আদালতের হাতেই থাকল প্রবাসী স্বামীর পাসপোর্ট

3

নিজস্ব প্রতিবেদক

যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারধরের মামলায় জামিনের শর্তপূরণ না করায় প্রবাসী স্বামীর পাসপোর্ট ফেরত দেননি আদালত। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জামিউল হায়দার গতকাল বুধবার এ আদেশ দিয়েছেন। এ প্রবাসীর নাম জগন্নাথ দাশ (৩০)।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৩ ডিসেম্বর হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুসারে কাট্টলীর মাধবী দাশ জয়শ্রীর সাথে সীতাকুন্ড উপজেলার জগন্নাথের বিয়ে হয়। স্বামী বিদেশ চলে যাওয়ার পর মামলার অন্যান্য আসামিরা জয়শ্রীর উপর নির্যাতন শুরু করেন। একইসাথে ২ লাখ টাকার যৌতুক দাবি করেন আসামিরা। এরই প্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ৩ নভেম্বর সকালে জগন্নাথ স্ত্রীর কাছে ২ লাখ টাকা দাবি করেন ব্যবসার কথা বলে। স্ত্রী যৌতুক দিতে অস্বীকার করায় তাকে মারধর করে যখমের অভিযোগ করা হয় মামলার আরজিতে। এ ঘটনায় আহত বাদীনী চমেক হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। সুস্থ হয়ে থানায় মামলা করতে গেলে সীতাকুন্ড থানা কর্তৃপক্ষ আদালতে মামলা করার পরামর্শ দেয়। এরই প্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ৬ নভেম্বর জয়শ্রী বাদী হয়ে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন, সাধনা বালা দাশ,নয়ন দাশ ও নমিতা দাশ। পরে তারা জয়শ্রীর সাথে আপোষের স্বার্থে আদালত থেকে জামিন লাভ করেন। এক্ষেত্রে প্রবাসী স্বামীর পাসপোর্ট আদালতের কাছে জমা দেয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে এ নিয়ে কোনো আপোষ মীমাংসা হয়নি। এ অবস্থায় আদালতের কাছে পাসপোর্ট ফেরতের আবেদন করার পর গতকাল এ নিয়ে বিস্তারিত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে বিচারক এ প্রবাসীর পাসপোর্ট ফেরত না দেয়ার আদেশ দিয়েছেন বলে জানান বাদীপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট এস এম সিরাজুদ্দেীলাহ।
এ বিষয়ে তিনি জানান, আসামি জগন্নাথের জব্দ থাকা পাসপোর্ট ফেরত চেয়ে আদালতের কাছে আবেদন করা হয়। এ নিয়ে উভয়পক্ষে শুনানি শেষে বিচারক পাসপোর্ট ফেরত না দেয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান আদালতে। ফলে এ প্রবাসীর পাসর্পোট আদালতের কাস্টডিতেই থাকছে।