আক্ষেপের অবসান, দীর্ঘ ৮ বছরের অপেক্ষার সেঞ্চুরি

5

নার্ভাস নাইনটিতে মোটেও বিচলিত ছিলেন না টাইগার দলপতি। তবে সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়ে একটু যেন ছটফট করছিলেন মুমিনুল হক। শরীরের ভাষায় ফুটে উঠল অস্থিরতা। মাইলফলকের দুয়ারে দাঁড়িয়ে হয়তো অনুভব করছিলেন বিশেষ কিছু। ধনাঞ্জয়া ডি সিলভাকে বেরিয়ে এসে খেলতে চেয়ে ঠিকঠাক পারলেন না। তবে বিপদও হলো না। পরের বলেই কাট শটে বাউন্ডারি মেরে মুমিনুল হক সেঞ্চুরির মাইলফলকে পৌঁছে গেলেন। বল সীমানায় পৌঁছাতেই আকাশের দিকে তাকিয়ে ছাড়লেন দীর্ঘশ্বাস। হয়তো অনেকদিন ধরে আটকে রাখা নিঃশ্বাস ছেড়ে দিয়ে হালকা হলেন এই ব্যাটসম্যান। বিদেশের মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরি বলে কথা! যে সেঞ্চুরির জন্য মুমিনুলের অপেক্ষাটা দীর্ঘ ৮ বছরের!
টেস্টে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির রেকর্ড আগে থেকেই মুমিনুলের দখলে। ১০ থেকে বেড়ে সেঞ্চুরি এবার হলো ১১টি। তবে আগের সবকটিই ছিল দেশের মাঠে। ২০১৩ সালে টেস্ট অভিষেকের পর তিন অঙ্কের জাদুকরি ছোঁয়া বিদেশের মাঠে তিনি পেলেন এই প্রথমবার।
ক্যান্ডি টেস্ট বাদে বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়কের ক্যারিয়ার ৪২ টেস্টের। ঘরের মাঠে তার ব্যাট বরাবরই চওড়া হলেও বিদেশের মাটিতে তেমনটা নয়। বিশ্বসেরাদের মত দেশের মাটিতে ৫৬.৩৯ গড়ে মুমিনুলের রান ২ হাজার ৩১২। কিন্তু ঘর থেকে বাইরের মাঠে পা ফেললেই ব্যর্থতা আষ্টেপৃষ্ঠে ধরে। ফলে ২২.৩০ গড়ে মুমিনুলের রান মাত্র ৭৩৬!
যদিও দেশের বাইরে বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানের শুরুটা ছিল বেশ ভালো। ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কাতেই প্রথম টেস্টে করেন ৫৫, পরের টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৬৪। কিন্তু সেই ধারা আর ধরে রাখতে পারেননি পরে। অবশেষে দেশের বাইরে ১৭ টেস্ট ও ৩৩ ইনিংসের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার সেঞ্চুরির আবিরে নিজেকে রাঙাতে পারলেন তিনি।
দেশের বাইরে খেলা ১৭ টেস্টের মধ্যে এশিয়ার তিন দেশ ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় মোট ৭ টেস্ট খেলেছেন মুমিনুল। ভারতে তিনটি, শ্রীলঙ্কায় তিনটি। উপমহাদেশের কন্ডিশনে রান করা কঠিন হওয়ার কথা নয়। অনেকটা হোম কন্ডিশনের মতোই ওখানকার সুবিধা। তারপরও ভারতে ৩ টেস্টে রান মাত্র ৮৩, শ্রীলঙ্কায় ৩ টেস্টে করেছেন ১৬৮। পাকিস্তানে ১ টেস্টে করেছেন ৭১। দেশের বাইরে এটাই ছিল মুমিনুলের একমাত্র হাফসেঞ্চুরি।
এই শ্রীলঙ্কাতেই রচিত হয়েছিল তার টেস্ট ক্যারিয়ারের দুঃখজনক এক অধ্যায়। ২০১৭ সালের সফরে গলের ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে আউট হন কেবল ৭ ও ৫ রান করে। তাতে জায়গা হারান বাংলাদেশের ঐতিহাসিক শততম টেস্টে। বাইরে বসে দেখেন বাংলাদেশের স্মরণীয় জয়।
এবার সেই শ্রীলঙ্কাতেই তিনি গেছেন অধিনায়ক হয়ে। কাঁধে দায়িত্ব অনেক। দলের সাম্প্রতিক বাজে পারফরম্যান্সের চাপও চেপে বসেছিল ভীষণ। তবে প্রথম ইনিংসেই যেন ছড়িয়ে দিলেন বার্তা- চ্যালেঞ্জের জবাব দিতে তিনি তৈরি, অধিনায়কত্বের ভার তার কাছে এখন উপভোগ্য।