আওয়ামী লীগ নেতা খুনে যুবলীগ নেতা ছেলেসহ গ্রেপ্তার

6

নিজস্ব প্রতিবেদক

নগরীতে প্রকাশ্য দিবালোকে ছুরিকাঘাতে আওয়ামী লীগ নেতাকে খুনের ঘটনায় জড়িত যুবলীগ কর্মী ও তার ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, চট্টগ্রামে খুন করে বাবা-ছেলে পালিয়ে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে চলে যান। সেখান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনার দুদিন পর হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত দুটি ছোরাও উদ্ধার করা হয়েছে।
গতকাল দুপুরে কিশোরগেঞ্জের ভৈরবে এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নগর পুলিশের উপ কমিশনার (পশ্চিম) জসিম উদ্দিন। গ্রেপ্তার দুজন হলেন, জসিম উদ্দিন (৫০) ও তার ছেলে মোহাম্মদ রাহাত। তাদের বাসা নগরীর পাহাড়তলী থানার সরাইপাড়া এলাকায়। জসিম যুবলীগের রাজনীতিতে জড়িত।
গত রোববার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগরীর পাহাড়তলী থানার মধ্যম সরাইপাড়ার হাজী আশরাফ আলী মাদরাসা এলাকায় ছুরিকাঘাতে খুন হন মোহাম্মদ হোসেন মান্না (৫০)। তিনি মধ্যম সরাইপাড়ার দফাদার বাড়ির বাসিন্দা এবং পাহাড়তলী ১২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আহব্বায়ক কমিটির সদস্য। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদ হোসেন মান্না ও জসিম উদ্দিন পরস্পর বন্ধু। মনোমালিন্যের জেরে রোববার বেলা পৌনে দুইটার দিকে রাস্তায় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এর মধ্যে জসিম মান্নাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। আহত মান্নাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় মান্নার স্ত্রী খালেদা আক্তার বাদী হয়ে পাহাড়তলী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলার এক নম্বর আসামি জসিম এবং তিন নম্বর আসামি তার ছেলে রাহাত।
উপ পুলিশ কমিশনার জসিম উদ্দিন বলেন, ‘হত্যাকান্ডের পরপরই জসিম ও তার ছেলে রাহাত পালিয়ে কিশোরগঞ্জে চলে যায়। ভৈরবে এক আত্মীয়ের বাসায় তারা আত্মগোপনে ছিল। সেখান থেকে দেশের বাইরে পালিয়ে যাবার পরিকল্পনা ছিল তাদের। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমরা এসব তথ্য পেয়েছি। তাদের তথ্যে হত্যাকান্ড যেখানে হয়েছে, তার পাশেই ড্রেন থেকে দুটি ছোরা উদ্ধার করা হয়েছে।’ জানতে চাইলে উপ পুলিশ কমিশনার জসিম উদ্দিন বলেন, ‘কিশোরগঞ্জ থেকে আসামিদের নিয়ে আমাদের টিম রওনা দিয়েছে। থানায় পৌঁছানোর পর তাদের আরও বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তখন কী কারণে বিরোধ এবং হত্যাকান্ড সেটি পরিষ্কার হবে।’