিকা সুলতানা রাজিয়া জানান, শিক্ষাবান্ধব পরিবেশে অভিজ্ঞ ও মেধাবী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সমন্বয়ে এখানে পাঠদান করায় আধুনিক শিক্ষার বাতিঘর হিসেবে এলাকায় অভিভাবকদের স্বীকৃতি পেয়েছে অনেক আগেই। রাঙ্গুনিয়ার বাণিজ্যিক এলাকা চন্দ্রঘোনা লিচুবাগানের চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের বনগ্রাম কুষ্ট হাসপাতালের সামনে ২০১৭ সালে পুরাতন ক্যাম্পাস ছেড়ে ৪র্থ তলা বিশিষ্টি নান্দনিক ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম নব উদ্যামে শুরু করে। এ স্কুল ঘিরে অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। যাতে উপজেলার শিক্ষার শ্রেষ্ঠ বাতিঘর হিসেবে সুনাম অর্জন করতে পারে।
যেখানে প্রথম শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৬শত শিক্ষার্থী পড়ালেখা করে। যেখানে শিক্ষার্থীদের শ্রেণির পাঠদান কার্যক্রম শিক্ষকের নিবিড় পরিচর্যায় শ্রেণিতেই আদায় করা হয়। ফলে বাড়ির কাজের বাড়তি চাপমুক্ত থাকে শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার মনোরম পরিবেশে শিক্ষার পর্যাপ্ত উপকরণ, বিজ্ঞানাগার, কম্পিউটার ল্যাব, প্রজেক্টরে ¯øাইড-শো দিয়ে পাঠকে আনন্দদায়ক করার ব্যবস্থা সহ শিক্ষার যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা বিদ্যালয়টিতে বিদ্যমান রয়েছে। এছাড়াও খেলাধুলা,সাংস্কৃতিক কর্মকাÐ, বার্ষিক শিক্ষা সফর, উপজেলাভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সহ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে থাকে।
অভিভাবক মাসুদ, মোহাম্মদ এনাম, মো.তছলিম, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আবদুল আজিজ বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম অত্যন্ত সন্তোষজনক। বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ইয়াছমিন আক্তার জানান, স্কুলে শিক্ষা কার্যক্রমে আমরা ছাত্র ছাত্রীদের চাপমুক্ত রাখি। এতে ছাত্র ছাত্রীরা পড়া লেখাকে বোঝা মনে করেনা।
বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান ডাক্তার বিকে দেওয়ানজী বলেন, এই বিদ্যালয়কে ঘিরে অনেক স্বপ্ন ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। সকলের সহযোগিতা পেলে বিদ্যালয়কে কলেজে উন্নীত করব।
উপজেলার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন বলেন, উপজেলায় ১৫৪টি কেজি স্কুলের মধ্যে মেধানির্ভর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে অনেক আগে সুনাম অর্জন করেছে রাইজিং সান কেজি এন্ড হাই স্কুল।