আত্মত্যাগ বনাম ভালো থাকা

19

অঞ্জনা চৌধুরী

জীবনে ভালো থাকার জন্য সেক্রিফাইস বিষয়টা ভীষণ জরুরি। আপনার আশেপাশের মানুষগুলোর দিকে তাকান, সেখানে গুটিকয়েক মানুষ খুঁজে পাবেন যারা আপনার ইচ্ছেকে প্রাধান্য দিচ্ছে। আপনি ঠিক যেমন করে চান তেমন করেই আপনার সামনে হাজির হবে এমন মানুষের সংখ্যা নেহাতই কম। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নিজের ইচ্ছেগুলোকে জলাঞ্জলি দেই আমরা অন্যের মুখে হাসি ফুটানোর জন্য, দিনশেষে আপসোসের যাতাকলে পিষ্ঠ হয় আমাদের সুপ্ত ইচ্ছেগুলো।
পরিবার, অফিস কিংবা কোন পাবলিক প্লেসে আপনি যতোবেশি আপনার কষ্টটাকে ছোট করে দেখবেন আপনি ততো বেশি সমাদৃত হবেন। চট করে অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে আপনি অনেকের চক্ষুশূল হবেন, মুখরা বলে নিন্দিত হবেন, বরং তা না করে হ্যাঁ তে হ্যাঁ কিংবা না তে না মিলালেই আপনি ঝামেলামুক্ত থাকবেন।
সেক্ষেত্রে সারভাইভ করতে সুবিধা হলেও অন্যায়ের প্রতিবাদকারী লোকটা ঠিকই মানসিক পীড়নে পীড়িত হবেন। কষ্ট হলেও নিজে ভালো থাকার জন্য, পরিবেশটা বসবাসযোগ্য রাখার জন্য কিছুটা ছাড় তো দিতেই হবে। সাথে সাথে প্রতিবাদ না করে একটু সময় নিয়ে বুঝিয়ে বলুন দেখবেন আশানরূপ ফল না আসলেও তার কাছাকাছি কিছু একটা পাবেন। অবসরে কথাচ্ছলে প্রিয়মানুষগুলোর ভালোলাগা, মন্দলাগা জানতে চেষ্টা করুন, সাথে আপনার গুলোও তাদের জানান। অন্যের কান্নার কারণ না হয়ে দিনশেষে কারো ঠোঁটের কোনের এক টুকরো হাসি হওয়ার কথা ভাবুন, দেখবেন মনে প্রশান্তি পাবেন। ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে মানুষ। সীমিত এই সময়ে আমি মরে যাওয়ার পর কয়জন মানুষ আমার জন্য কান্না করবে তাদের সংখ্যাই না হয় বাড়িয়ে যাই। অহমিকা, রাগ, ক্ষোভগুলো মুঠোয় ভরে বিসর্জন দেই ভালোবাসার কোন এক নদীতে। ‘ভালো থাকি এবং ভালো রাখি’।