আইএমএফ বলেছে বাংলাদেশের অর্জন অসামান্য

3

পূর্বদেশ ডেস্ক

বাংলাদেশের অর্থনীতির হালচাল দেখে ও বুঝে ঊচ্ছসিত প্রশংসা করে গেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সফরকারী প্রতিনিধি দল বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
গতকাল শনিবার ঢাকায় এনবিআরের এক অনুষ্ঠানে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তারাও (আইএমএফ) প্রাণ খুলে, মন খুলে বলে গেছেন বাংলাদেশের যে অগ্রগতি, যে অর্জন এটা অসামান্য’।‘ভ্যাট দিবস ও ভ্যাট সপ্তাহ’ উপলক্ষে সেমিনার ও সেরা ভ্যাট দাতাদের সম্মাননা জানাতে ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
অর্থমন্ত্রী বিগত ১৪ বছরে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও সফলতার দাবির প্রমাণ দিতে গিয়ে বলেন, ক’দিন আগেও সপ্তাহ দুই আগে আইএমএফের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন। আমাদের অর্থনীতি দেখাশোনা করার জন্য অথবা আমরা অর্থনীতির কোন স্টেজে আছি তা দেখার জন্য এসেছিলেন।
সফরকালে তারা সরকারের কার্যক্রমের প্রশংসা করেছেন জানিয়ে বলেন, ‘এই যে অর্জনগুলা এক হাতে হয় না। এটা শুধুমাত্র সরকারের হাত দিয়ে বা অন্য কারও হাত নিয়ে হয় না। এটা করতে গেলে দেশটাকে এগিয়ে নিতে হলে দেশের সকল মানুষকে আমাদের সাথে নিতে হবে’।
তিনি ১৪ বছর আগের মাত্র ১০০ বিলিয়ন ডলারের মোট দেশজ উৎপাদনকে (জিডিপি) ৪৬৫ বিলিয়ন ডলারে এবং মাত্র ৬৮৬ ডলারের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৮৬৪ ডলারে উন্নীত করার তথ্য তুলে ধরেন।
মুস্তফা কামাল বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব রয়েছে যারা পিছিয়ে আছে তাদের সামনে নিয়ে যাওয়া। এজন্য সরকারকে প্রাপ্য রাজস্ব দেওয়ার আহবান জানান তিনি। খবর বাসসের
ভ্যাট দিয়ে ‘ভালো মুসলমান’ হওয়ার চেষ্টা করার কথাও বলেন তিনি। একটি হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘একজন মুসলমান তিনি নিজে পেটপুরে খেয়ে ঘুমাতে গেলেন, কিন্তু তার একজন প্রতিবেশী না খেয়ে রইলেন, তিনি কখনই একজন ভালো মুসলমান হতে পারেন না’।
ইসলামের যাকাতের শিক্ষা অনুসরণ করে সবাইকে ভ্যাট-ট্যাক্স আদায় করে দেশের দরিদ্র মানুষে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দেশের উন্নয়নে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।
এসময় কুরআন শরীফ থেকে আরেকটি উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন যে আমরা খাঁটি মুসলমান না হয়ে যেন মৃত্যুবরণ না করি’।
মন্ত্রী বলেন, ‘ইসলামে জাকাতের কথা বলা হয়েছে বহুবার। জাকাত গরীবের হক। দরিদ্র মানুষের জন্য ইসলামের এই উদ্যোগ। তবে দান করা অর্থকে এই হিসাবে নেওয়া যাবে না’।
এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনা মু. রহমাতুল মুনিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। এনবিআর সদস্য (ভ্যাট নীতি) জাকিয়া সুলতানা মূল প্রবন্ধ এবং সংস্থাটির সদস্য (ভ্যাট নিরীক্ষা) মো. সহিদুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।
জসিম উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে একটি উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হওয়ার পথে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের শিল্পনীতি, বাণিজ্য নীতি এবং কর ও রাজস্ব আহরণে জনবান্ধব কর কাঠামো তৈরি করা জরুরি।
তার অভিযোগ, বর্তমানে যারা করের আওতায় আছেন তাদেরকেই হয়রানি করা হয়। আবার সরকারেরও প্রত্যেক বছর আগের বছরের চেয়ে বেশি রাজস্বের প্রয়োজন হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আয়কর ও ভ্যাট দিতে সক্ষম ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে রাজস্ব আহরণের আওতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।
ডিজিটাল পরিচালন ব্যবস্থা, কর্মীর দক্ষতা উন্নয়ন এবং ডিজিটাল ব্যবস্থায় কর আহরণসহ সমন্বিতভাবে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে জানিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিজনেস এবং ইন্ডাস্ট্রিকে সাপোর্ট করে যাওয়াই আমাদের কাজ’।
অনুষ্ঠানে সেরা ভ্যাটদাতা হিসেবে ৯ কোম্পানির প্রতিনিধির হাতে অনুষ্ঠানে সম্মাননাপত্র ও ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়।