আজ ৬০ গ্রামে পালন হবে ঈদুল আজহা

5

মো. শাহাদাত হোসেন, চন্দনাইশ

আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশস্থ জাহাঁগিরিয়া শাহ্সুফি মমতাজিয়া দরবার শরীফ ও সাতকানিয়া মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করবেন। দক্ষিণ চট্টগ্রামের ৬০ গ্রামসহ সারাদেশে সহস্রাধিক গ্রামে আজ ঈদ পালন করা হবে।
এ দুই দরবার শরীফের অনুসারীরা হানাফি মাজহাবের মতে বিশ্বের যে কোনো দেশে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে প্রায় দুইশত বছর আগে থেকেই ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহাসহ সকল মুসলিম ধর্মীয় রীতিনীতি পালন করে আসছেন। আজ মঙ্গলবার সকাল ৮ টায় জাহাঁগিরিয়া শাহ্সুফি মমতাজিয়া দরবার শরীফ ও সাতকানিয়া মির্জাখীল দরবার শরীফ মাঠ প্রাঙ্গণে ঈদের প্রধান জামায়াত অনুষ্ঠিত হবে। জাহাঁগিরিয়া শাহ্সুফি মমতাজিয়া দরবার শরীফ মাঠে ঈদ জামাতে ইমামতি করবেন দরবার শরীফের পীর মাওলানা হযরত শাহ্ছুফি সৈয়্যদ মো. আলী শাহ্ (মা.জি.আ.)। এছাড়া দরবার শরীফ পরিচালিত ‘শাহ্সুফি মমতাজিয়া ইমাম কল্যাণ সোসাইটি’র উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন জেলায় আরও দেড় শতাধিক মসজিদে ঈদুল আজহার জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
চট্টগ্রামের যে সকল স্থানে ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হবে তার মধ্যে চন্দনাইশের পশ্চিম এলাহাবাদ, কাঞ্চননগর, মাইজ পাড়া, জুনিঘোনা, আব্বাস পাড়া, দিঘিরপাড়া, কাঞ্চন নগর স্টেশন, কেন্দুয়ারপাড়া, মাঝের পাড়া, দক্ষিণ কাঞ্চননগর, খুনিয়ার পাড়া, হাশিমপুর, কেশুয়া, সাতবাড়িয়া, মোহাম্মদপুর, হারালা, বাইনজুড়ি, বরকল, বরমা, চৈধুরীপাড়া, কষাইপাড়া, ফকিরপাড়া, পটিয়ার মল্লাপাড়া, হাইদগাঁও, শ্রীমাই, কাগজিপাড়া, বিনানীহারা, শান্তিরহাট, কালারপুল, শিকলবাহা, চরকানাই, বাঁশখালীর জলদি, কালিপুর, গুনাগড়ি, গন্ডামারার মিঞ্জিরিতলা, সনুয়া, সাধনপুর, আনোয়ারার তৈলার দ্বীপ, বাথুয়া, বারখাইন, বোয়ালখালির চরণদ্বীপ, খরণদ্বীপ, লোহাগাড়ার আমিরাবাদ, চুনতি, বরহাতিয়া, পুটিবিলা, উত্তর সুখছড়ি, আদুনগর, সাতকানিয়ার মির্জাখিল, বাংলাবাজার, মইশামুড়া, খোয়াছপাড়া, বাজালিয়া, কাঞ্চনা, গাঠিয়াডাঙ্গা, পুরাণগর, মলেয়াবাদ, রাঙ্গুনিয়ার পদুয়া, খুরুশিয়া গ্রামসহ চট্টগ্রামের ৬০ গ্রামে ঈদুল আযহার পৃথক পৃথক জামাত অনুষ্ঠিত হবে।
এছাড়াও চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড, স›দ্বীপ, মিরসরাই, হাটহাজারী, উখিয়া, বান্দরবান, আলী কদম এলাকায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ উপজেলার জাহাঁগিরিয়া শাহ্সুুফি মমতাজিয়া দরবার শরীফের অনুসারীরা বরিশাল জেলায় ৮০ গ্রামে প্রায় ১৫ হাজারেরও বেশি পরিবার ঈদ উৎসব পালন করবে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশস্থ জাহাঁগিরিয়া শাহ্সুুফি মমতাজিয়া দরবারের দু’জন খলিফা হযরত আতিক উল্লাহ শাহ্ (র.) এবং হযরত আবুল হোসেন (র.) প্রায় ১২০ বছর পূর্ব থেকে অত্র এলাকায় তাদের পীরানে পীরের নির্দেশ ও মাজহাব মতে পৃথিবীর কোথাও চাঁদ দেখার উপর ভিত্তি করে সকল মুসলিম ধর্মীয় কার্যক্রম পালন করে আসছেন।
উল্লেখ্য, প্রায় দুইশত বছর আগে সাতকানিয়া মির্জাখিল গ্রামে হযরত মাওলানা মোখলেছুর রহমান জাহাঁগিরি (র.) হানাফী মাজহাবের ফতোয়া অনুযায়ী পৃথিবীর যে কোনো দেশে চাঁদ দেখা গেলে রোজা ও ঈদসহ সকল ধর্মীয় উৎসব পালন করার ফতোয়া দিয়েছেন। তাঁরই উত্তরসুরি হযরত মাওলানা আবদুল হাই জাহাঁগীরির অন্যতম প্রধান খলিফা চন্দনাইশ শাহ্ছুফি দরবারের পীর হযরত মাওলানা শাহ্ছুফি আমজাদ আলী (র.) মুরিদ ও অনুসারিরা একই নিয়মে সকল ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছে।