আগামী মাসে শুরু ইপিজেড সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজ

55

পতেঙ্গা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে সিটি আউটার রিং রোড প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়নাধীন ইপিজেড সংযোগ সড়ক প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। ৫২ কোটি টাকার এ প্রকল্পের কাজ মে মাসের প্রথমদিকে শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সাথে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) আলাপ আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানালেন তিনি। আগামী ডিসেম্বরে প্রকল্পটির কাজ সম্পন্ন হবে। ইপিজিড কেন্দ্রিক সড়কটিতে দৈনিক ৬ হাজার যানবাহন চলাচল করে বর্তমানে। পণ্য পরিবহন ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াতে এসব গাড়ি ব্যবহৃত হয়। ইপিজেডের সাথে রিং রোডের সংযোগ সড়কটি তৈরি হলে নগরীতে যানজট অনেকাংশে কমে আসবে বলে জানান সিডিএ’র প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস। তাছাড়া ইপিজেড ও বিমানবন্দরমুখী সড়কটিও যানজটমুক্ত হবে।
সিডিএ’র তথ্য মতে, ইপিজেডের পেছন দিয়ে রিং রোডের সাথে ইপিজেডের সংযোগ সড়কটি নির্মাণ করা হবে। দুই লেনের এই সড়কটিতে যে পাশ দিয়ে ইপিজেডে গাড়ি নামবে, ঠিক তার পাশ দিয়ে রিং রোডে উঠার জন্য সড়ক নির্মিত হবে। দক্ষিণ কাট্টলী রাসমণি ঘাট থেকে পতেঙ্গার নেভাল একাডেমি পর্যন্ত ৯০ ফুট চওড়া ও সমুদ্রসমতল থেকে ৩০ ফুট উঁচু সিটি আউটার রিং রোড প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যে ৯৩ শতাংশ শেষ হয়েছে। ঠিকাদারি সংস্থা এসইএলকেএনআরজেবি প্রকল্পের কাজ করছে। এর আওতায় পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত থেকে হালিশহরের দিকে ৫ কিলোমিটারের মধ্যে সাগরে ওঠানামার জন্য জেটি সুবিধা থাকছে। এ ছাড়া ওয়াকওয়ে, বসার জন্য বেঞ্চ, নির্দিষ্ট দোকান, বাচ্চাদের খেলার জন্য পৃথক জোন,সাইকেল লেন, গ্রিন জোন ও পার্কিং সুবিধা রাখা হয়েছে। আর সাগরের পানির সরাসরি আঘাত থেকে রক্ষা করতে বেষ্টনী দেয়াল ও সিমেন্টের বøক তৈরি করা হয়।
প্রকল্প পরিচালক কাজী হাসান বিন শামস জানান, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ২০০৫ সাল থেকে পতেঙ্গা হতে ফৌজদারহাট পর্যন্ত বেড়িবাঁধ কাম আউটার রিং রোড নির্মাণের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করে। এতে শহর রক্ষাকারী বাঁধ ও একই সঙ্গে রাস্তা নির্মাণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন মাস্টারপ্ল্যানেও শহরের আউটার রিং রোডের উল্লেখ করা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালের ২৯ মার্চ একনেকে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। সে সময় প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ৮৫৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা। বাস্তবায়নের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয় ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৪ সালের ডিসেম্বর। প্রকল্প বাস্তবায়ন পর্যায়ে জমি অধিগ্রহণের পরিমাণ বৃদ্ধি, মৌজা দর বৃদ্ধি এবং স্ট্রাকচারের ক্ষতিপূরণ বাবদ ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রথম সংশোধন আনা হয়। সেখানে ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৪৯৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের জুনে বাস্তবায়নের জন্য ২০১৩ সালের ১৪ নভেম্বর প্রথম সংশোধিত প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পায়। ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর দ্বিতীয় সংশোধনে প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ হয় ২ হাজার ৪২৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা। বাস্তবায়নের সময় ধরা হয় ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ পর্যন্ত। এ পর্যায়ে প্রকল্পে যোগ হয় ১০ দশমিক ২০ কিলোমিটার বাঁধের ঢাল বরাবর সিসি বøক দ্বারা পিচিং কাজ, নির্মাণাধীন সড়কের মধ্যে সমুদ্রসংলগ্ন অংশে ওয়েভ ডিপলিসিটর ওয়াল নির্মাণ অন্তর্ভুক্তি, সড়কটি দুই থেকে চার লেনে উন্নীতকরণ ও পর্যটনশিল্পের বিকাশের জন্য সমুদ্রতীরে সৌন্দর্যবর্ধন। গেল জুনে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও গত বছরের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত একনেকের বৈঠকে ‘চিটাগাং সিটি আউটার রিং রোড (তৃতীয় সংশোধন)’ অনুমোদিত হয়েছে। এ পর্যায়ে ব্যয় বাড়ছে ১৬৫ কোটি টাকা। একই সঙ্গে প্রকল্পের সময় ছয় মাস বাড়িয়ে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ২ হাজার ৬৭৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকার খরচ করছে ২ হাজার ৩২ কোটি ৪০ লাখ ৪২ হাজার আর জাইকা ঋণ হিসেবে দিচ্ছে ৬৪৩ কোটি ৫৫ লাখ ৮ হাজার টাকা।
এদিকে নগর থেকে বিমানবন্দরগামী রোডের ওপর যানবাহনের চাপ কমাতে গত বছরের আগস্টে আউটার রিং রোডে আংশিকভাবে যান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। প্রকল্প পরিচালক কাজী হাসান বিন শামস জানান, ‘প্রকল্পের ৯৩ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।
তথ্য মতে, চট্টগ্রামে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ক্রমান্বয়ে বেড়ে চলেছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানুষ ও যানবাহনের সংখ্যাও। ক্রমবর্ধমান এ চাপ মোকাবিলা করতে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এ আউটার রিং রোড প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এ রোড চট্টগ্রাম বন্দর ও ইপিজেড কেন্দ্রিক যানবাহন ব্যবস্থাপনা করবে।
সিটি আউটার রিং রোডের প্রকল্প পরিচালক কাজী হাসান বিন শামস জানান, চট্টগ্রাম বন্দর, সিইপিজেড, কেইপিজেড ও মিরসরাইয়ের বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে এ আউটার রিং রোড। এ প্রকল্পেরই আওতায় ইপিজেড সংযোগ সড়ক প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার চেহারাই পাল্টে যাবে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ইপিজেড সংযোগ সড়ক প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। মে মাসের প্রথমদিকে কাজ শুরু হয়ে ৫২ কোটি টাকার এ প্রকল্পের কাজ আগামী ডিসেম্বর নাগাদ সম্পন্ন করার প্রস্তুতি রয়েছে সিডিএ’র।