আওয়ামী লীগকে চোখ রাঙাচ্ছে বিদ্রোহীরা

44

রাহুল দাশ নয়ন

সন্দ্বীপে প্রথম ধাপে অনুষ্ঠিত হওয়া ১২ ইউপির নির্বাচনে দুটিতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীকে পরাজিত করেছিলেন দুইজন বিদ্রোহী। আগামী ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইউপি নির্বাচনেও বিদ্রোহীরা চেপে ধরেছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের। এতে করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিললেও এমন ঝুঁকি নিতে নারাজ আওয়ামী লীগ। বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে বিদ্রোহী দমনে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার দিকেই ঝুঁকছেন দলটির নেতারা। ৩৮টি ইউপির মধ্যে ২৪টিতেই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন। এরমধ্যে কয়েকটিতে বিএনপি ও জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থীরাও চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া পূর্বদেশকে বলেন, ‘বিদ্রোহীরা কখনোই মনোনয়ন পাবেন না। গতবার বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করা কেউ এবার মনোনয়ন পাননি। এরপরেও কেউ বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচন করলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। দলের স্বার্থে সবার উচিত দলীয় সভানেত্রীর নেতৃত্বে গঠিত মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্ত মেনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে থাকা।’
জানা যায়, সীতাকুন্ডের সৈয়দপুর, মুরাদপুর, কুমিরা, সোনাইছড়ি, মিরসরাইয়ের করেরহাট, জোরারগঞ্জ, ধুম, ওসমানপুর, কাটাছড়া, মঘাদিয়া, মায়ানী, সাহেরখালী, হাইতকান্দি ও ইছাখালীতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে সীতাকুন্ডের বারৈয়াঢালায় স্বতন্ত্র দুইজন, বাড়বকুন্ডে একজন, বাঁশবাড়িয়ায় একজন, ভাটিয়ারীতে একজন, সলিমপুরে তিনজন, মিরসরাইয়ের হিঙ্গুলিতে একজন, দুর্গাপুরে একজন, মিরসরাইয়ে তিনজন, মিঠানালায় দুইজন, খৈয়াছড়ায় একজন, ওয়াহেদুপুরে একজন, ফটিকছড়িতে পাঁচজন, দাঁতমারায় চারজন, নারায়ণহাটে চারজন, হারুয়ালছড়িতে পাঁচজন, পাইন্দংয়ে ছয়জন, কাঞ্চননগরে একজন, লেলাংয়ে দুইজন, রোসাংগিরীতে একজন, জাফতনগরে দুইজন, ধর্মপুরে তিনজন, আবদুল্লাহপুরে একজন ও সমিতিরহাটে চারজন স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন। স্বতন্ত্র এসব প্রার্থীর মধ্যে বেশিরভাগই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী। এছাড়াও তিনটি ইউনিয়নে জাতীয় পার্টির তিন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সবমিলিয়ে ৩৮ ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন ৮৬ প্রার্থী।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান পূর্বদেশকে বলেন, ‘গত ইউপি নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা কাউকে মনোনয়ন না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র। আমরাও তাদের নাম পাঠাবো না। এরপরেও কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিব।’
চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান পূর্বদেশকে বলেন, ‘আমরা তৃণমূলের মতামত নিয়েই সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম সুপারিশ করেছি। কেন্দ্র যাচাইবাছাই করে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। এরপরেও যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী মাঠে আছেন তারা এটা অন্যায় করছেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন। দলীয় হাইকমান্ড বিদ্রোহীদের বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত দিবেন তাই আমরা করবো। তবে নির্বাচনের আগে অনেক বিদ্রোহী সরে যেতে পারেন। আমরা সেই চেষ্টাই করছি।’
আগামী ২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ধাপে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ১৩, হাটহাজারীর ১৩ ও রাউজানের ১৪ ইউপির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গত ২১ অক্টোবর থেকে মনোনয়ন বোর্ড দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করছে। আজকালের মধ্যেই চট্টগ্রামের মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে।
ইতোমধ্যে রাউজান, হাটহাজারী ও রাঙ্গুনিয়ায় বেশ কয়েকজন নেতা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। এরমধ্যে রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ায় বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকলেও হাটহাজারীতে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকতে পারে। রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ায় একক প্রার্থীরাই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করছেন।