আজ খুলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মাউশির ১৯ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়ন জরুরি

3

 

শিক্ষাছাড়া কোন জাতি উন্নত হতে পারে না। প্রবাদ আছে ‘শিক্ষা জাতির মেরুদন্ড’। শিক্ষা বলতে মূলত সুশিক্ষাই লক্ষ। যে জাতি জ্ঞানে বড় সে জাতি ধনেও বড়। জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা শিক্ষা ছাড়া সম্ভব নয়। শিক্ষা বলতে আমরা প্রচলিত একাডেমিক শিক্ষাই বুঝে থাকি। প্রকৃত শিক্ষা একাডেমিক চর্চাতে সীমাবদ্ধ থাকেনা। একাডেমিক শিক্ষা জ্ঞানার্জনের স্পৃহা তৈরি করে মাত্র। প্রকৃতশিক্ষা যে, বর্তমান পরীক্ষা পদ্ধতি, সার্টিফিকেট এবং ডিগ্রির ঊর্ধ্বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমাদের বক্তব্যের পক্ষে অসংখ্য বিখ্যাত মনীষীর জীবনে উদ্ভাবন, আবিষ্কার, গবেষণা সাক্ষ্যদেবে।
বৈশ্বিক অতিমারি কোভিড-১৯ জনিত কারণে বিশ্বের বহুদেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধকল্পে আমাদের দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয় সরকার। যা দীর্ঘ দেড় বছরের বেশি সময় শিক্ষাচর্চা কেড়ে নেয় সর্বস্তরের শিক্ষার্থীর জীবন হতে। যার ফলে অনেক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনের অকালমৃত্যু ঘটেছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সরকারের পক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা ছাড়া কোন বিকল্প ছিল না। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সবসময় চেষ্টা করেছে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার কার্যক্রম বিকল্প পন্থায় চালু রাখতে। কিন্তু যে সকল পদ্ধতি অবলম্বনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের চর্চার মধ্যে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে তা শতভাগ ফলপ্রসু করাতো দূরের কথা, শতকরা ত্রিশভাগ শিক্ষার্থীও বিকল্প অনলাইন পদ্ধতির মাধ্যমে উপকৃত হয়নি। তার প্রধান কারণ আমাদের দেশে কোথাও নিরবচ্ছিন্ন অনলাইন পদ্ধতি ব্যবহারের জন্য শতভাগ বিদ্যুৎ সচল রাখা এবং শতভাগ মোবাইল নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। দেশের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর এনড্রয়েড মোবাইল সেট নেই। যে সকল শিক্ষার্থী এনড্রয়েড মোবাইল সেট পেয়েছে তারা সবাইও নেটওয়ার্ক জটিলতায় অনলাইন ক্লাসের সুফল ভোগ করতে পারেনি। সারাদেশের শতকরা ১০ভাগ শিক্ষার্থী হয়তো এর সুফল পেয়েছে। এদেশে শিক্ষার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোন বিকল্প এখনো কার্যকর করার সময় আসেনি। ৫৪৩ দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পর আজ ১২ সেপ্টেম্বর সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে। তবে নানা বাধ্যবাধকতায় আজ থেকেও স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম নিরঙ্কুশভাবে চালু হচ্ছেনা।
সার্টিফিকেট পরীক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট প্রাথমিক হতে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা মাত্র। সর্বস্তরের শিক্ষার্থীর স্বাভাবিক ক্লাস এখনো চালুর নির্দেশনা আসেনি। এতদসংক্রান্ত সবকিছু নির্ভর করছে দেশের কোভিড-১৯ পরিস্থিতি কতটুকু স্বাভাবিকের দিকে যাচ্ছে তার উপর। আমরা আশাবাদী দেশের করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি যেভাবে শনাক্ত ও মৃত্যুর হার বিবেচনায় নিম্নগামী হচ্ছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে দেশের শিক্ষা কার্যক্রমে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে। স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর সারাদেশের শিক্ষাকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক করে তুলার লক্ষে কাজ করছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার কারণে যেন করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি না হয় সে জন্যে ১৯ দফা নির্দেশনা জারি করেছে মাউশি। যা দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছেছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কঠোরভাবে এ নির্দেশনাসমূহ কার্যকর রাখতে সক্ষম হলে অবশ্যই সারা দেশের করোনা পরিস্থিতির অবনতি হবে না এমন ধারণা বিশেষজ্ঞদের। স্বাস্থ্যবিধি তথা মাস্কপরা, সেনিটাইজার ব্যবহার, ক্লাস রুমের বসার দূরত্ব মেনে চলার বিষয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকের সম্মিলিত প্রচেষ্টা জরুরি। প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং শিক্ষাকদের দায়িত্ব হবে কোন অবস্থাতে শিক্ষার্থীরা যেন দূরত্ব মানার বিষয়ে অমনোযোগী না হয় এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। অভিভাকদের উচিত তাদের সন্তানদের স্বাস্থ্যবিধি কঠোর ভাবে মেনে চলার বিষয়ে বারংবার সতর্ক করা। প্রতিবেশী দেশ ভারতে যেহেতু করোনার তৃতীয় ঢেউ চলছে সে কারণে অভিভাবকরা অনেকেই তাদের সন্তানদের নিয়ে শঙ্কিত। শঙ্কিত না হয়ে সবার উচিত সচেতনতা বৃদ্ধির উপর জোর দেয়া। আসল কথা হচ্ছে আমাদের সবাইকে মনে রাখতে হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষামন্ত্রণালয় সীমিতভাবে খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত প্রদান করলেও সর্বস্তরের শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনা এখনো সম্ভব হয়নি। যার কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রতি শিক্ষার্থীদের কঠোর গাইডলাইন মেনে চলায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। ১৮ বছরের নিচের শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় না এনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ায় অভিভাবকদের মনে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও সার্বিকভাবে স্বস্তি ফিরেছে। যাই হোক, শিক্ষাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্তকে সুফলে পরিণত করা শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের একান্ত কর্তব্য। অন্যথায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় পুনরায় বন্ধ করতে বাধ্য হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।