আগে সত্যকে জেনে নাও

18

 

সন্তানেরা বলো না – বাবা – মা আমার সঙ্গে আছেন, বলো – আমি বা আমরা বাবা – মায়ের সঙ্গে আছি। যে তোমার সত্যি জীবন সঙ্গী জানবে সে তোমার আগেই তোমার মায়ের দায়িত্ব করে ফেলেছে। তোমাকে কোনো কথাই আর বলতে হবে না, তোমার বাবা – মা-ভাই-বোনদের জন্য। এটাই তোমার জীবনের প্রকৃত ভালোবাসা, তোমার প্রকৃত অর্ধাঙ্গিনী আর তখুনি তুমি হ্যাপী। জেনো তার যতœ – ভালোবাসা তার কাছে, মায়ের যতœ-ভালোবাসা মায়ের কাছে। কানকথা শোনার আগে সত্যকে জেনে নাও।
মেয়েরা যদি তার পরিবারের কাছ থেকে ভালো শিক্ষা পায় তাহলে সেই মেয়েরা কখনোই বিয়ে করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হবে না, স্বামীকে বলার সাহস পাবে না – মা’কে পেয়ে মা..মা..হয়ে গেছো, মা এখন সব হলো। তোমার মা কোনো কথা বললে বৌ সাহস পাবে না বলতে – খবরদার, ওভাবে কথা বলবেন না। বলবে না – এই কি পেয়েছেন, কিসের ভয় দেখান। এগুলো মেয়ের মায়ের পরিবারের প্রশ্রয় আর কুশিক্ষা। তাইতো বর্তমানে এতো ডিভোর্স। আরো বেড়ে গেছে দেনমোহরের হার। একজন ভালো মনের স্বামী পাওয়ার জন্য সাধনা – আশা – স্বপ্ন নেই মেয়েদের এখন দেনমোহর অনেক করতে হবে যাতে ছাড়লেই মোটা অংকের একটা টাকা পাওয়া যাবে, মেয়ের পরিবারের এটাই লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে, আবার আর একখানে বিয়ে দেবে দেনমোহর বেশি নিয়ে….এখন বেশিভাগ ব্যবসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি বেকার ছেলেরও দেনমোহর করে পাঁচলাখ। হায়রে বন্ধন – ভালোবাসা, টাকার ওজনে তোকে মাপা হচ্ছে। আমার দেনমোহর নামমাত্র ছিল আমি করতে দেই নি কারণ আমি বিশ্বাস করি – একজন ভালো মন – স্বভাব আর কোনো রকম বাজে নেশা থাকবে না, আমাকে বুঝবে – এমন একজন জীবন সঙ্গী পাওয়াই বড় পাওয়া। অঢেল কিছু দরকার নেই।
আমি আজ যেখানে, সেটা সম্পূর্ণ আল্লাহর দয়া আর আমার স্বামীর ভালোবাসা, দুই মায়ের দোয়া-ভালোবাসা, আমার আব্বাকে ছোট বেলায় হারিয়েছি কিন্ত শ্বশুর আব্বার ভালোবাসা পেয়েছি ভীষণ – এই প্রাপ্তি আমায় আজো দাঁড়িয়ে রেখেছে। কিš‘ বড় কষ্ট আজ আমি সকলকে হারিয়েছি, চলে গেছেন না ফেরা দেশে। আমি এখন একমাত্র আল্লাহর দয়ায় এবং তার উপরে ভরসা রেখেই পথ চলি, বেঁচে আছি। গতকাল একখানে শুনলাম – মেয়েপক্ষ দেনমোহর দাবি করেছে ৪০ লক্ষ টাকা পরে বৈঠক করে ২৫ লক্ষ। ছেলে বিদেশে থাকে। এক্ষেত্রে উচিত ছিল মেয়েটিকে বিয়ে না করা। ছেলেরা আকাশ ছোঁয়া যৌতুক নিয়ে নিজেকে বিক্রি করে। এমনসব মানুষদের সঙ্গে সম্পর্ক করাই উচিত নয়। সেই মেয়ের পাওয়ার বেড়ে যায়।
মানুষ এখন মানুষ নেই। ধন-সম্পদ বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মেয়েরা নানান ফাঁদে ফেলে ছেলেদের বিয়ে করে তছনছ করে দিচ্ছে জীবন আর হাজার সুখের সংসার।
মেয়েদের বিয়ের পর শ্বশুর বাড়ি আপন হয়। করুক না তারা যা খুশি, আল্লাহর উপরে ছেড়ে দিতে হয় সবকিছু। ছোট্ট জীবন, দুদিনের দুনিয়া। ভালো এবং আদর্শগত পরিবারের মেয়েরা এই শিক্ষা পেয়েই শ্বশুরবাড়ি আসে, আর তা না হলে তারা শ্বশুর বাড়িতে ভাঙ্গন ধরায় আর একটা সময় তার নিজের ঘরটাও কোনো না কোনো কারনে ভেঙ্গে যায়। সকলের উপরে আল্লাহ এই কথাটি আমরা ভুলে যাই। ভুলে যাই চিরন্তন রীতিনীতি। অভিশাপ কেউ কাউকে দেয় না, অজান্তে যে দীর্ঘশ্বাস পরে তা খুব খারাপ। উচ্চবিত্ত – মধ্যবিত্ত – নিম্নবিত্ত যে ঘরেই হোক শান্তিময় জীবন সকলে চায়। বউদের কারনে আজ অনেক বেশি দেখা যায় বাবা – মা বৃদ্ধা আশ্রমে। নইলে বুদ্ধি করে বাহিরে ফেলে দিয়ে আসে কিংবা মেরে ফেলছে। তাই গড়ে উঠছে আবার বেওয়ারিশ আশ্রম। সন্তানেরা বাবা-মায়ের সম্পত্তি নয়, তোমার নিজের আয়ের পথ খোঁজো। নিজে প্রতিষ্ঠিত হও তবেই তুমি মানুষ।। অনেক মেয়েকে আমি দেখেছি শ্বশুর বাড়ি তো নয় নিজের স্বামীর প্রতিও মনোযোগ রাখে না, গুরুত্বই দেয় না, নিজের মা – বাবার বাড়ি নিয়ে ব্যস্ত। এরা মেয়ে নামের কলংক। আমি মনে মনে বিশ্বাস করি – মেয়েরা মায়ের ঘরে যেমন, স্বামীর ঘরেও ঠিক তেমনি লক্ষী হয়ে উঠতে হয় তবেই প্রকৃত সুখী হওয়া যায়, শান্তি থাকে ঘরে।
সময় – যুগ পাল্টে গেছে তবে সেটা সাংসারিক দিক থেকে পাল্টে গেছে অধঃপতনে। এখন চারদিকে শুধুই ভাঙ্গন। ছেলেকে বাবা – মা থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার পায়তারা। হায়রে নারী কেমন তোমরা মায়ের জাত। সারাজীবন কি তোমাদের এই রূপ – যৌবন ধরে রাখতে পারবে। যখন শুনি একটি মেয়ে ২/৩/৪ টি বিয়ে করছে, যখন শুনি বৌ রেখে পুরুষও তদ্রæপ অবাক লাগে। প্রশ্ন আসে মনে আমাদের কি পাল্টে গেছে বা কি পাল্টালো। বিবেক-বুদ্ধি, মানবিকতা-চরিত্র কোনটি পাল্টে গেছে উত্তরণের সঠিক পথে নাকি অধপতনের পথে। আমরা কি সত্যি মানুষ আছি।