‘অসাম্প্রদায়িক ব্যক্তিত্ব ছিলেন দানবীর মৃদুল কান্তি দে’

70

রাউজানের পশ্চিম গুজরা গ্রামে আশালতা ডিগ্রী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা, বাংলাদেশ জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক, বিভিন্ন সংগঠনের কর্ণধার ও মঠ মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা, ইসকনের পৃষ্ঠপোষক দানবীর মৃদুল কান্তি দে-এর একটি ম্যুরাল উন্মোচন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ডীন অধ্যাপক রনজিৎ কুমার দে বলেন, দানবীর মৃদুল কান্তি দে ছিলেন একজন ক্ষণজন্মা ব্যক্তিত্ব। তিনি শুধু চৈতন্য ভাবাদর্শে উজ্জীবিত একজন ধার্মিক ব্যক্তি ছিলেন না, তিনি ছিলেন আজীবন একজন অসা¤প্রদায়িক ও সংগ্রামী মানুষ। তিনি জনহিতকর অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। আশালতা ডিগ্রী কলেজ প্রতিষ্ঠা করে তিনি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়ে গেছেন।
দি এড্কমের স্বত্বাধিকারী দীপক দত্তের পরিকল্পনায় নির্মিত আশালতা কুঞ্জে ম্যুরাল উন্মোচন অনুষ্ঠানে উন্মোচক ছিলেন ইস্কন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক শ্রীপাদ চারুচন্দ্র দাশ ব্রহ্মচারী। তিনি বলেন, দানবীর মৃদুল কান্তি ছিলেন ইসকন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান পৃষ্ঠপোষক। তিনি না হলে আজকে চট্টগ্রাম পুন্ডরীক বিদ্যানিধি স্মৃতি সংসদ এবং প্রবর্ত্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দির এত উল্লেখযোগ্যভাবে বিকশিত হতো না।
জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সুজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, মৃদুল কুমার দে এর নেতৃত্বে জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ গঠন ও আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে এ দেশের মানুষ একদিন সরকারি ছুটি ভোগ করার সুযোগ লাভ করেছে। প্রবর্ত্তক সংঘ সম্পাদক তিনকড়ি চক্রবর্তী দানবীর মৃদুল কান্তি দে কে একজন বহুমাত্রিক জনহিতৈষী অসাম্প্রদায়িক ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন। শিল্পপতি সুকুমার চৌধুরী বলেন, স্বাধীনতার পরে দানবীর মৃদুল কান্তি দে হরিনাম সংকীর্তনকে একটি গণআন্দোলনে রূপদান করেছিলেন।
দানবীর মৃদুল কান্তি দে সুহৃদ সংঘের সভাপতি ইন্দু নন্দন দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংঘের সাধারণ সম্পাদক সুবোধ কুমার দত্ত। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন দানবীর মৃদুল কান্তি দে-এর সহধর্মীনি চিত্রা রাণী দে, চট্টগ্রাম সরকারি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সুধীর বিকাশ দেব, আশালতা কলেজের অধ্যক্ষ প্রদীপ চৌধুরী, উরকিরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জব্বার সোহেল, উরকিরচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি দুলাল কান্তি বড়ুয়া, ইস্কন প্রবর্ত্তক কৃষ্ণ মন্দিরের অধ্যক্ষ শ্রীপাদ লীলারাজ ব্রহ্মচারী ও দেবব্রত দে দেবু। অনুষ্ঠানে অমল চৌধুরী উদ্বোধনী সংগীত পরিবেশন করেন। সভা শেষে সহস্রাধিক মানুষের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয় এবং পরিবারের পক্ষ থেকে বৈষ্ণবদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি