আওয়ামী লীগের প্রায় সব কমিটিই মেয়াদোত্তীর্ণ

70

বৃহত্তর চট্টগ্রামের সাতটি সাংগঠনিক ইউনিটসহ আওতাধীন প্রায় সব কমিটিই মেয়াদোত্তীর্ণ। আর এই মেয়াদাত্তীর্ণ কমিটি দিয়েই চলছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের চট্টগ্রামের রাজনীতি। গত শনিবার অনুষ্ঠিত বিশেষ বর্ধিত সভায় নেতাদের বক্তব্যে সংগঠনের এমন দুরাবস্থার চিত্র ফুটে উঠে। অথচ প্রতি তিন বছর পরপর কমিটি করার কথা উল্লেখ রয়েছে গঠনতন্ত্রে। সভায় ওয়ার্ড, ইউনিয়ন কমিটির বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা না দিলেও জেলা ও উপজেলা কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়টি নেতাদের বক্তব্যে প্রকাশ্যে আসে। সেপ্টেম্বরের মধ্যেই মেয়াদোত্তীর্ণ সব কমিটি নতুনভাবে করার নির্দেশনা দিয়েছেন কেন্দ্রের দায়িত্বশীল নেতারা।
জানা যায়, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দারবান, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম উত্তর, দক্ষিণ ও মহানগর কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ। এসব জেলা কমিটির আওতাধীন থানা-উপজেলার প্রায় কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও নতুনভাবে সম্মেলন করা হয়নি। কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে ঈদের পরেই এসব কমিটি নতুন করে করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতারাও আগামী সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে সব মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি নতুনভাবে করার জন্য সময় বেঁধে দিয়েছেন। তবে এ সময়ের মধ্যে আদৌ নতুন কমিটি হবে কিনা তার জন্য নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে তৃণমূলের কর্মীদের।
বর্ধিত সভায় আসা কক্সবাজার এলাকার এক নেতা বলেন, কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনে কথা দিয়ে গেলেও আদৌ কমিটি করবেন কিনা যেদিন কমিটি হবে সেদিনই বুঝা যাবে। চেয়ারে একবার বসলে সেই সহজে চেয়ার কেউ ছাড়তে চান না।
এদিকে গত শনিবার অনুষ্ঠিত বর্ধিত সভায় নেতাদের বক্তব্যেই প্রতিটি জেলা ও উপজেলার সাংগঠনিক চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রায় সব আওয়ামী লীগের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ। অনেক নেতা বক্তব্যকালে কৌশলে স্বস্ব জেলার সাংগঠনিক প্রতিবেদন দিতে চাননি। কয়েকজন নেতা ভুল তথ্যও দিয়েছেন। তবে কেন্দ্রীয় নেতারা প্রতিটি জেলা ও উপজেলার সর্বশেষ সম্মেলনের তারিখসহ জমা দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।
মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়ার আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ২০১৩ সালের ১৩ নভেম্বর কঠিন সময়ে বিএনপি-জামায়াত যখন নাশকতা চালাচ্ছে তখনই নগরে ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি করা হয়। সেসময় থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে সংগঠন পরিচালনা করে আসছি। ২০১৭ সালে ১৫ ডিসেম্বর সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী মারা গেলে মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়। জাতীয় নির্বাচনের আগে কমিটি বিলুপ্ত ও নতুন কমিটি না করার জন্য একটি সার্কুলার পেয়েছিলাম। এ সার্কুলার প্রত্যাহারে কোনও চিঠি না পাওয়ায় আমরা কমিটি গঠন থেকে বিরত থেকেছি। সিদ্ধান্ত পাওয়া মাত্র ইউনিট, ওয়ার্ড ও থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলন সম্পন্ন করে নগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন করবো।
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এমএ সালাম বলেন, ‘উত্তর জেলার আওতাধীন সাতটি উপজেলা আছে। এ উপজেলাগুলোতে সম্মেলন হয়েছে। সন্দ্বীপে ২০১১ সালে, সীতাকুন্ডে ২০১২ সালে, রাউজানে ২০১২ সালে ও ফটিকছড়িতে ২০১৬ সালে কমিটি হয়েছে। যেগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে সেগুলোতে সম্মেলন করা হবে। ঈদের পরেই সভা করে কমিটি গঠনের কার্যক্রম গ্রহণ করবো। সকল ইউনিয়নে কমিটি আছে। রাউজান ও হাটহাজারী আওয়ামী লীগের সভাপতি মারা যাওয়ায় সেখানে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম চলছে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দিয়ে। বাকিগুলোতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি আছে। ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে কমিটি আছে। তবে বেশিরভাগ কমিটি নতুন করে করতে হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কয়েকটি উপজেলায় ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে। এসব নিরসনের উদ্যোগ নেয়া হবে।’
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, আটটি সাংগঠনিক উপজেলার মধ্যে চারটির সম্মেলন করতে পেরেছি। চারটির এডহক কমিটি আছে। সেগুলোর সম্মেলন দ্রæত করবো। ৯০টি ইউনিয়ন ও ৩২০টি ওয়ার্ড আছে। প্রত্যেক ইউনিয়ন-ওয়ার্ডে সাংগঠনিক কমিটি আছে। জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি প্রায় মেয়াদোত্তীর্ণ। কেন্দ্রীয় কমিটি যখনই বলবে তখনই কমিটি করবো।
বান্দরবান আওয়ামী লীগ সভাপতি কৈ শৈহ্লা বলেন, ‘বান্দরবানে ২০১৪ সালে কমিটি হয়েছে। বর্তমান কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ। ২০১৬ সালে সকল উপজেলায় সম্মেলন হয়েছে। কয়েকটির সম্মেলন প্রক্রিয়া এখনো চলমান আছে। রুমা, থানচি ও লামা কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ। ইতোমধ্যে চারটি কমিটি বিলুপ্ত করে সম্মেলনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।’
কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যান বলেন, ‘কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়েছে ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি। এ কমিটির আওতাধীন কমিটিগুলোর মধ্যে ২০১২ সালে রামু, ২০১৩ সালে চকরিয়া, টেকনাফ, টেকনাফ পৌরসভা, চকরিয়া পৌরসভা, মাতামুহুরী, ২০১৪ সালে উখিয়া, ২০১৫ সালে কক্সবাজার সদর, কুতুবদিয়া ও ২০১৯ সালে মহেশখালী আওয়ামী লীগের কমিটি হয়েছে। আমাদের কমিটির মেয়াদ প্রায় শেষ হয়েছে। নতুন করে সম্মেলন করলে সুন্দর একটি কমিটি উপহার দিতে পারবো।’
রাঙামাটি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুছা মাতব্বর বলেন, আগে ১০টি উপজেলা, দুটি পৌরসভার সম্মেলন হয়েছে। আমি বাঘাইছড়ির সম্মেলন করেছি। তবে এসব কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ। কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপে এসব কমিটি করে দেয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।
খাগড়াছড়ি আওয়ামী লীগের সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, ‘নয়টি উপজেলা, তিনটি পৌরসভার মেয়াদ ২০১৫ সালের অক্টোবরে শেষ হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০১৭ সালে। এসব কমিটি নতুন করে করার সময় হয়েছে। কেন্দ্র সিদ্ধান্ত দিলে আমরা নতুন করে কমিটি করবো।’