আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়াতে হবে

37

আজ দৈনিক পূর্বদেশসহ স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকাসমূহে চট্টগ্রামের চারটি খুনের সংবাদ গুরুত্বের সাথে প্রকাশিত হয়েছে। এরমধ্যে একটি সড়ক দূর্ঘটনাজনিত। একটি পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রীর হাতে স্বামী খুন, একটি প্রেমে ব্যর্থ হয়ে প্রেমিকের আড়াই বছরের সন্তানকে ঘুম করে খুন করা অপরটি মধ্যবয়সী এক দোকান কর্মচারির লাশ উদ্ধার করা। ঘটনাগুলোর বিবরণ পড়লে এককথায় রোমহর্ষকই বলা যায়। বিশেষ করে, নগরীর কলেজিয়েট স্কুলের ৮ম শ্রেণির মেধাবি ছাত্র কাজি মাহমুদুর রহমানের সড়ক দূর্ঘটনায় নিহতের ঘটনা আমদের সড়কের নৈরাজ্যেও কথা মনে করিয়ে দেয়। প্রতিদিন জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে এ বিষয়ে প্রতিবেদন, সম্পাদকীয় ও উপ-সম্পাদকীয় প্রকাশ করা হচ্ছে প্রতিনিয়ত। বিশাল আন্দোলনও হল গত বছরের মেষের কয়েকমাস। সরকারের উদ্যোগেরও কমতি ছিল না, কিন্তু সড়কে চলন্ত গাড়িগুলোর ভয়ঙ্কর রূপ কোনভাবেই থামানো যাচ্ছে না। ফ্লাইওভারের মত একমুখী সড়কে বিপরীত দিক থেকে অটোরিকশাটি না আসলে মেধাবী মাহমুদুর রহমান আমাদেও এ সমাজে অনেকদিন হয়ত আলো জ্বালাতেন। চট্টগ্রামে দেওয়ানহাট প্লাইওভারের উঠানামার স্থানটি নিয়ে যাত্রীদেও দর্ঘিদিনের অভিযোগ রয়েছে। একইভারে বহদ্দারহাট ফ্লাইওভারের এককিলোমিটার এলাকায় উঠা-নামার স্থানটি উন্নয়ন কর্মযজ্ঞে এতোবেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে যেকোন সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে সাধারণ মানুষ। আমরা চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ব্রিজের দুইপাড়ের দূর্ঘটনার খবর প্রায় সময় পত্রিকায় দেখি। মূলত এসব জায়গায় ট্রাফিক আইন না মেনে ওভারটেক, গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ না করা এবং হেল্পার দিয়ে গাড়ি চালানোর পরিনতিই নিত্য দূর্ঘটনা ঘটছে। এছাড়া দায়িত্বশীল ট্রাফিক পুলিশ এবং বিআরটিএর ভুমিকা নিয়ে প্রশ্নতো রয়েছে। আমরা মনেকরি, এক্ষেত্রে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিটি কর্পোরেশন ও পুলিশ বিভাগ সমন্বিত উদ্যোগ নিলে আশানুরূপ ফল পাওয়া যাবে। বাকি তিনটি ঘটনা সরাসরি খুনের। বিশেষ করে, চকরিয়ায় অপহরণ করে সাবেক প্রেমিক সাহাব উদ্দিনের আড়াই বছরের অবুঝ শিশুকে মুন্নি আকতার নামক জনৈকা প্রেমিকা কর্তৃক হত্যার ঘটনা শুধু কক্সবাজারের চকরিয়া নয়, পুরো দেশের মানুষকে মর্মাহত করেছে। উদ্বিগ্ন করে তুলছে। প্রেমের পর বিয়ে করতে না পেরে অবুঝ শিশুকে হত্যাকরে নদীর চরে ফেলে দেয়ার মত প্রতিশোধ পরায়নতা ও নিষ্টুর ঘটনা কোনভাবেই ক্ষমার যোগ্য নই। সূত্র জানায়, খুনি মুন্নি আক্তারকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তৃতীয় ঘটনাটি ঘটেছে মিরসরাইএ। স্বামীর সাথে দীর্ঘদিনের বিরোধ, স্বামীর মাতলামিতে অতিষ্ট হয়ে স্ত্রী নিজ স্বামী সনাতনকে জবাই করে হত্যা করেছেন বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। হত্যাকান্ডের দরণ অত্যান্ত বর্বর ও নিষ্টুর। জঙ্গিগোষ্ঠী ানর্মৃমবাবে জবাই করে মানুষ হত্যার রীতি চালু করেছে। কিন্তু স্বামী নিজ স্ত্রীর হাতে এত নিষ্টুরভাবে হত্যাকাÐের শিকার হবে তা বাবতে গা শিউরে উঠে। পারিবারিক কলহ নেই কোথাই। দেশের সব ঘওে কোনকোনভাবে ছোটবড় কলহ থাকতে পাওে, তাই বলে এত নিষ্টুরতাকে কোনভাবে মেনে নেয়া যায় না। একইসাথে নগরীর কাজির দেউড়ির হত্যাকাÐের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করতে হবে। এ নির্মম-নিষ্টুর ঘটনাগুলোর একটিও স্বভাবিক ঘটনা নয়। সমাজের চরম অবক্ষয়ের চিত্র এসব ঘটনা। এছাড়া আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, সমাজ পতি ও অভিভাবকদের দায়িত্বশীল ভুমিকা নিয়েও প্রশ্ন আসে। সর্বত্র অসচেতনতা, অসতর্কতা ও নৈতিক অবক্ষয় সম্ভবনাময় অনেক প্রাণ অকালে ঝড়ে পড়ছে। অথবা কয়েক দশকের সুখের সংসারে ভাঙন সৃষ্টি হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে আমাদের পরিত্রাণ পেতে হবে, এজন্য উত্তরণের পথ বের করতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ভূমিকার পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। আমরা আশা করি, উপরোক্ত ঘটনাসমূহের সাথে যেসব অপরাধী জড়িত তাদের যথাযথ আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।